ঢাকা নিউজ

পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত প্রবীণ রাজনীতিক দবিরুল ইসলাম



পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত প্রবীণ রাজনীতিক দবিরুল ইসলাম
ছবি : সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাতবারের সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. দবিরুল ইসলামের দাফন কার্য সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (৩০ মে) বিকেলে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ মাঠে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বড়বাড়ী গ্রামে তাঁর নিজ পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

এই প্রবীণ ও প্রভাবশালী রাজনীতিকের শেষ বিদায়ের মুহূর্তে অংশ নিতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো মানুষের ঢল নামে বালিয়াডাঙ্গীতে। জানাজা শুরুর আগে দবিরুল ইসলামকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। এ সময় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার দাস ও থানার ওসি বুলবুল ইসলাম উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করেন।

জানাজায় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। জানাজা শুরুর আগে তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন নিয়ে স্মৃতিচারণামূলক বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু হায়াত নুরুন্নবী এবং জেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা আব্দুল হাকিমসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

বাবার শেষ জানাজায় অংশ নিতে দিনাজপুর কারাগার থেকে বিশেষ প্যারোলে ৭ ঘণ্টার জন্য মুক্তি পেয়ে উপস্থিত হন তাঁর ছেলে ও ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম সুজন। বাবার মরদেহের পাশে ছেলের কান্নার দৃশ্য উপস্থিত সবার মাঝে এক অত্যন্ত আবেগঘন ও শোকার্ত পরিবেশের সৃষ্টি করে। তিনি তাঁর বাবার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে সবার কাছে দোয়া চান।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দবিরুল ইসলাম ছিলেন ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের রাজনীতিতে অন্যতম এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। ১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী গ্রামে জন্ম নেওয়া এই প্রবীণ নেতা শুরুতে কমিউনিস্ট পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এরপর তিনি ঠাকুরগাঁও-২ আসন থেকে টানা সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং জাতীয় সংসদের বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বও সফলভাবে পালন করেন।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাবেক এই সংসদ সদস্য। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও রাজনৈতিক অনুসারী রেখে গেছেন। তাঁর এই চিরবিদায়ের ফলে জেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত প্রবীণ রাজনীতিক দবিরুল ইসলাম

প্রকাশের তারিখ : ৩০ মে ২০২৬

featured Image

ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাতবারের সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. দবিরুল ইসলামের দাফন কার্য সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (৩০ মে) বিকেলে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ মাঠে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বড়বাড়ী গ্রামে তাঁর নিজ পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

এই প্রবীণ ও প্রভাবশালী রাজনীতিকের শেষ বিদায়ের মুহূর্তে অংশ নিতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো মানুষের ঢল নামে বালিয়াডাঙ্গীতে। জানাজা শুরুর আগে দবিরুল ইসলামকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। এ সময় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার দাস ও থানার ওসি বুলবুল ইসলাম উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করেন।

জানাজায় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। জানাজা শুরুর আগে তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন নিয়ে স্মৃতিচারণামূলক বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু হায়াত নুরুন্নবী এবং জেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা আব্দুল হাকিমসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

বাবার শেষ জানাজায় অংশ নিতে দিনাজপুর কারাগার থেকে বিশেষ প্যারোলে ৭ ঘণ্টার জন্য মুক্তি পেয়ে উপস্থিত হন তাঁর ছেলে ও ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম সুজন। বাবার মরদেহের পাশে ছেলের কান্নার দৃশ্য উপস্থিত সবার মাঝে এক অত্যন্ত আবেগঘন ও শোকার্ত পরিবেশের সৃষ্টি করে। তিনি তাঁর বাবার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে সবার কাছে দোয়া চান।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দবিরুল ইসলাম ছিলেন ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের রাজনীতিতে অন্যতম এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। ১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী গ্রামে জন্ম নেওয়া এই প্রবীণ নেতা শুরুতে কমিউনিস্ট পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এরপর তিনি ঠাকুরগাঁও-২ আসন থেকে টানা সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং জাতীয় সংসদের বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বও সফলভাবে পালন করেন।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাবেক এই সংসদ সদস্য। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও রাজনৈতিক অনুসারী রেখে গেছেন। তাঁর এই চিরবিদায়ের ফলে জেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ