স্পেসএক্সের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির (আইপিও) পর কাগজে-কলমে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার বা এক লাখ কোটি ডলারের সম্পদের মালিক হলেন ইলন মাস্ক। রকেট নির্মাতা ও স্যাটেলাইট অপারেটর কোম্পানি স্পেসএক্স আইপিওতে প্রতি শেয়ারের মূল্য ১৩৫ ডলার নির্ধারণ করে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে, যার ফলে এর মোট বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার। নাসডাকে ‘SPCX’ টিকার নামে লেনদেন শুরু হওয়া এই কোম্পানির পাবলিক হওয়ার হাত ধরেই মাস্কের নিট সম্পদ বিলিয়ন থেকে ট্রিলিয়ন পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং বর্তমানে ব্লুমবার্গের হিসাবে তার সম্পদের পরিমাণ এক দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন ডলার।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় জন্ম নেওয়া মাস্ক ছোটবেলা থেকেই ব্যবসায়িক দক্ষতার পরিচয় দেন এবং ১২ বছর বয়সে নিজের প্রথম কম্পিউটার গেম তৈরি করেন। শৈশবে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ, স্কুলে বুলিং এবং অ্যাসপারগার সিনড্রোমের কারণে কঠিন সময় পার করা মাস্ক পরবর্তীতে পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি ও পদার্থবিদ্যায় পড়াশোনা করেন। ১৯৯০-এর দশকে দুটি প্রযুক্তি স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠার পর তিনি অনলাইন ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান পেপ্যাল ১.৫ বিলিয়ন ডলারে বিক্রি করেন এবং সেই অর্থ স্পেসএক্স ও বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলায় বিনিয়োগ করে নিজ নিজ শিল্পে বড় পরিবর্তন আনেন।
ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি ২০২২ সালের অক্টোবরে ৪৪ বিলিয়ন ডলারে টুইটার (বর্তমান এক্স) অধিগ্রহণ করেন মাস্ক, যার বর্তমান মূল্য নেমে দাঁড়িয়েছে ৯.৪ বিলিয়ন ডলারে। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতেও আগ্রহী এবং চ্যাটজিপিটি-র মূল কোম্পানিতে প্রাথমিক বিনিয়োগকারী থাকার পর ২০২৩ সালে এক্সএআই প্রতিষ্ঠা করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনবার বিবাহবিচ্ছেদ হওয়া মাস্কের মোট ১৪ জন সন্তান রয়েছে এবং তিনি নিজেকে একজন ‘কাজপাগল’ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় রাজনীতিতে মাস্কের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মধ্যে ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জয়ী হতে সহায়তা করা এবং পরবর্তীতে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট ইমার্জেন্সি’ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়া অন্যতম। তবে সরকারি ব্যয় কাটছাঁট ও কর সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি হোয়াইট হাউস ছাড়ার ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স ব্যবহার করে জনমত প্রভাবিত করা এবং সমসাময়িক নানা রাজনৈতিক বিষয়ে খোলামেলা মতামত প্রকাশের কারণে তিনি প্রায়ই বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও রাজনীতিবিদদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬
স্পেসএক্সের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির (আইপিও) পর কাগজে-কলমে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার বা এক লাখ কোটি ডলারের সম্পদের মালিক হলেন ইলন মাস্ক। রকেট নির্মাতা ও স্যাটেলাইট অপারেটর কোম্পানি স্পেসএক্স আইপিওতে প্রতি শেয়ারের মূল্য ১৩৫ ডলার নির্ধারণ করে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে, যার ফলে এর মোট বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার। নাসডাকে ‘SPCX’ টিকার নামে লেনদেন শুরু হওয়া এই কোম্পানির পাবলিক হওয়ার হাত ধরেই মাস্কের নিট সম্পদ বিলিয়ন থেকে ট্রিলিয়ন পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং বর্তমানে ব্লুমবার্গের হিসাবে তার সম্পদের পরিমাণ এক দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন ডলার।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় জন্ম নেওয়া মাস্ক ছোটবেলা থেকেই ব্যবসায়িক দক্ষতার পরিচয় দেন এবং ১২ বছর বয়সে নিজের প্রথম কম্পিউটার গেম তৈরি করেন। শৈশবে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ, স্কুলে বুলিং এবং অ্যাসপারগার সিনড্রোমের কারণে কঠিন সময় পার করা মাস্ক পরবর্তীতে পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি ও পদার্থবিদ্যায় পড়াশোনা করেন। ১৯৯০-এর দশকে দুটি প্রযুক্তি স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠার পর তিনি অনলাইন ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান পেপ্যাল ১.৫ বিলিয়ন ডলারে বিক্রি করেন এবং সেই অর্থ স্পেসএক্স ও বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলায় বিনিয়োগ করে নিজ নিজ শিল্পে বড় পরিবর্তন আনেন।
ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি ২০২২ সালের অক্টোবরে ৪৪ বিলিয়ন ডলারে টুইটার (বর্তমান এক্স) অধিগ্রহণ করেন মাস্ক, যার বর্তমান মূল্য নেমে দাঁড়িয়েছে ৯.৪ বিলিয়ন ডলারে। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতেও আগ্রহী এবং চ্যাটজিপিটি-র মূল কোম্পানিতে প্রাথমিক বিনিয়োগকারী থাকার পর ২০২৩ সালে এক্সএআই প্রতিষ্ঠা করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনবার বিবাহবিচ্ছেদ হওয়া মাস্কের মোট ১৪ জন সন্তান রয়েছে এবং তিনি নিজেকে একজন ‘কাজপাগল’ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় রাজনীতিতে মাস্কের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মধ্যে ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জয়ী হতে সহায়তা করা এবং পরবর্তীতে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট ইমার্জেন্সি’ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়া অন্যতম। তবে সরকারি ব্যয় কাটছাঁট ও কর সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি হোয়াইট হাউস ছাড়ার ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স ব্যবহার করে জনমত প্রভাবিত করা এবং সমসাময়িক নানা রাজনৈতিক বিষয়ে খোলামেলা মতামত প্রকাশের কারণে তিনি প্রায়ই বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও রাজনীতিবিদদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন