সকাল থেকেই আকাশ মেঘে ঢাকা থাকার পাশাপাশি কখনো মাঝারি আবার কখনো ঝুম বৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে একদিনের সফরে কক্সবাজারে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এই আগমনকে ঘিরে পুরো জেলায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যার ফলে বিমানবন্দর থেকে শুরু করে শহরের প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো কার্যত নিরাপত্তা বলয়ে পরিণত হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) সকাল ৯টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে এবং সকাল ১০টার দিকে তিনি ভিআইপি গেট দিয়ে বের হন। এ সময় ঝুম বৃষ্টির মধ্যেও বিমানবন্দরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহম্মদ, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন, যাদের অনেকে ছাতা হাতে আবার অনেকে ভিজেই প্রধানমন্ত্রীর আগমনের অপেক্ষায় ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই কক্সবাজার শহরের বিমানবন্দর সড়ক, হলিডে মোড়, কলাতলী, সুগন্ধা পয়েন্ট, বাস টার্মিনাল ও লিংক রোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন ও চেকপোস্ট বসানো হয়। নিরাপত্তাবাহিনী, সরকারি অতিথি এবং দলীয় নেতাকর্মীদের বহনকারী যানবাহন ছাড়া সাধারণ যান চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করায় সাধারণ মানুষ ও বিমানবন্দরে আসা-যাওয়া করা যাত্রীরা যানবাহন সংকটে দুর্ভোগে পড়েন এবং শহরের বিভিন্ন এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন এবং সেখানে আয়োজিত পথসভায় অংশ নেবেন। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত এ প্রকল্পের উদ্বোধনের মাধ্যমে স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
এরপর তিনি ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করবেন এবং মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পরে প্রধানমন্ত্রী পেকুয়া উপজেলায় গিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। শহীদ পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রের শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দিতে এ কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এছাড়া সফরে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাস্তবায়নের পথে এগোনো নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভা এবং নতুন মাতামুহুরি উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
বিকালে চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল মাঠে আয়োজিত একটি রাজনৈতিক জনসভায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এই জনসভাকে ঘিরে চকরিয়াসহ আশপাশের উপজেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকের সমাগমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে জনসভাস্থলে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করবেন। পরবর্তীতে রাতে কক্সবাজার শহরের লং বিচ হোটেলের অডিটোরিয়ামে সুধী সমাবেশে অংশগ্রহণ করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
সবশেষ রাতেই কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হবেন প্রধানমন্ত্রী এবং প্রায় ১২ ঘণ্টাব্যাপী ব্যস্ত কর্মসূচি শেষে রাত ১১টার দিকে তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। টানা বৃষ্টি সত্ত্বেও সফরসূচির প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীরা তৎপর রয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে কক্সবাজারে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬
সকাল থেকেই আকাশ মেঘে ঢাকা থাকার পাশাপাশি কখনো মাঝারি আবার কখনো ঝুম বৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে একদিনের সফরে কক্সবাজারে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এই আগমনকে ঘিরে পুরো জেলায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যার ফলে বিমানবন্দর থেকে শুরু করে শহরের প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো কার্যত নিরাপত্তা বলয়ে পরিণত হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) সকাল ৯টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে এবং সকাল ১০টার দিকে তিনি ভিআইপি গেট দিয়ে বের হন। এ সময় ঝুম বৃষ্টির মধ্যেও বিমানবন্দরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহম্মদ, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন, যাদের অনেকে ছাতা হাতে আবার অনেকে ভিজেই প্রধানমন্ত্রীর আগমনের অপেক্ষায় ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই কক্সবাজার শহরের বিমানবন্দর সড়ক, হলিডে মোড়, কলাতলী, সুগন্ধা পয়েন্ট, বাস টার্মিনাল ও লিংক রোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন ও চেকপোস্ট বসানো হয়। নিরাপত্তাবাহিনী, সরকারি অতিথি এবং দলীয় নেতাকর্মীদের বহনকারী যানবাহন ছাড়া সাধারণ যান চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করায় সাধারণ মানুষ ও বিমানবন্দরে আসা-যাওয়া করা যাত্রীরা যানবাহন সংকটে দুর্ভোগে পড়েন এবং শহরের বিভিন্ন এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন এবং সেখানে আয়োজিত পথসভায় অংশ নেবেন। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত এ প্রকল্পের উদ্বোধনের মাধ্যমে স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
এরপর তিনি ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করবেন এবং মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পরে প্রধানমন্ত্রী পেকুয়া উপজেলায় গিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। শহীদ পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রের শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দিতে এ কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এছাড়া সফরে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাস্তবায়নের পথে এগোনো নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভা এবং নতুন মাতামুহুরি উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
বিকালে চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল মাঠে আয়োজিত একটি রাজনৈতিক জনসভায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এই জনসভাকে ঘিরে চকরিয়াসহ আশপাশের উপজেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকের সমাগমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে জনসভাস্থলে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করবেন। পরবর্তীতে রাতে কক্সবাজার শহরের লং বিচ হোটেলের অডিটোরিয়ামে সুধী সমাবেশে অংশগ্রহণ করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
সবশেষ রাতেই কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হবেন প্রধানমন্ত্রী এবং প্রায় ১২ ঘণ্টাব্যাপী ব্যস্ত কর্মসূচি শেষে রাত ১১টার দিকে তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। টানা বৃষ্টি সত্ত্বেও সফরসূচির প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীরা তৎপর রয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে কক্সবাজারে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।

আপনার মতামত লিখুন