ভারতের তামিলনাড়ু রাজনীতিতে বিজেপির সবচেয়ে পরিচিত ও প্রভাবশালী মুখ কে আন্নামালাই ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন। গত কয়েকদিন ধরে চলা নানামুখী জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি দল ত্যাগ করলেন এবং বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ইতোমধ্যেই তার এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে। দলের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বিজেপির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন তামিলনাড়ুর সাবেক রাজ্য সভাপতি শ্রী কে আন্নামালাইয়ের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে দেওয়া পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনসাধারণের সঙ্গে একটি উন্মুক্ত আলোচনায় বসার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই আন্নামালাইয়ের দল ছাড়ার এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটি সামনে আসে। সাবেক এই আইপিএস কর্মকর্তা গত মঙ্গলবার দিল্লিতে গিয়ে দলীয় প্রধান নীতিন নবীনের সঙ্গে দেখা করে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দলের সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টানার ইচ্ছা প্রকাশ করার পর বিজেপির শীর্ষ নেতা অমিত শাহ এবং বি এল সন্তোষের সঙ্গেও বৈঠক করেন। দল তাকে কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে বললেও পর্দার আড়ালে চলা আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। আন্নামালাইয়ের পদত্যাগের পর তামিলনাড়ু বিজেপির বর্তমান সভাপতি নয়নর নাগেন্দ্রন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আন্নামালাইয়ের দলত্যাগে বিজেপির কোনো ক্ষতি হবে না; তবে অন্ধ্রপ্রদেশ বিজেপির সভাপতি পিভিএন মাধব আশা প্রকাশ করেছেন যে ভবিষ্যতে তিনি আবারও দলে ফিরে আসবেন।
পদত্যাগপত্রে আন্নামালাই তার দল ছাড়ার পেছনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দীর্ঘদিনের মতবিরোধের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, তামিলনাড়ুর মানুষের ভাষা ও সংস্কৃতি যেভাবে জাতীয় দলগুলো মূল্যায়ন করে, তার সঙ্গে তিনি একমত হতে পারছিলেন না এবং গত ১৮ মাস ধরে তিনি শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে তার ভিন্নমতের কথা জানিয়ে আসছিলেন। অবশেষে তামিলনাড়ুর ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভাবনার সঙ্গে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি না মেলায় তিনি দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং একটি নতুন রাজনৈতিক আন্দোলন শুরু করার ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছেন, তার নতুন দল তামিলনাড়ুর আগামী বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
২০২০ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আন্নামালাই সরকারি চাকরি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন এবং রাজনীতিতে আসার মাত্র এক বছরের মাথায় ৩৭ বছর বয়সে তামিলনাড়ু বিজেপির সভাপতি পদের মতো বড় দায়িত্ব পান। তার হাত ধরে রাজ্যটিতে বিজেপির ভোট ব্যাংক ও দৃশ্যমানতা বাড়লেও তিনি নির্বাচনী রাজনীতিতে বড় কোনো জয় পাননি। সূত্রমতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এআইএডিএমকে দলের সঙ্গে বিজেপির পুনরায় জোট গঠন করা নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়, কারণ আন্নামালাই এককভাবে লড়তে চাইলেও শীর্ষ নেতৃত্ব জোটের পক্ষে ছিল এবং এআইএডিএমকে প্রধান জোটে আসার শর্ত হিসেবে আন্নামালাইকে সভাপতির পদ থেকে সরানোর দাবি তুলেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬
ভারতের তামিলনাড়ু রাজনীতিতে বিজেপির সবচেয়ে পরিচিত ও প্রভাবশালী মুখ কে আন্নামালাই ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন। গত কয়েকদিন ধরে চলা নানামুখী জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি দল ত্যাগ করলেন এবং বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ইতোমধ্যেই তার এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে। দলের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বিজেপির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন তামিলনাড়ুর সাবেক রাজ্য সভাপতি শ্রী কে আন্নামালাইয়ের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে দেওয়া পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনসাধারণের সঙ্গে একটি উন্মুক্ত আলোচনায় বসার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই আন্নামালাইয়ের দল ছাড়ার এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটি সামনে আসে। সাবেক এই আইপিএস কর্মকর্তা গত মঙ্গলবার দিল্লিতে গিয়ে দলীয় প্রধান নীতিন নবীনের সঙ্গে দেখা করে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দলের সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টানার ইচ্ছা প্রকাশ করার পর বিজেপির শীর্ষ নেতা অমিত শাহ এবং বি এল সন্তোষের সঙ্গেও বৈঠক করেন। দল তাকে কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে বললেও পর্দার আড়ালে চলা আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। আন্নামালাইয়ের পদত্যাগের পর তামিলনাড়ু বিজেপির বর্তমান সভাপতি নয়নর নাগেন্দ্রন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আন্নামালাইয়ের দলত্যাগে বিজেপির কোনো ক্ষতি হবে না; তবে অন্ধ্রপ্রদেশ বিজেপির সভাপতি পিভিএন মাধব আশা প্রকাশ করেছেন যে ভবিষ্যতে তিনি আবারও দলে ফিরে আসবেন।
পদত্যাগপত্রে আন্নামালাই তার দল ছাড়ার পেছনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দীর্ঘদিনের মতবিরোধের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, তামিলনাড়ুর মানুষের ভাষা ও সংস্কৃতি যেভাবে জাতীয় দলগুলো মূল্যায়ন করে, তার সঙ্গে তিনি একমত হতে পারছিলেন না এবং গত ১৮ মাস ধরে তিনি শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে তার ভিন্নমতের কথা জানিয়ে আসছিলেন। অবশেষে তামিলনাড়ুর ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভাবনার সঙ্গে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি না মেলায় তিনি দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং একটি নতুন রাজনৈতিক আন্দোলন শুরু করার ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছেন, তার নতুন দল তামিলনাড়ুর আগামী বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
২০২০ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আন্নামালাই সরকারি চাকরি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন এবং রাজনীতিতে আসার মাত্র এক বছরের মাথায় ৩৭ বছর বয়সে তামিলনাড়ু বিজেপির সভাপতি পদের মতো বড় দায়িত্ব পান। তার হাত ধরে রাজ্যটিতে বিজেপির ভোট ব্যাংক ও দৃশ্যমানতা বাড়লেও তিনি নির্বাচনী রাজনীতিতে বড় কোনো জয় পাননি। সূত্রমতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এআইএডিএমকে দলের সঙ্গে বিজেপির পুনরায় জোট গঠন করা নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়, কারণ আন্নামালাই এককভাবে লড়তে চাইলেও শীর্ষ নেতৃত্ব জোটের পক্ষে ছিল এবং এআইএডিএমকে প্রধান জোটে আসার শর্ত হিসেবে আন্নামালাইকে সভাপতির পদ থেকে সরানোর দাবি তুলেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন