ঢাকা নিউজ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে ২০ বিলিয়ন ডলার লাভবান পাকিস্তান



যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে ২০ বিলিয়ন ডলার লাভবান পাকিস্তান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি হলে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে, যার ফলে উদীয়মান অর্থনীতির দেশ হিসেবে পাকিস্তানের অর্থনীতিতে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান কেট্রেড সিকিউরিটিজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর মাধ্যমে দেশটির ঝুঁকি সূচকে ৭৫-১৫০ বেসিস পয়েন্ট উন্নতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হওয়া, উপসাগরীয় দেশগুলোতে ৪ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি পুনরুদ্ধার, মূল্যস্ফীতি ১২৫-১৫০ বেসিস পয়েন্ট হ্রাস, চলতি হিসাবে বার্ষিক ৩.৭৫-৫ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত এবং সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ প্রকল্পে প্রতি বছর ৮ লাখ পাকিস্তানি শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বর্তমানে হরমুজ সংকটের কারণে পাকিস্তানের অর্থনীতিতে ইতিমধ্যে ১০ থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে, যা জিডিপির প্রায় ২ থেকে ৩ শতাংশের সমান এবং এর ফলে মে ২০২৬-এ দেশটির মূল্যস্ফীতি ১১.৭ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে হরমুজ প্রণালির বাইরে অবস্থিত গওয়াদার বন্দরের কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ছে, যেখানে ২০২৬ সালের এপ্রিলেই কনটেইনার পরিবহন ১১ হাজার টিইইউতে পৌঁছেছে যা আগের বছরের মোট পরিমাণকেও ছাড়িয়ে গেছে। এই ধারা বজায় থাকলে বন্দরটি থেকে বছরে ৫ থেকে ৮ কোটি ডলার রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি ট্রানজিট ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল সংশ্লিষ্ট আয়ও বাড়বে এবং সৌদি আরব ইতিমধ্যে গওয়াদারে তেল সংরক্ষণ অবকাঠামোতে বিনিয়োগ ছাড়াও পাকিস্তানকে ২ বিলিয়ন ডলার দিয়েছে ও আরও ৩ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে স্বল্প সময়েই পাকিস্তান-ইরান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যার ফলে পাকিস্তানের সিমেন্ট, তৈরি পোশাক, চাল, ফল ও চিকিৎসাসামগ্রী রপ্তানির এবং ইরান থেকে জ্বালানি, রাসায়নিক, প্লাস্টিক ও ইস্পাত আমদানির সুযোগ তৈরি হবে। এছাড়া ইরান-পাকিস্তান গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প চালু হলে কাতার থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি ১৩ ডলারে আমদানির বিপরীতে মাত্র ৬ থেকে ৮ ডলারে ইরানি গ্যাস পাওয়া যাবে, যা পাকিস্তানের বছরে প্রায় ১.৫ থেকে ২ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করবে।

দীর্ঘমেয়াদে এই চুক্তি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের ১৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা ও বিনিয়োগ চুক্তি বাস্তবায়নে সহায়তা করবে এবং চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) প্রকল্পকে উপকৃত করবে, যেখানে ২০৩০ অর্থবছরের মধ্যে মোট বিনিয়োগ ৬২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ভবিষ্যতে ইরান এই করিডোরে যুক্ত হলে আঞ্চলিক সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে এবং তেলের বৈশ্বিক দাম কমলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতি ৫ থেকে ৭ শতাংশে নেমে এসে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে ২০ বিলিয়ন ডলার লাভবান পাকিস্তান

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি হলে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে, যার ফলে উদীয়মান অর্থনীতির দেশ হিসেবে পাকিস্তানের অর্থনীতিতে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান কেট্রেড সিকিউরিটিজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর মাধ্যমে দেশটির ঝুঁকি সূচকে ৭৫-১৫০ বেসিস পয়েন্ট উন্নতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হওয়া, উপসাগরীয় দেশগুলোতে ৪ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি পুনরুদ্ধার, মূল্যস্ফীতি ১২৫-১৫০ বেসিস পয়েন্ট হ্রাস, চলতি হিসাবে বার্ষিক ৩.৭৫-৫ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত এবং সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ প্রকল্পে প্রতি বছর ৮ লাখ পাকিস্তানি শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বর্তমানে হরমুজ সংকটের কারণে পাকিস্তানের অর্থনীতিতে ইতিমধ্যে ১০ থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে, যা জিডিপির প্রায় ২ থেকে ৩ শতাংশের সমান এবং এর ফলে মে ২০২৬-এ দেশটির মূল্যস্ফীতি ১১.৭ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে হরমুজ প্রণালির বাইরে অবস্থিত গওয়াদার বন্দরের কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ছে, যেখানে ২০২৬ সালের এপ্রিলেই কনটেইনার পরিবহন ১১ হাজার টিইইউতে পৌঁছেছে যা আগের বছরের মোট পরিমাণকেও ছাড়িয়ে গেছে। এই ধারা বজায় থাকলে বন্দরটি থেকে বছরে ৫ থেকে ৮ কোটি ডলার রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি ট্রানজিট ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল সংশ্লিষ্ট আয়ও বাড়বে এবং সৌদি আরব ইতিমধ্যে গওয়াদারে তেল সংরক্ষণ অবকাঠামোতে বিনিয়োগ ছাড়াও পাকিস্তানকে ২ বিলিয়ন ডলার দিয়েছে ও আরও ৩ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে স্বল্প সময়েই পাকিস্তান-ইরান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যার ফলে পাকিস্তানের সিমেন্ট, তৈরি পোশাক, চাল, ফল ও চিকিৎসাসামগ্রী রপ্তানির এবং ইরান থেকে জ্বালানি, রাসায়নিক, প্লাস্টিক ও ইস্পাত আমদানির সুযোগ তৈরি হবে। এছাড়া ইরান-পাকিস্তান গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প চালু হলে কাতার থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি ১৩ ডলারে আমদানির বিপরীতে মাত্র ৬ থেকে ৮ ডলারে ইরানি গ্যাস পাওয়া যাবে, যা পাকিস্তানের বছরে প্রায় ১.৫ থেকে ২ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করবে।

দীর্ঘমেয়াদে এই চুক্তি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের ১৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা ও বিনিয়োগ চুক্তি বাস্তবায়নে সহায়তা করবে এবং চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) প্রকল্পকে উপকৃত করবে, যেখানে ২০৩০ অর্থবছরের মধ্যে মোট বিনিয়োগ ৬২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ভবিষ্যতে ইরান এই করিডোরে যুক্ত হলে আঞ্চলিক সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে এবং তেলের বৈশ্বিক দাম কমলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতি ৫ থেকে ৭ শতাংশে নেমে এসে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ