ভারত-ওমান সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির (সিইপিএ) ফলে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা ওমানের ৯৮.০৮ শতাংশ শুল্ক লাইনে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবেন, যা ভারতের মোট রপ্তানি মূল্যের ৯৯.৩৮ শতাংশকে অন্তর্ভুক্ত করে। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছেন, এই চুক্তি ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি, যা নতুন বাজার তৈরি, রপ্তানি বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে সহায়তা করবে। চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এই চুক্তি কার্যকর হলো, যা আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের বাধা তৈরি করেছে। গত বছরের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মাসকাট সফরের সময় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যা চলতি মাস থেকে কার্যকর হবে। এই বাণিজ্য চুক্তির ফলে ভারতের পণ্য রপ্তানি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রকৌশল পণ্য, ওষুধ, কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, সামুদ্রিক পণ্য, বস্ত্র, রাসায়নিক, ইলেকট্রনিকস, প্লাস্টিক, রত্ন ও গয়না খাতের জন্য বাজারে প্রবেশাধিকার আরও সহজ হবে। চুক্তির আওতায় বেশ কয়েকটি ভারতীয় পণ্য ওমানের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে, যার মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক মধু, কাজু বাদাম, হাড়বিহীন মাংস, বেকারি পণ্য, চকলেট ও চিনি জাতীয় মিষ্টান্ন, মিনারেল ওয়াটার, চিজ, দই, দুধ, ক্রিম, হিমায়িত মাছ এবং মাখন। সিইপিএ চুক্তির ফলে ভারতের প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ চর্বি ও তেল রপ্তানিও সুবিধা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যেগুলোর ওপর বর্তমানে ওমানে ৫ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক আরোপিত রয়েছে। এই চুক্তি ওমানের বাজারে ভারতের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করবে। পাশাপাশি ডিম রপ্তানির মতো খাতেও শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাওয়ায় প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়বে। পণ্য বাণিজ্যের বাইরে এই চুক্তিতে সেবা খাত ও কর্মী চলাচল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর আওতায় ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য বাড়তি চলাচলের সুবিধা দেওয়া হবে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে আন্তঃকোম্পানি স্থানান্তরিত কর্মী, চুক্তিভিত্তিক সেবা প্রদানকারী, ব্যবসায়িক সফরকারী এবং স্বাধীন পেশাজীবীদের জন্য অস্থায়ী অবস্থানের সুযোগ। এই চুক্তি এমন এক সময়ে কার্যকর হলো, যখন হরমুজ প্রণালী ঘিরে সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌ চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। এই প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ, যার মাধ্যমে বিশ্বে প্রতিদিন ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। হরমুজ প্রণালী সংকটের কারণে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ভারতে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে, ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে। তবে ওমানের ভৌগোলিক অবস্থান তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক। কারণ ওমানের অনেক উপকূলীয় এলাকা হরমুজ প্রণালীর বাইরে আরব সাগর ও ওমান উপসাগরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে সংকটকালেও দেশটি একটি বিকল্প বাণিজ্য ও জ্বালানি রুট হিসেবে কাজ করতে পারে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে ভারতের আমদানি ও রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তবে ওমান এর ব্যতিক্রম। ওমান থেকে ভারতের আমদানি প্রায় ২৪৬ শতাংশ বেড়েছে, মূলত অপরিশোধিত তেল ও ইউরিয়া কেনার কারণে। ভারতের রফতানি কিছুটা কমলেও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংকটকালীন সময়ে ওমান ভারতের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প বাণিজ্য ও জ্বালানি পথ হিসেবে কাজ করতে পারে।

বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬
ভারত-ওমান সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির (সিইপিএ) ফলে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা ওমানের ৯৮.০৮ শতাংশ শুল্ক লাইনে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবেন, যা ভারতের মোট রপ্তানি মূল্যের ৯৯.৩৮ শতাংশকে অন্তর্ভুক্ত করে। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছেন, এই চুক্তি ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি, যা নতুন বাজার তৈরি, রপ্তানি বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে সহায়তা করবে। চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এই চুক্তি কার্যকর হলো, যা আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের বাধা তৈরি করেছে। গত বছরের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মাসকাট সফরের সময় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যা চলতি মাস থেকে কার্যকর হবে। এই বাণিজ্য চুক্তির ফলে ভারতের পণ্য রপ্তানি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রকৌশল পণ্য, ওষুধ, কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, সামুদ্রিক পণ্য, বস্ত্র, রাসায়নিক, ইলেকট্রনিকস, প্লাস্টিক, রত্ন ও গয়না খাতের জন্য বাজারে প্রবেশাধিকার আরও সহজ হবে। চুক্তির আওতায় বেশ কয়েকটি ভারতীয় পণ্য ওমানের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে, যার মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক মধু, কাজু বাদাম, হাড়বিহীন মাংস, বেকারি পণ্য, চকলেট ও চিনি জাতীয় মিষ্টান্ন, মিনারেল ওয়াটার, চিজ, দই, দুধ, ক্রিম, হিমায়িত মাছ এবং মাখন। সিইপিএ চুক্তির ফলে ভারতের প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ চর্বি ও তেল রপ্তানিও সুবিধা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যেগুলোর ওপর বর্তমানে ওমানে ৫ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক আরোপিত রয়েছে। এই চুক্তি ওমানের বাজারে ভারতের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করবে। পাশাপাশি ডিম রপ্তানির মতো খাতেও শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাওয়ায় প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়বে। পণ্য বাণিজ্যের বাইরে এই চুক্তিতে সেবা খাত ও কর্মী চলাচল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর আওতায় ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য বাড়তি চলাচলের সুবিধা দেওয়া হবে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে আন্তঃকোম্পানি স্থানান্তরিত কর্মী, চুক্তিভিত্তিক সেবা প্রদানকারী, ব্যবসায়িক সফরকারী এবং স্বাধীন পেশাজীবীদের জন্য অস্থায়ী অবস্থানের সুযোগ। এই চুক্তি এমন এক সময়ে কার্যকর হলো, যখন হরমুজ প্রণালী ঘিরে সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌ চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। এই প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ, যার মাধ্যমে বিশ্বে প্রতিদিন ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। হরমুজ প্রণালী সংকটের কারণে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ভারতে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে, ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে। তবে ওমানের ভৌগোলিক অবস্থান তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক। কারণ ওমানের অনেক উপকূলীয় এলাকা হরমুজ প্রণালীর বাইরে আরব সাগর ও ওমান উপসাগরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে সংকটকালেও দেশটি একটি বিকল্প বাণিজ্য ও জ্বালানি রুট হিসেবে কাজ করতে পারে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে ভারতের আমদানি ও রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তবে ওমান এর ব্যতিক্রম। ওমান থেকে ভারতের আমদানি প্রায় ২৪৬ শতাংশ বেড়েছে, মূলত অপরিশোধিত তেল ও ইউরিয়া কেনার কারণে। ভারতের রফতানি কিছুটা কমলেও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংকটকালীন সময়ে ওমান ভারতের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প বাণিজ্য ও জ্বালানি পথ হিসেবে কাজ করতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন