ঢাকা নিউজ

ইরান যুদ্ধ ও ট্রাম্পের কৌশলগত চ্যালেঞ্জ



ইরান যুদ্ধ ও ট্রাম্পের কৌশলগত চ্যালেঞ্জ
ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচনি প্রচারণায় অপ্রয়োজনীয় সামরিক অভিযানে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও, ক্ষমতা গ্রহণের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে এক যুদ্ধাবস্থায় জড়িয়ে ফেলেছেন। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর তিন মাস পর ট্রাম্পের সামরিক সাফল্যগুলো লড়াইয়ে জয় এনে দিলেও, তা দীর্ঘমেয়াদে তার পররাষ্ট্রনীতি ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের শক্ত অবস্থান, পরমাণু ইস্যুতে তেহরানের আপসহীন মনোভাব এবং দেশটির শাসনব্যবস্থা অক্ষুণ্ন থাকায় বিশ্লেষকদের মধ্যে সন্দেহ বাড়ছে যে, এই সামরিক জয়গুলোকে ট্রাম্প আদৌ একটি ভূরাজনৈতিক বিজয়ে রূপান্তর করতে পারবেন কিনা।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র 'অপারেশন এপিক ফিউরি'-তে তার সব সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতেই সব তাস রয়েছে। তবে আসন্ন নভেম্বর মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই অজনপ্রিয় যুদ্ধ শুরু করার পর যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার কারণে তিনি অভ্যন্তরীণভাবে তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সামনে এখন দুটি পথ খোলা—হয় একটি ত্রুটিপূর্ণ চুক্তি মেনে নেওয়া, না হয় সামরিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদি সংকটের ঝুঁকি নেওয়া। উপদেষ্টারা গোপনে স্বীকার করেছেন যে, ট্রাম্প ভেবেছিলেন ইরানের অভিযানটিও ভেনিজুয়েলা অভিযানের মতোই সহজ হবে, যা মূলত একটি ভুল মূল্যায়ন ছিল।

যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য ছিল—ইরানের পরমাণু অস্ত্রের পথ বন্ধ করা, আঞ্চলিক হুমকি দূর করা এবং ইরানিদের দিয়ে তাদের শাসকদের উৎখাত করা। তবে এই লক্ষ্যগুলোর একটিও পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। মারাত্মক আঘাত পাওয়ার পরও ইরানের শাসকেরা মার্কিন হামলা থেকে টিকে যাওয়া এবং হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের আংশিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারাকেই নিজেদের সাফল্য মনে করছে। উপরন্তু, মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান হামলার পরও ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত অক্ষুণ্ন রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্দেশ দিয়েছেন যে এই ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানো যাবে না।

এই যুদ্ধের কারণে মিত্র ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের আরও অবনতি হয়েছে, কারণ যুদ্ধের বিষয়ে তাদের সঙ্গে কোনো পূর্ব আলোচনা করা হয়নি। অন্যদিকে, চীন ও রাশিয়া মার্কিন সামরিক বাহিনীর সীমাবদ্ধতা এবং অস্ত্র মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো রবার্ট কাগান মনে করেন, এই যুদ্ধের ফলাফল মার্কিন মর্যাদার জন্য একটি বড় ধাক্কা হতে পারে, কারণ এখানে আগের স্থিতাবস্থায় ফেরার বা মার্কিনদের চূড়ান্ত বিজয়ের সুযোগ খুবই সীমিত।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬


ইরান যুদ্ধ ও ট্রাম্পের কৌশলগত চ্যালেঞ্জ

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬

featured Image

নির্বাচনি প্রচারণায় অপ্রয়োজনীয় সামরিক অভিযানে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও, ক্ষমতা গ্রহণের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে এক যুদ্ধাবস্থায় জড়িয়ে ফেলেছেন। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর তিন মাস পর ট্রাম্পের সামরিক সাফল্যগুলো লড়াইয়ে জয় এনে দিলেও, তা দীর্ঘমেয়াদে তার পররাষ্ট্রনীতি ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের শক্ত অবস্থান, পরমাণু ইস্যুতে তেহরানের আপসহীন মনোভাব এবং দেশটির শাসনব্যবস্থা অক্ষুণ্ন থাকায় বিশ্লেষকদের মধ্যে সন্দেহ বাড়ছে যে, এই সামরিক জয়গুলোকে ট্রাম্প আদৌ একটি ভূরাজনৈতিক বিজয়ে রূপান্তর করতে পারবেন কিনা।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র 'অপারেশন এপিক ফিউরি'-তে তার সব সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতেই সব তাস রয়েছে। তবে আসন্ন নভেম্বর মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই অজনপ্রিয় যুদ্ধ শুরু করার পর যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার কারণে তিনি অভ্যন্তরীণভাবে তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সামনে এখন দুটি পথ খোলা—হয় একটি ত্রুটিপূর্ণ চুক্তি মেনে নেওয়া, না হয় সামরিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদি সংকটের ঝুঁকি নেওয়া। উপদেষ্টারা গোপনে স্বীকার করেছেন যে, ট্রাম্প ভেবেছিলেন ইরানের অভিযানটিও ভেনিজুয়েলা অভিযানের মতোই সহজ হবে, যা মূলত একটি ভুল মূল্যায়ন ছিল।

যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য ছিল—ইরানের পরমাণু অস্ত্রের পথ বন্ধ করা, আঞ্চলিক হুমকি দূর করা এবং ইরানিদের দিয়ে তাদের শাসকদের উৎখাত করা। তবে এই লক্ষ্যগুলোর একটিও পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। মারাত্মক আঘাত পাওয়ার পরও ইরানের শাসকেরা মার্কিন হামলা থেকে টিকে যাওয়া এবং হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের আংশিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারাকেই নিজেদের সাফল্য মনে করছে। উপরন্তু, মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান হামলার পরও ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত অক্ষুণ্ন রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্দেশ দিয়েছেন যে এই ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানো যাবে না।

এই যুদ্ধের কারণে মিত্র ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের আরও অবনতি হয়েছে, কারণ যুদ্ধের বিষয়ে তাদের সঙ্গে কোনো পূর্ব আলোচনা করা হয়নি। অন্যদিকে, চীন ও রাশিয়া মার্কিন সামরিক বাহিনীর সীমাবদ্ধতা এবং অস্ত্র মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো রবার্ট কাগান মনে করেন, এই যুদ্ধের ফলাফল মার্কিন মর্যাদার জন্য একটি বড় ধাক্কা হতে পারে, কারণ এখানে আগের স্থিতাবস্থায় ফেরার বা মার্কিনদের চূড়ান্ত বিজয়ের সুযোগ খুবই সীমিত।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ