১৯৯৬ সালে কিউবা ও ফ্লোরিডার মাঝামাঝি আকাশসীমায় দুটি বেসামরিক বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় কিউবার সাবেক নেতা রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ গঠন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় তিন দশক পর আনা এই মামলাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বুধবার প্রকাশিত অভিযোগপত্রে রাউল কাস্ত্রোসহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে চারজনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজন ছিলেন মার্কিন নাগরিক। একইসঙ্গে কিউবান-আমেরিকান সংগঠন ‘ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ’-এর মালিকানাধীন দুটি বিমান গুলি করে ভূপাতিত করার অভিযোগও রয়েছে এবং ঘটনার সময় রাউল কাস্ত্রো কিউবার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ছিলেন।
মিয়ামির ফ্রিডম টাওয়ারে এক অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ জানান, কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে বিমান ধ্বংস ও চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় পৃথক হত্যার অভিযোগ আনা হবে এবং এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। ব্ল্যাঞ্চ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাদের নাগরিকদের কখনো ভুলে যায়নি এবং ভবিষ্যতেও ভুলবে না। কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে বর্তমানে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে তিনি স্বেচ্ছায় বা অন্য কোনো উপায়ে আদালতে হাজির হবেন।
তবে কিউবা এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল অভিযোগগুলোকে ‘আইনি ভিত্তিহীন রাজনৈতিক চাল’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, কিউবা নিজেদের জলসীমায় বৈধ আত্মরক্ষার অংশ হিসেবেই ওই পদক্ষেপ নিয়েছিল এবং কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মামলা এনে মূলত ‘সামরিক আগ্রাসনকে ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা’ করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, কিউবার কমিউনিস্ট শাসনের ওপর আরও চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবেই এই মামলা সামনে আনা হয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও তেল অবরোধের কারণে কিউবায় বিদ্যুৎ সংকট ও খাদ্য ঘাটতি তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই অবস্থায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবার জনগণের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় নতুন সম্পর্কের পথ তৈরির আহ্বান জানিয়ে সামরিক নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী জিএইএসএ-কে দেশের অর্থনৈতিক সংকটের জন্য দায়ী করেন। তবে কিউবার সরকার পাল্টা অভিযোগ করে বলেছে যে যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে দেশটির জনগণের ওপর যৌথ শাস্তি চাপিয়ে দিচ্ছে।
মিয়ামিতে কিউবান নির্বাসিতদের মধ্যে এই মামলাকে ঘিরে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে এবং নিহতদের পরিবারের সদস্যরা এটিকে বিচারের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে ৯৫ বছর বয়সি কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে এই মামলা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে, যদিও কিউবা ইতোমধ্যে তাদের ‘কোনো আত্মসমর্পণ নয়’ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
১৯৯৬ সালে কিউবা ও ফ্লোরিডার মাঝামাঝি আকাশসীমায় দুটি বেসামরিক বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় কিউবার সাবেক নেতা রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ গঠন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় তিন দশক পর আনা এই মামলাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বুধবার প্রকাশিত অভিযোগপত্রে রাউল কাস্ত্রোসহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে চারজনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজন ছিলেন মার্কিন নাগরিক। একইসঙ্গে কিউবান-আমেরিকান সংগঠন ‘ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ’-এর মালিকানাধীন দুটি বিমান গুলি করে ভূপাতিত করার অভিযোগও রয়েছে এবং ঘটনার সময় রাউল কাস্ত্রো কিউবার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ছিলেন।
মিয়ামির ফ্রিডম টাওয়ারে এক অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ জানান, কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে বিমান ধ্বংস ও চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় পৃথক হত্যার অভিযোগ আনা হবে এবং এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। ব্ল্যাঞ্চ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাদের নাগরিকদের কখনো ভুলে যায়নি এবং ভবিষ্যতেও ভুলবে না। কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে বর্তমানে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে তিনি স্বেচ্ছায় বা অন্য কোনো উপায়ে আদালতে হাজির হবেন।
তবে কিউবা এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল অভিযোগগুলোকে ‘আইনি ভিত্তিহীন রাজনৈতিক চাল’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, কিউবা নিজেদের জলসীমায় বৈধ আত্মরক্ষার অংশ হিসেবেই ওই পদক্ষেপ নিয়েছিল এবং কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মামলা এনে মূলত ‘সামরিক আগ্রাসনকে ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা’ করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, কিউবার কমিউনিস্ট শাসনের ওপর আরও চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবেই এই মামলা সামনে আনা হয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও তেল অবরোধের কারণে কিউবায় বিদ্যুৎ সংকট ও খাদ্য ঘাটতি তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই অবস্থায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবার জনগণের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় নতুন সম্পর্কের পথ তৈরির আহ্বান জানিয়ে সামরিক নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী জিএইএসএ-কে দেশের অর্থনৈতিক সংকটের জন্য দায়ী করেন। তবে কিউবার সরকার পাল্টা অভিযোগ করে বলেছে যে যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে দেশটির জনগণের ওপর যৌথ শাস্তি চাপিয়ে দিচ্ছে।
মিয়ামিতে কিউবান নির্বাসিতদের মধ্যে এই মামলাকে ঘিরে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে এবং নিহতদের পরিবারের সদস্যরা এটিকে বিচারের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে ৯৫ বছর বয়সি কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে এই মামলা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে, যদিও কিউবা ইতোমধ্যে তাদের ‘কোনো আত্মসমর্পণ নয়’ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।

আপনার মতামত লিখুন