পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম মুনিরাবাদ। ওই গ্রামের কোকরাকাঠী জামে মসজিদ ও মাদ্রাসার সামনে তিনটি লাশের খাটিয়ার ওপর শুয়ে ছিল একই পরিবারের তিন সদস্য। এমন হৃদয় বিদারক দৃশ্য আগে কখনো দেখেনি গ্রামের কেউ। তিনজনই ঢাকা থেকে বাসে করে আসছিলেন গ্রামের বাড়িতে কুরবানি করতে। আর কুরবানির দিনই গোপালগঞ্জে সড়কে প্রাণ গেল একই পরিবারের তিনজনসহ আরও দুজনের। এই মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ মুনিরাবাদ গ্রাম।
নিহত তিনজন হলেন মো. সোহাগ, তার স্ত্রী খাদিজা খাতুন ও ছেলে আরমান। শুক্রবার ২৯ মে সকাল ১০টায় জানাজা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। দুর্ঘটনাটি ঘটে ২৮ মে বৃহস্পতিবার কুরবানির দিন দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বেদগ্রাম এলাকায়।
এ ঘটনা শুনে পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী রোববার ৩১ মে বিকাল ৫টার দিকে মৃত্যুব্যক্তিদের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের মুনিরাবাদ গ্রামে তাদের বাড়িতে যান। সেখানে নিহত তিনজনের পরিবারের পক্ষে একমাত্র বড় ছেলে রহমতের হাতে ২৫ হাজার করে মোট ৭৫ হাজার টাকা নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে আর্থিক সহযোগিতা করেন। একই সঙ্গে তিনি রহমতের পড়ালেখার খরচ বহন করবেন এবং পরিবারের আগামী ১ মাসের চাল-ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় খাবার প্রদানের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ প্রদান করেন।
এ সময় এমপি মাসুদ সাঈদী বলেন, নিহতের পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য ১১ বছরের শিশু সন্তান রহমতের পড়ালেখা, ভরণপোষণ ও উন্নত ভবিষ্যতের জন্য বিআরটিএ থেকে প্রত্যেকের নামে ৫ লাখ টাকা করে মোট ১৫ লাখ টাকা আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য ইতোমধ্যেই চাহিদা পত্র (ডিও লেটার) পাঠিয়েছেন এবং শীঘ্রই তারা এই সহযোগিতা পেয়ে যাবেন।
তিনি আরও বলেন, নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ, চালকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধ, সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং সর্বস্তরে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুসারে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ বিশ্বে ১৩তম আর এশিয়ায় ৭ম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদন অনুসারে বাংলাদেশে প্রতিবছর ২১ হাজার নিরপরাধ মানুষের তরতাজা প্রাণ অকালে নিভে যায়।
মাসুদ সাঈদী এমপি বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সরকারকে কঠোর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নাগরিক সচেতনতা এবং সামাজিক আন্দোলনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম, গণমাধ্যমে প্রচারণা এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সম্পৃক্ততা সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে মহাসড়কে গতিনিয়ন্ত্রণ, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান, চালকদের প্রশিক্ষণ উন্নয়ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা জরুরি। পাশাপাশি দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহ্নিতকরণ ও জনসচেতনতা বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সোহাগ নারায়ণগঞ্জ জেলার আলীগঞ্জে স’মিল শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। কুরবানির ছুটিতে বাড়ি ফিরছিলেন। তার দুই ছেলের অন্যজন নানাবাড়িতে থাকে। নিতান্ত সহজ-সরল মানুষ ছিলেন সোহাগ। একই পরিবারের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রসঙ্গত, ওই দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচজনের অন্য দুজন বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশ।
নিহতদের জন্য আর্থিক সহযোগিতা প্রদান অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নাজিরপুর উপজেলা আমীর মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. হাসানাত ডালিম, উপজেলা যুববিভাগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সেক্রেটারি জাহিদুল হক, শিবির সভাপতি মো. আবু হানিফ প্রমুখ।

সোমবার, ০১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬
পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম মুনিরাবাদ। ওই গ্রামের কোকরাকাঠী জামে মসজিদ ও মাদ্রাসার সামনে তিনটি লাশের খাটিয়ার ওপর শুয়ে ছিল একই পরিবারের তিন সদস্য। এমন হৃদয় বিদারক দৃশ্য আগে কখনো দেখেনি গ্রামের কেউ। তিনজনই ঢাকা থেকে বাসে করে আসছিলেন গ্রামের বাড়িতে কুরবানি করতে। আর কুরবানির দিনই গোপালগঞ্জে সড়কে প্রাণ গেল একই পরিবারের তিনজনসহ আরও দুজনের। এই মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ মুনিরাবাদ গ্রাম।
নিহত তিনজন হলেন মো. সোহাগ, তার স্ত্রী খাদিজা খাতুন ও ছেলে আরমান। শুক্রবার ২৯ মে সকাল ১০টায় জানাজা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। দুর্ঘটনাটি ঘটে ২৮ মে বৃহস্পতিবার কুরবানির দিন দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বেদগ্রাম এলাকায়।
এ ঘটনা শুনে পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী রোববার ৩১ মে বিকাল ৫টার দিকে মৃত্যুব্যক্তিদের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের মুনিরাবাদ গ্রামে তাদের বাড়িতে যান। সেখানে নিহত তিনজনের পরিবারের পক্ষে একমাত্র বড় ছেলে রহমতের হাতে ২৫ হাজার করে মোট ৭৫ হাজার টাকা নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে আর্থিক সহযোগিতা করেন। একই সঙ্গে তিনি রহমতের পড়ালেখার খরচ বহন করবেন এবং পরিবারের আগামী ১ মাসের চাল-ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় খাবার প্রদানের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ প্রদান করেন।
এ সময় এমপি মাসুদ সাঈদী বলেন, নিহতের পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য ১১ বছরের শিশু সন্তান রহমতের পড়ালেখা, ভরণপোষণ ও উন্নত ভবিষ্যতের জন্য বিআরটিএ থেকে প্রত্যেকের নামে ৫ লাখ টাকা করে মোট ১৫ লাখ টাকা আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য ইতোমধ্যেই চাহিদা পত্র (ডিও লেটার) পাঠিয়েছেন এবং শীঘ্রই তারা এই সহযোগিতা পেয়ে যাবেন।
তিনি আরও বলেন, নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ, চালকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধ, সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং সর্বস্তরে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুসারে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ বিশ্বে ১৩তম আর এশিয়ায় ৭ম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদন অনুসারে বাংলাদেশে প্রতিবছর ২১ হাজার নিরপরাধ মানুষের তরতাজা প্রাণ অকালে নিভে যায়।
মাসুদ সাঈদী এমপি বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সরকারকে কঠোর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নাগরিক সচেতনতা এবং সামাজিক আন্দোলনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম, গণমাধ্যমে প্রচারণা এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সম্পৃক্ততা সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে মহাসড়কে গতিনিয়ন্ত্রণ, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান, চালকদের প্রশিক্ষণ উন্নয়ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা জরুরি। পাশাপাশি দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহ্নিতকরণ ও জনসচেতনতা বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সোহাগ নারায়ণগঞ্জ জেলার আলীগঞ্জে স’মিল শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। কুরবানির ছুটিতে বাড়ি ফিরছিলেন। তার দুই ছেলের অন্যজন নানাবাড়িতে থাকে। নিতান্ত সহজ-সরল মানুষ ছিলেন সোহাগ। একই পরিবারের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রসঙ্গত, ওই দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচজনের অন্য দুজন বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশ।
নিহতদের জন্য আর্থিক সহযোগিতা প্রদান অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নাজিরপুর উপজেলা আমীর মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. হাসানাত ডালিম, উপজেলা যুববিভাগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সেক্রেটারি জাহিদুল হক, শিবির সভাপতি মো. আবু হানিফ প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন