ঢাকা নিউজ

তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রির জেরে পেন্টাগন কর্মকর্তার চীন সফর বাতিল



তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রির জেরে পেন্টাগন কর্মকর্তার চীন সফর বাতিল
ছবি : সংগৃহীত

তাইওয়ানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ বিলিয়ন ডলারের বিশাল এক অস্ত্র প্যাকেজ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বেইজিং। আর এই বিরোধের জেরে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বা পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তা এলব্রিজ কোলবির প্রস্তাবিত চীন সফর আটকে দিয়েছে শি জিনপিং প্রশাসন। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগনের আন্ডার-সেক্রেটারি অব ডিফেন্স ফর পলিসি এলব্রিজ কোলবি আগামী গ্রীষ্মে বেইজিং সফরের বিষয়ে চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। তবে চীন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই অস্ত্র প্যাকেজ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চূড়ান্ত কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা এই সফরের অনুমোদন দিতে পারছে না। অবশ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এই প্রতিবেদনটি রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেনি এবং অফিস সময়ের বাইরে হওয়ায় পেন্টাগন ও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

এদিকে, গত সপ্তাহে বেইজিং সফর শেষ করার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তাইওয়ানের কাছে এই বিশাল অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে কিনা, তা তিনি এখনও সিদ্ধান্ত নেননি। ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর স্বশাসিত ও গণতান্ত্রিক এই দ্বীপরাষ্ট্রটির প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সমর্থন নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এরই মধ্যে গত বুধবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের আরও জানান, তিনি তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন। কোনো মার্কিন নেতার জন্য এটি একটি নজিরবিহীন পদক্ষেপ, যা বেইজিংয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ককে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। তবে দুই নেতার এই ফোনালাপের সময় এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে রয়টার্সকে জানিয়েছে একটি সূত্র।

সাধারণত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাইওয়ানের মধ্যে যেকোনো ধরনের সরাসরি যোগাযোগ বা ফোনালাপ চীনকে ক্ষুব্ধ করে, কারণ বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করে।

মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা অবশ্য মনে করিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অন্য যেকোনো প্রেসিডেন্টের চেয়ে ট্রাম্প তার আগের মেয়াদে তাইওয়ানের কাছে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছিলেন। তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ককে বরাবরই ‘অসাধারণ’ বলে আখ্যা দিয়ে আসছেন।

মার্কিন আইন অনুযায়ী, তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক সহায়তা দিতে বাধ্য ওয়াশিংটন। আর এই কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান এবং ডেমোক্রেটিক—উভয় দলের আইনপ্রণেতারাই ট্রাম্প প্রশাসনকে এই অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া সচল রাখার তাগিদ দিয়ে আসছেন। এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যেই তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র পাওয়ার বিষয়ে তারা এখনও ‘সতর্ক আশাবাদ’ বজায় রাখছেন।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রির জেরে পেন্টাগন কর্মকর্তার চীন সফর বাতিল

প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

featured Image

তাইওয়ানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ বিলিয়ন ডলারের বিশাল এক অস্ত্র প্যাকেজ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বেইজিং। আর এই বিরোধের জেরে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বা পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তা এলব্রিজ কোলবির প্রস্তাবিত চীন সফর আটকে দিয়েছে শি জিনপিং প্রশাসন। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগনের আন্ডার-সেক্রেটারি অব ডিফেন্স ফর পলিসি এলব্রিজ কোলবি আগামী গ্রীষ্মে বেইজিং সফরের বিষয়ে চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। তবে চীন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই অস্ত্র প্যাকেজ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চূড়ান্ত কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা এই সফরের অনুমোদন দিতে পারছে না। অবশ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এই প্রতিবেদনটি রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেনি এবং অফিস সময়ের বাইরে হওয়ায় পেন্টাগন ও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

এদিকে, গত সপ্তাহে বেইজিং সফর শেষ করার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তাইওয়ানের কাছে এই বিশাল অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে কিনা, তা তিনি এখনও সিদ্ধান্ত নেননি। ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর স্বশাসিত ও গণতান্ত্রিক এই দ্বীপরাষ্ট্রটির প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সমর্থন নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এরই মধ্যে গত বুধবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের আরও জানান, তিনি তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন। কোনো মার্কিন নেতার জন্য এটি একটি নজিরবিহীন পদক্ষেপ, যা বেইজিংয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ককে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। তবে দুই নেতার এই ফোনালাপের সময় এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে রয়টার্সকে জানিয়েছে একটি সূত্র।

সাধারণত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাইওয়ানের মধ্যে যেকোনো ধরনের সরাসরি যোগাযোগ বা ফোনালাপ চীনকে ক্ষুব্ধ করে, কারণ বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করে।

মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা অবশ্য মনে করিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অন্য যেকোনো প্রেসিডেন্টের চেয়ে ট্রাম্প তার আগের মেয়াদে তাইওয়ানের কাছে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছিলেন। তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ককে বরাবরই ‘অসাধারণ’ বলে আখ্যা দিয়ে আসছেন।

মার্কিন আইন অনুযায়ী, তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক সহায়তা দিতে বাধ্য ওয়াশিংটন। আর এই কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান এবং ডেমোক্রেটিক—উভয় দলের আইনপ্রণেতারাই ট্রাম্প প্রশাসনকে এই অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া সচল রাখার তাগিদ দিয়ে আসছেন। এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যেই তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র পাওয়ার বিষয়ে তারা এখনও ‘সতর্ক আশাবাদ’ বজায় রাখছেন।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ