ঢাকা নিউজ

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা ঋণখেলাপি অভিযোগের ব্যাখ্যা দিলেন গভর্নর



নিজের বিরুদ্ধে ওঠা ঋণখেলাপি অভিযোগের ব্যাখ্যা দিলেন গভর্নর
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এক সময় ঋণ খেলাপি ছিলেন—এমন একটি পুরোনো অভিযোগের বিষয়ে ব্যাংক খাতের বর্তমান তারল্য সংকট নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে নিজেই মুখ খুলেছেন। শুক্রবার প্রথমবারের মতো নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এই ঋণখেলাপি অভিযোগের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেন তিনি।

নিজের পূর্বের অবস্থান পরিষ্কার করে মোস্তাকুর রহমান বলেন, গত চার মাসে তিনি অনেকবার ঋণখেলাপির অভিযোগ শুনেছেন। বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি জানান, তিনি এমন একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন যা ছিল সার্টিফায়েড গ্রিন ফ্যাক্টরি এবং সেই ফ্যাক্টরিতে প্রথম স্যাংশন ছিল এফএসএসপি প্রজেক্টের আন্ডারে, যেখানে সুদের হার ছিল ৪ শতাংশ। ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার পর ব্যাংক জানায় যে ওই তহবিলটি শেষ হয়ে গেছে এবং এখন ৯ থেকে ১১ শতাংশ সুদ দিতে হবে; যার ফলে স্বাভাবিকভাবেই হিসাব পালটে যায় এবং কোভিড ও অন্যান্য সমস্যার কারণে পেমেন্ট আগের প্রজেকশন অনুসারে না হয়ে কিছুটা বিলম্ব (ডিলে) হয়।

গভর্নর উল্লেখ করেন, ওভারডিউ বা ডিলে হওয়া এক জিনিস এবং খেলাপি হয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। তিনি দাবি করেন, আজ পর্যন্ত সেই ফ্যাক্টরি একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি, এক্সপোর্ট বন্ধ হয়নি এবং এক মাসের জন্যও বেতন ডিলে হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংকের কাছে এক টাকা ঋণ মওকুফ চায়নি, বরং উলটো ১০০ কোটি টাকার উপরে ব্যাংকে পরিশোধ করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, একটি মিথ্যা অনেকবার বলতে বলতে সত্য হয়ে যায়।

অর্থ পাচারের বিষয়ে গভর্নর বলেন, নির্মম সত্য হলো পাচার করা টাকা ফেরত আনা অত্যন্ত কঠিন এবং বৈশ্বিকভাবে পাচারের টাকা ফেরতের হার মাত্র ২ শতাংশ। এ ধরনের মামলা নিষ্পত্তিতে সাধারণত ৭ থেকে ১০ বছর সময় লাগে উল্লেখ করে তিনি জানান যে তাদের পক্ষ থেকেও টাকা ফেরতের চেষ্টা অব্যাহত রাখা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


নিজের বিরুদ্ধে ওঠা ঋণখেলাপি অভিযোগের ব্যাখ্যা দিলেন গভর্নর

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এক সময় ঋণ খেলাপি ছিলেন—এমন একটি পুরোনো অভিযোগের বিষয়ে ব্যাংক খাতের বর্তমান তারল্য সংকট নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে নিজেই মুখ খুলেছেন। শুক্রবার প্রথমবারের মতো নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এই ঋণখেলাপি অভিযোগের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেন তিনি।

নিজের পূর্বের অবস্থান পরিষ্কার করে মোস্তাকুর রহমান বলেন, গত চার মাসে তিনি অনেকবার ঋণখেলাপির অভিযোগ শুনেছেন। বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি জানান, তিনি এমন একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন যা ছিল সার্টিফায়েড গ্রিন ফ্যাক্টরি এবং সেই ফ্যাক্টরিতে প্রথম স্যাংশন ছিল এফএসএসপি প্রজেক্টের আন্ডারে, যেখানে সুদের হার ছিল ৪ শতাংশ। ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার পর ব্যাংক জানায় যে ওই তহবিলটি শেষ হয়ে গেছে এবং এখন ৯ থেকে ১১ শতাংশ সুদ দিতে হবে; যার ফলে স্বাভাবিকভাবেই হিসাব পালটে যায় এবং কোভিড ও অন্যান্য সমস্যার কারণে পেমেন্ট আগের প্রজেকশন অনুসারে না হয়ে কিছুটা বিলম্ব (ডিলে) হয়।

গভর্নর উল্লেখ করেন, ওভারডিউ বা ডিলে হওয়া এক জিনিস এবং খেলাপি হয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। তিনি দাবি করেন, আজ পর্যন্ত সেই ফ্যাক্টরি একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি, এক্সপোর্ট বন্ধ হয়নি এবং এক মাসের জন্যও বেতন ডিলে হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংকের কাছে এক টাকা ঋণ মওকুফ চায়নি, বরং উলটো ১০০ কোটি টাকার উপরে ব্যাংকে পরিশোধ করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, একটি মিথ্যা অনেকবার বলতে বলতে সত্য হয়ে যায়।

অর্থ পাচারের বিষয়ে গভর্নর বলেন, নির্মম সত্য হলো পাচার করা টাকা ফেরত আনা অত্যন্ত কঠিন এবং বৈশ্বিকভাবে পাচারের টাকা ফেরতের হার মাত্র ২ শতাংশ। এ ধরনের মামলা নিষ্পত্তিতে সাধারণত ৭ থেকে ১০ বছর সময় লাগে উল্লেখ করে তিনি জানান যে তাদের পক্ষ থেকেও টাকা ফেরতের চেষ্টা অব্যাহত রাখা হবে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ