ঢাকা নিউজ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নস্যাতে নেতানিয়াহুর অনড় অবস্থান



যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নস্যাতে নেতানিয়াহুর অনড় অবস্থান
ছবি : সংগৃহীত

ওয়াশিংটন ও তেহরান যখন একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি এবং সমঝোতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তা যেকোনো মূল্যে নস্যাৎ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বিশ্বাস করেন, ইরানকে অক্ষত রেখে যেকোনো ধরনের কূটনৈতিক নিষ্পত্তি মূলত ইসরাইলের জন্য একটি বড় পরাজয় এবং তিনি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সুরক্ষায় একক ইসরাইলি আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চান।

নেতানিয়াহুর লক্ষ্য গাজায় হামাস ও ইসলামিক জিহাদকে নিরস্ত্র করা, লেবাননে হিজবুল্লাহকে খর্ব করা এবং ইরানের রাষ্ট্রীয় ভিত্তিকে নিষ্ক্রিয় করার মাধ্যমে 'বৃহত্তর ইসরাইল' প্রতিষ্ঠা করা। এই লক্ষ্য অর্জনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যাতে ইরানের সাথে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করতে না পারেন, সেটিকে তিনি প্রধান অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ায় খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে এবং ট্রাম্পের নিজস্ব রাজনৈতিক জোটের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা ইসরাইলের স্বার্থে মার্কিন অর্থ ও সৈন্যের অপচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

পাশাপাশি মে মাসের শুরুতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এছাড়া গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজার ও সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সাথে ৩৯ দিনের যুদ্ধকালীন সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের ৮টি দেশে অন্তত ১৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মার্কিন প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।

এই কৌশলগত অচলাবস্থার কারণে পাকিস্তান ও বেশ কয়েকটি আরব দেশের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি খসড়া চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে, যার আওতায় অন্তত ৬০ দিনের জন্য লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করা, ইরানের অবরুদ্ধ তহবিলের একটি অংশ ছাড় দেওয়া এবং আংশিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়গুলো রয়েছে। তবে এই অর্থনৈতিক স্বস্তি ও ইরানের সামরিক সক্ষমতা অক্ষত থাকা নেতানিয়াহুর কাছে সম্পূর্ণ অসহনীয় হওয়ায় ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যকার সাম্প্রতিক আলোচনা বেশ উত্তপ্ত ছিল বলে জানা গেছে।

ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে নেতানিয়াহুকে লেবাননে বড় ধরনের আগ্রাসন চালাতে নিষেধ করলেও নেতানিয়াহু গাজায় নতুন করে গণহত্যা, পশ্চিম তীরে উসকানি কিংবা লেবাননে টার্গেটেড হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়া নস্যাৎ করার চেষ্টা করতে পারেন।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নস্যাতে নেতানিয়াহুর অনড় অবস্থান

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬

featured Image

ওয়াশিংটন ও তেহরান যখন একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি এবং সমঝোতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তা যেকোনো মূল্যে নস্যাৎ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বিশ্বাস করেন, ইরানকে অক্ষত রেখে যেকোনো ধরনের কূটনৈতিক নিষ্পত্তি মূলত ইসরাইলের জন্য একটি বড় পরাজয় এবং তিনি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সুরক্ষায় একক ইসরাইলি আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চান।

নেতানিয়াহুর লক্ষ্য গাজায় হামাস ও ইসলামিক জিহাদকে নিরস্ত্র করা, লেবাননে হিজবুল্লাহকে খর্ব করা এবং ইরানের রাষ্ট্রীয় ভিত্তিকে নিষ্ক্রিয় করার মাধ্যমে 'বৃহত্তর ইসরাইল' প্রতিষ্ঠা করা। এই লক্ষ্য অর্জনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যাতে ইরানের সাথে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করতে না পারেন, সেটিকে তিনি প্রধান অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ায় খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে এবং ট্রাম্পের নিজস্ব রাজনৈতিক জোটের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা ইসরাইলের স্বার্থে মার্কিন অর্থ ও সৈন্যের অপচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

পাশাপাশি মে মাসের শুরুতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এছাড়া গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজার ও সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সাথে ৩৯ দিনের যুদ্ধকালীন সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের ৮টি দেশে অন্তত ১৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মার্কিন প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।

এই কৌশলগত অচলাবস্থার কারণে পাকিস্তান ও বেশ কয়েকটি আরব দেশের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি খসড়া চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে, যার আওতায় অন্তত ৬০ দিনের জন্য লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করা, ইরানের অবরুদ্ধ তহবিলের একটি অংশ ছাড় দেওয়া এবং আংশিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়গুলো রয়েছে। তবে এই অর্থনৈতিক স্বস্তি ও ইরানের সামরিক সক্ষমতা অক্ষত থাকা নেতানিয়াহুর কাছে সম্পূর্ণ অসহনীয় হওয়ায় ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যকার সাম্প্রতিক আলোচনা বেশ উত্তপ্ত ছিল বলে জানা গেছে।

ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে নেতানিয়াহুকে লেবাননে বড় ধরনের আগ্রাসন চালাতে নিষেধ করলেও নেতানিয়াহু গাজায় নতুন করে গণহত্যা, পশ্চিম তীরে উসকানি কিংবা লেবাননে টার্গেটেড হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়া নস্যাৎ করার চেষ্টা করতে পারেন।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ