যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি সম্পাদনের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে ওঠায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। সোমবার (২৫ মে) আন্তর্জাতিক বাজারের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক ধাক্কায় ৬ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৯৭.২৮ ডলারে নেমে আসে, যা গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছিল, তবে প্রায় তিন মাস ধরে চলা এই সংঘাত অবসানের আশার আলো দেখায় মূলত জ্বালানি বাজারে এই পতন লক্ষ্য করা গেছে।
তবে তেলের দাম কমলেও বাজার বিশ্লেষকরা এখনও কিছুটা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন; কারণ চুক্তির একটি প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি হলেও হরমুজ প্রণালির অবরোধ প্রত্যাহারসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশ এখনও একমত হতে পারেনি। আইএনজি-র কমোডিটি স্ট্র্যাটেজি প্রধান ওয়ারেন প্যাটারসন জানান, এর আগেও আলোচনা মাঝপথে ভেঙে যাওয়ার নজির থাকায় বাজার এবার কিছুটা বুঝেশুনে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রণালিটি খুলে দেওয়া হলেও কাতারসহ অন্যান্য অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি অবকাঠামো মেরামত করে তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ ফিরিয়ে আনতে আরও কয়েক মাস সময় লেগে যাবে।
এদিকে অবরুদ্ধ পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে শিপিং ডেটায়, যেখানে গত শনিবার থেকে সোমবারের মধ্যে ইরাকি অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বোঝাই কয়েকটি ট্যাঙ্কার দীর্ঘ তিন মাস আটকে থাকার পর চীন, পাকিস্তান ও অন্যান্য গন্তব্যের উদ্দেশ্যে হরমুজ প্রণালি ছেড়ে গেছে। তবে ইউবিএস-এর বিশ্লেষক জিওভানি স্টাউনোভো মনে করেন, তেলের বাস্তব সরবরাহ এখনও সীমিত থাকায় বাজারকে আরও কিছু সময় পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
ভূ-রাজনৈতিক এই উত্তাপ কমার আভাসে বিশ্ব শেয়ারবাজারে চাঙ্গাভাব দেখা গেছে, যার ফলে জাপানের নিক্কেই সূচক প্রায় ৩ শতাংশ এবং ইউরোপের স্টক্স ৬০০ সূচক ০.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে; যদিও সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বাজার সরকারি ছুটির কারণে বন্ধ ছিল। অন্যদিকে সোমবার প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে মার্কিন ডলারের মান ০.৩ শতাংশ কমেছে, যার বিপরীতে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের পর সর্বোচ্চ ১.৩৫০৬ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণের দাম ১.৪৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৫৭৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি সম্পাদনের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে ওঠায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। সোমবার (২৫ মে) আন্তর্জাতিক বাজারের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক ধাক্কায় ৬ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৯৭.২৮ ডলারে নেমে আসে, যা গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছিল, তবে প্রায় তিন মাস ধরে চলা এই সংঘাত অবসানের আশার আলো দেখায় মূলত জ্বালানি বাজারে এই পতন লক্ষ্য করা গেছে।
তবে তেলের দাম কমলেও বাজার বিশ্লেষকরা এখনও কিছুটা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন; কারণ চুক্তির একটি প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি হলেও হরমুজ প্রণালির অবরোধ প্রত্যাহারসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশ এখনও একমত হতে পারেনি। আইএনজি-র কমোডিটি স্ট্র্যাটেজি প্রধান ওয়ারেন প্যাটারসন জানান, এর আগেও আলোচনা মাঝপথে ভেঙে যাওয়ার নজির থাকায় বাজার এবার কিছুটা বুঝেশুনে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রণালিটি খুলে দেওয়া হলেও কাতারসহ অন্যান্য অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি অবকাঠামো মেরামত করে তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ ফিরিয়ে আনতে আরও কয়েক মাস সময় লেগে যাবে।
এদিকে অবরুদ্ধ পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে শিপিং ডেটায়, যেখানে গত শনিবার থেকে সোমবারের মধ্যে ইরাকি অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বোঝাই কয়েকটি ট্যাঙ্কার দীর্ঘ তিন মাস আটকে থাকার পর চীন, পাকিস্তান ও অন্যান্য গন্তব্যের উদ্দেশ্যে হরমুজ প্রণালি ছেড়ে গেছে। তবে ইউবিএস-এর বিশ্লেষক জিওভানি স্টাউনোভো মনে করেন, তেলের বাস্তব সরবরাহ এখনও সীমিত থাকায় বাজারকে আরও কিছু সময় পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
ভূ-রাজনৈতিক এই উত্তাপ কমার আভাসে বিশ্ব শেয়ারবাজারে চাঙ্গাভাব দেখা গেছে, যার ফলে জাপানের নিক্কেই সূচক প্রায় ৩ শতাংশ এবং ইউরোপের স্টক্স ৬০০ সূচক ০.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে; যদিও সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বাজার সরকারি ছুটির কারণে বন্ধ ছিল। অন্যদিকে সোমবার প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে মার্কিন ডলারের মান ০.৩ শতাংশ কমেছে, যার বিপরীতে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের পর সর্বোচ্চ ১.৩৫০৬ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণের দাম ১.৪৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৫৭৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন