কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রধান টার্মিনাল ভবনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। বুধবার (৩ জুন) এই হামলার ঘটনার পরপরই কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট স্থগিত ঘোষণা করে এবং কিছু ফ্লাইট অন্যত্র সরিয়ে নেয়। পাকিস্তান ট্রিবিউনের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।
কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাউদ আবদুলআজিজ আল-ওতাইবি জানান, একটি ‘শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন’ বিমানবন্দরের মূল যাত্রী টার্মিনালকে লক্ষ্য করে আঘাত হানে, এতে ভবনের বড় ধরনের ক্ষতি হয়। বর্তমানে কুয়েতি সশস্ত্র বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। পাশাপাশি দেশটির জেনারেল ডিরেক্টরেট অব সিভিল এভিয়েশন বিমানবন্দরে জরুরি পরিকল্পনা কার্যকর করেছে।
হামলার আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে, দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। অপরদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, কুয়েত লক্ষ্য করে ছোড়া কিছু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে ব্যর্থ হয়েছে এবং কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ও মিত্র বাহিনী যৌথভাবে ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করছে বলেও তারা জানায়।
জ্বালানি বাজারে প্রভাব: এই হামলা-পাল্টা হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।
দাবি ও পাল্টা দাবি: ইরান দাবি করেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি তেলবাহী জাহাজ ও আঞ্চলিক বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনায় সফল পাল্টা হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তাদের বেশিরভাগ লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের হামলা ব্যর্থ হয়েছে।
পরমাণু চুক্তি নিয়ে জটিলতা: পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি। ওয়াশিংটন সাফ জানিয়েছে যে ইরান পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগ না করলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে না। অন্যদিকে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে আসছে।
আঞ্চলিক সংকট: জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, এই সংঘাতের প্রভাব শুধু উপসাগরীয় অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং এর ফলে লেবানন, গাজা, সোমালিয়াসহ একাধিক দেশে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রধান টার্মিনাল ভবনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। বুধবার (৩ জুন) এই হামলার ঘটনার পরপরই কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট স্থগিত ঘোষণা করে এবং কিছু ফ্লাইট অন্যত্র সরিয়ে নেয়। পাকিস্তান ট্রিবিউনের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।
কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাউদ আবদুলআজিজ আল-ওতাইবি জানান, একটি ‘শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন’ বিমানবন্দরের মূল যাত্রী টার্মিনালকে লক্ষ্য করে আঘাত হানে, এতে ভবনের বড় ধরনের ক্ষতি হয়। বর্তমানে কুয়েতি সশস্ত্র বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। পাশাপাশি দেশটির জেনারেল ডিরেক্টরেট অব সিভিল এভিয়েশন বিমানবন্দরে জরুরি পরিকল্পনা কার্যকর করেছে।
হামলার আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে, দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। অপরদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, কুয়েত লক্ষ্য করে ছোড়া কিছু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে ব্যর্থ হয়েছে এবং কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ও মিত্র বাহিনী যৌথভাবে ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করছে বলেও তারা জানায়।
জ্বালানি বাজারে প্রভাব: এই হামলা-পাল্টা হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।
দাবি ও পাল্টা দাবি: ইরান দাবি করেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি তেলবাহী জাহাজ ও আঞ্চলিক বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনায় সফল পাল্টা হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তাদের বেশিরভাগ লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের হামলা ব্যর্থ হয়েছে।
পরমাণু চুক্তি নিয়ে জটিলতা: পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি। ওয়াশিংটন সাফ জানিয়েছে যে ইরান পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগ না করলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে না। অন্যদিকে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে আসছে।
আঞ্চলিক সংকট: জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, এই সংঘাতের প্রভাব শুধু উপসাগরীয় অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং এর ফলে লেবানন, গাজা, সোমালিয়াসহ একাধিক দেশে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন