ঢাকা নিউজ

সমুদ্রের নিচের গুহায় আটকে ৪ ইতালীয়র মৃত্যু, মিলেছে মরদেহ



সমুদ্রের নিচের গুহায় আটকে ৪ ইতালীয়র মৃত্যু, মিলেছে মরদেহ
ছবি : সংগৃহীত

মালদ্বীপে সমুদ্রের নিচের গভীর গুহায় আটকে নিখোঁজ হওয়া চার ইতালীয় পর্যটকের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ভাভু আতোলের একটি ১৯৭ ফুট (প্রায় ৬০ মিটার) গভীর গুহায় স্কুবা ডাইভিং করার সময় তারা আটকা পড়েন। সোমবার (১৮ ১৮ মে) মালদ্বীপ পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহায়তায় ফিনল্যান্ডের অত্যন্ত প্রশিক্ষিত ডুবুরিরা গুহাটির সবচেয়ে গভীর অংশ থেকে তাদের মরদেহগুলো শনাক্ত করেন। এই দুর্ঘটনায় পাঁচ পর্যটক এবং তাদের বাঁচাতে গিয়ে মালদ্বীপ সেনাবাহিনীর এক ডুবুরিসহ মোট ছয়জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

নিহত পাঁচ ইতালীয় নাগরিকের পরিচয় নিশ্চিত করেছে ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাদের মধ্যে চারজন জেনোয়া বিশ্ববিদ্যালয় দলের সদস্য ছিলেন; তারা হলেন— প্রফেসর মনিকা মন্তেফেলকন, তার মেয়ে জর্জিয়া সোম্মাকাল এবং দুই গবেষক মুরিয়েল ওদ্দেনিনো ও ফেদ্রিকো গুয়ালতেইরি। অন্যজন ছিলেন বোট অপারেশন ম্যানেজার এবং ডাইভিং ইন্সট্রাক্টর জিয়ানলুকা বেনেদেত্তি, যার মরদেহ দুর্ঘটনার দিনই গুহার প্রবেশদ্বার থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল।

মালদ্বীপ সরকারের মুখপাত্র মোহাম্মদ হোসেনই শরীফ বিবিসিকে জানিয়েছেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হলেও পরিকল্পনা অনুযায়ী মঙ্গলবার দুটি এবং বুধবার বাকি দুটি মরদেহ ওপরে তুলে আনার চেষ্টা করা হবে। এর আগে গত শনিবার নিখোঁজদের খুঁজতে গিয়ে মালদ্বীপের ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের ডুবুরি মোহাম্মদ মাহুদি পানির নিচে ‘ডিকম্প্রেশন সিকনেস’-এ আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রবাল প্রাচীর ও গভীর সমুদ্রে ডুব দেওয়ার বিষয়ে হাতেকলমে শিখতে এই দলটিকে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে দুর্ঘটনার দিন সমুদ্রে উত্তাল পরিস্থিতির কারণে ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি ছিল। তাছাড়া, মালদ্বীপে বিনোদনমূলক ডাইভিংয়ের সর্বোচ্চ অনুমোদিত সীমা ৩০ মিটার হলেও তারা অনুমতি ছাড়াই প্রায় ৬০ মিটার গভীর ওই ঝুঁকিপূর্ণ গুহার ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন, যা এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬


সমুদ্রের নিচের গুহায় আটকে ৪ ইতালীয়র মৃত্যু, মিলেছে মরদেহ

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬

featured Image

মালদ্বীপে সমুদ্রের নিচের গভীর গুহায় আটকে নিখোঁজ হওয়া চার ইতালীয় পর্যটকের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ভাভু আতোলের একটি ১৯৭ ফুট (প্রায় ৬০ মিটার) গভীর গুহায় স্কুবা ডাইভিং করার সময় তারা আটকা পড়েন। সোমবার (১৮ ১৮ মে) মালদ্বীপ পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহায়তায় ফিনল্যান্ডের অত্যন্ত প্রশিক্ষিত ডুবুরিরা গুহাটির সবচেয়ে গভীর অংশ থেকে তাদের মরদেহগুলো শনাক্ত করেন। এই দুর্ঘটনায় পাঁচ পর্যটক এবং তাদের বাঁচাতে গিয়ে মালদ্বীপ সেনাবাহিনীর এক ডুবুরিসহ মোট ছয়জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

নিহত পাঁচ ইতালীয় নাগরিকের পরিচয় নিশ্চিত করেছে ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাদের মধ্যে চারজন জেনোয়া বিশ্ববিদ্যালয় দলের সদস্য ছিলেন; তারা হলেন— প্রফেসর মনিকা মন্তেফেলকন, তার মেয়ে জর্জিয়া সোম্মাকাল এবং দুই গবেষক মুরিয়েল ওদ্দেনিনো ও ফেদ্রিকো গুয়ালতেইরি। অন্যজন ছিলেন বোট অপারেশন ম্যানেজার এবং ডাইভিং ইন্সট্রাক্টর জিয়ানলুকা বেনেদেত্তি, যার মরদেহ দুর্ঘটনার দিনই গুহার প্রবেশদ্বার থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল।

মালদ্বীপ সরকারের মুখপাত্র মোহাম্মদ হোসেনই শরীফ বিবিসিকে জানিয়েছেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হলেও পরিকল্পনা অনুযায়ী মঙ্গলবার দুটি এবং বুধবার বাকি দুটি মরদেহ ওপরে তুলে আনার চেষ্টা করা হবে। এর আগে গত শনিবার নিখোঁজদের খুঁজতে গিয়ে মালদ্বীপের ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের ডুবুরি মোহাম্মদ মাহুদি পানির নিচে ‘ডিকম্প্রেশন সিকনেস’-এ আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রবাল প্রাচীর ও গভীর সমুদ্রে ডুব দেওয়ার বিষয়ে হাতেকলমে শিখতে এই দলটিকে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে দুর্ঘটনার দিন সমুদ্রে উত্তাল পরিস্থিতির কারণে ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি ছিল। তাছাড়া, মালদ্বীপে বিনোদনমূলক ডাইভিংয়ের সর্বোচ্চ অনুমোদিত সীমা ৩০ মিটার হলেও তারা অনুমতি ছাড়াই প্রায় ৬০ মিটার গভীর ওই ঝুঁকিপূর্ণ গুহার ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন, যা এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ