২০২০ সালের বহুল আলোচিত লাহোর মোটরওয়ে গণধর্ষণ মামলার দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে পাকিস্তানের উচ্চ আদালত। দেশটির বিচার বিভাগের এই কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক রায়কে সাধুবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। তিনি মন্তব্য করেছেন যে গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে পশ্চিমা দেশগুলোরও পাকিস্তানের এই বিচার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত।
লাহোর হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ শাহবাজ আলী রিজভী এবং বিচারপতি তারিক মাহমুদ বাজওয়ার সমন্বয়ে গঠিত দুই সদস্যের বেঞ্চ দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি আবিদ মালহি ও শাফকাত বাগার আপিল খারিজ করে পূর্বের সন্ত্রাসবিরোধী আদালতের দেওয়া সাজা হুবহু বহাল রাখেন। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে লাহোর-শিয়ালকোট মোটরওয়েতে সন্তানদের নিয়ে ভ্রমণকালে এক ফরাসি নারী গণধর্ষণের শিকার হন, যা সে সময় পুরো পাকিস্তানে তীব্র জনরোষের জন্ম দেয়। পরবর্তীতে ২০২১ সালের মার্চ মাসে নিম্ন আদালত আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি অন্যান্য অপরাধের জন্য বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করে।
উচ্চ আদালতে আপিল শুনানির সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা নিম্ন আদালতের তথ্য-প্রমাণ মূল্যায়নে ব্যর্থতার দাবি করলেও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রাহীলা শহীদ তার তীব্র বিরোধিতা করেন। পঞ্জাবের প্রসিকিউটর জেনারেল ফরহাদ আলী শাহ এই রায়কে পাকিস্তানের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার একটি বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করে জানান, ভুক্তভোগীর দেওয়া আসামিদের পরিচয়, ডিএনএ টেস্টের ইতিবাচক রিপোর্ট এবং মোবাইল কল রেকর্ড ট্র্যাক করে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই মামলার তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছিল।
লাহোর হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল, যেখানে ধর্ষণের অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ডাকাতির জন্য ১৪ বছরের কারাদণ্ড ও আড়াই লাখ রুপি জরিমানা এবং সন্তানদের অপহরণের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। পাকিস্তানের বিচার ব্যবস্থায় আসামিদের জন্য এখনও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও, বিশ্বমঞ্চে এই রায় এবং ইলন মাস্কের ইতিবাচক মন্তব্য দেশটির বিচারিক কঠোরতার এক নতুন দিক উন্মোচন করেছে।

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬
২০২০ সালের বহুল আলোচিত লাহোর মোটরওয়ে গণধর্ষণ মামলার দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে পাকিস্তানের উচ্চ আদালত। দেশটির বিচার বিভাগের এই কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক রায়কে সাধুবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। তিনি মন্তব্য করেছেন যে গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে পশ্চিমা দেশগুলোরও পাকিস্তানের এই বিচার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত।
লাহোর হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ শাহবাজ আলী রিজভী এবং বিচারপতি তারিক মাহমুদ বাজওয়ার সমন্বয়ে গঠিত দুই সদস্যের বেঞ্চ দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি আবিদ মালহি ও শাফকাত বাগার আপিল খারিজ করে পূর্বের সন্ত্রাসবিরোধী আদালতের দেওয়া সাজা হুবহু বহাল রাখেন। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে লাহোর-শিয়ালকোট মোটরওয়েতে সন্তানদের নিয়ে ভ্রমণকালে এক ফরাসি নারী গণধর্ষণের শিকার হন, যা সে সময় পুরো পাকিস্তানে তীব্র জনরোষের জন্ম দেয়। পরবর্তীতে ২০২১ সালের মার্চ মাসে নিম্ন আদালত আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি অন্যান্য অপরাধের জন্য বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করে।
উচ্চ আদালতে আপিল শুনানির সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা নিম্ন আদালতের তথ্য-প্রমাণ মূল্যায়নে ব্যর্থতার দাবি করলেও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রাহীলা শহীদ তার তীব্র বিরোধিতা করেন। পঞ্জাবের প্রসিকিউটর জেনারেল ফরহাদ আলী শাহ এই রায়কে পাকিস্তানের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার একটি বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করে জানান, ভুক্তভোগীর দেওয়া আসামিদের পরিচয়, ডিএনএ টেস্টের ইতিবাচক রিপোর্ট এবং মোবাইল কল রেকর্ড ট্র্যাক করে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই মামলার তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছিল।
লাহোর হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল, যেখানে ধর্ষণের অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ডাকাতির জন্য ১৪ বছরের কারাদণ্ড ও আড়াই লাখ রুপি জরিমানা এবং সন্তানদের অপহরণের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। পাকিস্তানের বিচার ব্যবস্থায় আসামিদের জন্য এখনও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও, বিশ্বমঞ্চে এই রায় এবং ইলন মাস্কের ইতিবাচক মন্তব্য দেশটির বিচারিক কঠোরতার এক নতুন দিক উন্মোচন করেছে।

আপনার মতামত লিখুন