ইসলামের বিধানসমূহের মধ্যে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যার হিকমত মানুষের জ্ঞানের সীমার বাইরে থেকে যায় এবং একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর নির্দেশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মেনে নেওয়া। এমনই একটি বিশেষ বিধান হলো উটের গোশত খাওয়ার পর অজু করা, যেখানে অন্যান্য হালাল প্রাণীর গোশত খাওয়ার ক্ষেত্রে অজু আবশ্যক নয়। সহিহ হাদিসে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, উটের গোশত খাওয়ার পর অজু করতে হবে।
হজরত জাবির ইবনে সামুরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, ছাগলের গোশত খেলে কি আমি অজু করব? তিনি বললেন, ইচ্ছা করলে কর, আর ইচ্ছা করলে না কর। এরপর সে জিজ্ঞাসা করল, উটের গোশত খেলে কি আমি অজু করব? তিনি বললেন, হ্যাঁ, উটের গোশত খাওয়ার পর অজু করো। অতএব উটের যেকোনো অংশ— গোশত, চর্বি, কলিজা, নাড়িভুঁড়ি কিংবা অন্যান্য ভক্ষণযোগ্য অঙ্গ খেলে অজু করা আবশ্যক বলে একদল আলেম মত দিয়েছেন, কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) হাদিসে কোনো অংশকে এ বিধান থেকে পৃথক করেননি।
উটের গোশত খেলে অজু ভঙ্গ হওয়ার এই মতকে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.), ইমাম ইসহাক ইবনে রাহাওয়াইহ (রহ.), ইমাম বায়হাকী (রহ.), ইমাম ইবনে খুজাইমাহ (রহ.) এবং ইমাম আবু বকর ইবনে মুনযির (রহ.) সহ বহু প্রখ্যাত ইমাম ও মুহাদ্দিস গ্রহণ করেছেন। ইমাম নববী (রহ.) তাঁর মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যায় এ মতের পক্ষে আলেমদের আলোচনা উল্লেখ করেছেন।
মূলত এ বিধানের সবচেয়ে বড় কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশ হলেও আলেমগণ হাদিসের আলোকে এর কিছু হিকমতও উল্লেখ করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, উট শয়তান থেকে সৃষ্টি হয়েছে। আরেক হাদিসে এসেছে, প্রত্যেক উটের কুঁজের ওপর একটি শয়তান থাকে, তাই যখন তোমরা উটে আরোহণ করবে, তখন আল্লাহর নাম উচ্চারণ করবে। প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.)-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, উটের গোশত খাওয়ার ফলে মানুষের দেহে এক ধরনের শয়তানি প্রভাব সৃষ্টি হয় এবং অজু সেই প্রভাব দূর করে দেয়। অন্যদিকে শায়খ মুহাম্মদ ইবনে সালিহ আল-উছাইমীন (রহ.) মনে করেন, উটের গোশত মানুষের দেহে স্নায়বিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এবং অজু সেই উত্তেজনা প্রশমিত করতে সহায়তা করে।
উটের গোশত খেলে অজু ভেঙে যায়— এই মতটি মূলত হাম্বলি মাযহাব এবং অনেক মুহাদ্দিসের গ্রহণযোগ্য মত হলেও অধিকাংশ হানাফি, মালিকি ও শাফেয়ি ফকিহের মতে, উটের গোশত খেলে অজু ভঙ্গ হয় না। তারা হাদিসে বর্ণিত অজুর নির্দেশকে মুস্তাহাব বা উত্তম হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে সকল আলেম একমত যে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশের প্রতি শ্রদ্ধা ও অনুসরণের মানসিকতা মুসলমানের জন্য অপরিহার্য। উটের গোশত খাওয়ার পর অজু করার বিষয়টি ইসলামের একটি বিশেষ বিধান যা সরাসরি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত এবং এর পেছনের পূর্ণ হিকমত আল্লাহই সর্বাধিক জানেন।

রোববার, ৩১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ মে ২০২৬
ইসলামের বিধানসমূহের মধ্যে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যার হিকমত মানুষের জ্ঞানের সীমার বাইরে থেকে যায় এবং একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর নির্দেশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মেনে নেওয়া। এমনই একটি বিশেষ বিধান হলো উটের গোশত খাওয়ার পর অজু করা, যেখানে অন্যান্য হালাল প্রাণীর গোশত খাওয়ার ক্ষেত্রে অজু আবশ্যক নয়। সহিহ হাদিসে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, উটের গোশত খাওয়ার পর অজু করতে হবে।
হজরত জাবির ইবনে সামুরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, ছাগলের গোশত খেলে কি আমি অজু করব? তিনি বললেন, ইচ্ছা করলে কর, আর ইচ্ছা করলে না কর। এরপর সে জিজ্ঞাসা করল, উটের গোশত খেলে কি আমি অজু করব? তিনি বললেন, হ্যাঁ, উটের গোশত খাওয়ার পর অজু করো। অতএব উটের যেকোনো অংশ— গোশত, চর্বি, কলিজা, নাড়িভুঁড়ি কিংবা অন্যান্য ভক্ষণযোগ্য অঙ্গ খেলে অজু করা আবশ্যক বলে একদল আলেম মত দিয়েছেন, কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) হাদিসে কোনো অংশকে এ বিধান থেকে পৃথক করেননি।
উটের গোশত খেলে অজু ভঙ্গ হওয়ার এই মতকে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.), ইমাম ইসহাক ইবনে রাহাওয়াইহ (রহ.), ইমাম বায়হাকী (রহ.), ইমাম ইবনে খুজাইমাহ (রহ.) এবং ইমাম আবু বকর ইবনে মুনযির (রহ.) সহ বহু প্রখ্যাত ইমাম ও মুহাদ্দিস গ্রহণ করেছেন। ইমাম নববী (রহ.) তাঁর মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যায় এ মতের পক্ষে আলেমদের আলোচনা উল্লেখ করেছেন।
মূলত এ বিধানের সবচেয়ে বড় কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশ হলেও আলেমগণ হাদিসের আলোকে এর কিছু হিকমতও উল্লেখ করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, উট শয়তান থেকে সৃষ্টি হয়েছে। আরেক হাদিসে এসেছে, প্রত্যেক উটের কুঁজের ওপর একটি শয়তান থাকে, তাই যখন তোমরা উটে আরোহণ করবে, তখন আল্লাহর নাম উচ্চারণ করবে। প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.)-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, উটের গোশত খাওয়ার ফলে মানুষের দেহে এক ধরনের শয়তানি প্রভাব সৃষ্টি হয় এবং অজু সেই প্রভাব দূর করে দেয়। অন্যদিকে শায়খ মুহাম্মদ ইবনে সালিহ আল-উছাইমীন (রহ.) মনে করেন, উটের গোশত মানুষের দেহে স্নায়বিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এবং অজু সেই উত্তেজনা প্রশমিত করতে সহায়তা করে।
উটের গোশত খেলে অজু ভেঙে যায়— এই মতটি মূলত হাম্বলি মাযহাব এবং অনেক মুহাদ্দিসের গ্রহণযোগ্য মত হলেও অধিকাংশ হানাফি, মালিকি ও শাফেয়ি ফকিহের মতে, উটের গোশত খেলে অজু ভঙ্গ হয় না। তারা হাদিসে বর্ণিত অজুর নির্দেশকে মুস্তাহাব বা উত্তম হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে সকল আলেম একমত যে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশের প্রতি শ্রদ্ধা ও অনুসরণের মানসিকতা মুসলমানের জন্য অপরিহার্য। উটের গোশত খাওয়ার পর অজু করার বিষয়টি ইসলামের একটি বিশেষ বিধান যা সরাসরি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত এবং এর পেছনের পূর্ণ হিকমত আল্লাহই সর্বাধিক জানেন।

আপনার মতামত লিখুন