ঢাকা নিউজ

তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা



তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা
ছবি : সংগৃহীত

দলীয় সংকট ও অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের আবহে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে দলকে নতুনভাবে সাজাতে সর্বস্তরে আত্মসমালোচনা, কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন এবং সাংগঠনিক পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের মূল কমিটিসহ সব সহযোগী ও শাখা সংগঠনের কমিটি অবিলম্বে বিলুপ্ত করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তটি এমন এক জটিল সময়ে এলো যখন দলের একাংশের বিধায়ক প্রকাশ্যেই নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। বিদ্রোহী বিধায়কদের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে বিধানসভার স্পিকারের কাছে পৃথক পরিষদীয় দল হিসেবে স্বীকৃতির আবেদন করায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকট আরও গভীর হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, গত মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূলের ভেতরে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। একাধিক নেতা ও বিধায়ক দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা, প্রার্থী বাছাই এবং নির্বাচনী কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সেই প্রেক্ষাপটে জেলা থেকে বুথ স্তর পর্যন্ত সব সংগঠন নতুনভাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে কারা মাঠে সক্রিয় ছিলেন এবং কারা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন, তা খতিয়ে দেখে নতুন সাংগঠনিক কাঠামো ঘোষণা করা হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধুমাত্র সাধারণ রদবদল নয়, বরং ক্ষমতা হারানোর পর দলকে পুনর্গঠন এবং বিদ্রোহী শিবিরকে নিয়ন্ত্রণে এনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অতীতেও কঠিন পরিস্থিতিতে এমন রদবদল করলেও, এবারের নির্বাচনী পরাজয় ও বিধায়কদের প্রকাশ্য বিদ্রোহের কারণে পরিস্থিতি অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। এখন দেখার বিষয়, এই পুনর্গঠনের পর তৃণমূল কতটা ঐক্যবদ্ধ হতে পারে এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬


তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬

featured Image

দলীয় সংকট ও অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের আবহে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে দলকে নতুনভাবে সাজাতে সর্বস্তরে আত্মসমালোচনা, কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন এবং সাংগঠনিক পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের মূল কমিটিসহ সব সহযোগী ও শাখা সংগঠনের কমিটি অবিলম্বে বিলুপ্ত করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তটি এমন এক জটিল সময়ে এলো যখন দলের একাংশের বিধায়ক প্রকাশ্যেই নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। বিদ্রোহী বিধায়কদের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে বিধানসভার স্পিকারের কাছে পৃথক পরিষদীয় দল হিসেবে স্বীকৃতির আবেদন করায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকট আরও গভীর হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, গত মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূলের ভেতরে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। একাধিক নেতা ও বিধায়ক দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা, প্রার্থী বাছাই এবং নির্বাচনী কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সেই প্রেক্ষাপটে জেলা থেকে বুথ স্তর পর্যন্ত সব সংগঠন নতুনভাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে কারা মাঠে সক্রিয় ছিলেন এবং কারা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন, তা খতিয়ে দেখে নতুন সাংগঠনিক কাঠামো ঘোষণা করা হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধুমাত্র সাধারণ রদবদল নয়, বরং ক্ষমতা হারানোর পর দলকে পুনর্গঠন এবং বিদ্রোহী শিবিরকে নিয়ন্ত্রণে এনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অতীতেও কঠিন পরিস্থিতিতে এমন রদবদল করলেও, এবারের নির্বাচনী পরাজয় ও বিধায়কদের প্রকাশ্য বিদ্রোহের কারণে পরিস্থিতি অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। এখন দেখার বিষয়, এই পুনর্গঠনের পর তৃণমূল কতটা ঐক্যবদ্ধ হতে পারে এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ