১৯৯৪ সালের ১৭ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার পাসাডেনার রোজ বোল স্টেডিয়ামে ৯৪ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে বিশ্বকাপ ফাইনালের টাইব্রেকারে রবার্তো বাজ্জিওর শট গোলপোস্টের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সাথে সাথে অবসান ঘটে ব্রাজিলের ২৪ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার। ফিফার তৎকালীন সভাপতি জোয়াও হাভেলাঞ্জের ফুটবলকে বৈশ্বিক শক্তিতে রূপান্তরের দূরদর্শী সিদ্ধান্তে সেবার আমেরিকায় বসেছিল বিশ্বকাপের আসর। শুরু নানামুখী সংশয় থাকলেও শেষ পর্যন্ত ৩৬ লাখের বেশি দর্শক উপস্থিতির এক অনন্য রেকর্ড গড়েছিল এই আসর, যা আজ পর্যন্ত বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়া এবং ঠাণ্ডা যুদ্ধের অবসানের পর এই আসরেই প্রথমবারের মতো অংশ নেয় স্বাধীন রাশিয়া এবং অভিষেক ঘটে গ্রিস ও নাইজেরিয়ার মতো দলের।
এই টুর্নামেন্টটি একদিকে যেমন ছিল কিংবদন্তি ডিয়েগো আর্মান্দো ম্যারাডোনার পতন ও বিদায়ের সাক্ষী, অন্যদিকে তেমনি ছিল ব্রাজিলের নতুন উত্থানের গল্প। গ্রিসের বিপক্ষে ৪-০ গোলে জয়ের পর ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়ে বিশ্বকাপ থেকে ম্যারাডোনার বহিষ্কার হওয়া ফুটবল বিশ্বকে স্তব্ধ করে দেয়, যা আর্জেন্টিনার যাত্রাকে দ্বিতীয় রাউন্ডেই থামিয়ে দেয়। বিপরীতে সুন্দর ফুটবল খেলে হারতে থাকা ব্রাজিল সেবার কার্লোস আলবার্তো পারেইরার কোচিংয়ে রক্ষণাত্মক ও বাস্তববাদী কৌশলে এগিয়ে যায়, যার অগ্রভাগে ছিলেন প্রাণঘাতী জুটি রোমারিও ও বেবেতো। নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছানো ব্রাজিল ইতালির সাথে গোলশূন্য ১২০ মিনিট লড়াইয়ের পর টাইব্রেকারে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পুনরুদ্ধার করে।
ঐতিহাসিক এই আসরটি বেশ কিছু রোমাঞ্চকর রেকর্ড ও বেদনাবিধুর ট্র্যাজেডির জন্যও ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। রাশিয়ার ওলেগ সালেঙ্কো ক্যামেরুনের বিরুদ্ধে এক ম্যাচে ৫ গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েন এবং ৪২ বছর বয়সী রজার মিলা গোল করে বয়সের সীমানা ছাড়িয়ে যান। অন্যদিকে গ্রুপ পর্বে আমেরিকার বিপক্ষে আত্মঘাতী গোল করার অপরাধে দেশে ফিরে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এস্কোবার। এছাড়া হ্রিস্টো স্টইচকভের বুলগেরিয়া বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে এবং জর্জি হাজির রোমানিয়া আর্জেন্টিনাকে বিদায় করে টুর্নামেন্টে বড় অঘটন ঘটায়। শেষ পর্যন্ত বাজ্জিওর মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকার বিষাদময় ছবির বিপরীতে রোমারিওর ট্রফি উঁচিয়ে ধরার হাসিতেই শেষ হয় ১৯৯৪ সালের আমেরিকার সেই অবিস্মরণীয় গ্রীষ্ম।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬
১৯৯৪ সালের ১৭ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার পাসাডেনার রোজ বোল স্টেডিয়ামে ৯৪ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে বিশ্বকাপ ফাইনালের টাইব্রেকারে রবার্তো বাজ্জিওর শট গোলপোস্টের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সাথে সাথে অবসান ঘটে ব্রাজিলের ২৪ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার। ফিফার তৎকালীন সভাপতি জোয়াও হাভেলাঞ্জের ফুটবলকে বৈশ্বিক শক্তিতে রূপান্তরের দূরদর্শী সিদ্ধান্তে সেবার আমেরিকায় বসেছিল বিশ্বকাপের আসর। শুরু নানামুখী সংশয় থাকলেও শেষ পর্যন্ত ৩৬ লাখের বেশি দর্শক উপস্থিতির এক অনন্য রেকর্ড গড়েছিল এই আসর, যা আজ পর্যন্ত বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়া এবং ঠাণ্ডা যুদ্ধের অবসানের পর এই আসরেই প্রথমবারের মতো অংশ নেয় স্বাধীন রাশিয়া এবং অভিষেক ঘটে গ্রিস ও নাইজেরিয়ার মতো দলের।
এই টুর্নামেন্টটি একদিকে যেমন ছিল কিংবদন্তি ডিয়েগো আর্মান্দো ম্যারাডোনার পতন ও বিদায়ের সাক্ষী, অন্যদিকে তেমনি ছিল ব্রাজিলের নতুন উত্থানের গল্প। গ্রিসের বিপক্ষে ৪-০ গোলে জয়ের পর ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়ে বিশ্বকাপ থেকে ম্যারাডোনার বহিষ্কার হওয়া ফুটবল বিশ্বকে স্তব্ধ করে দেয়, যা আর্জেন্টিনার যাত্রাকে দ্বিতীয় রাউন্ডেই থামিয়ে দেয়। বিপরীতে সুন্দর ফুটবল খেলে হারতে থাকা ব্রাজিল সেবার কার্লোস আলবার্তো পারেইরার কোচিংয়ে রক্ষণাত্মক ও বাস্তববাদী কৌশলে এগিয়ে যায়, যার অগ্রভাগে ছিলেন প্রাণঘাতী জুটি রোমারিও ও বেবেতো। নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছানো ব্রাজিল ইতালির সাথে গোলশূন্য ১২০ মিনিট লড়াইয়ের পর টাইব্রেকারে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পুনরুদ্ধার করে।
ঐতিহাসিক এই আসরটি বেশ কিছু রোমাঞ্চকর রেকর্ড ও বেদনাবিধুর ট্র্যাজেডির জন্যও ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। রাশিয়ার ওলেগ সালেঙ্কো ক্যামেরুনের বিরুদ্ধে এক ম্যাচে ৫ গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েন এবং ৪২ বছর বয়সী রজার মিলা গোল করে বয়সের সীমানা ছাড়িয়ে যান। অন্যদিকে গ্রুপ পর্বে আমেরিকার বিপক্ষে আত্মঘাতী গোল করার অপরাধে দেশে ফিরে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এস্কোবার। এছাড়া হ্রিস্টো স্টইচকভের বুলগেরিয়া বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে এবং জর্জি হাজির রোমানিয়া আর্জেন্টিনাকে বিদায় করে টুর্নামেন্টে বড় অঘটন ঘটায়। শেষ পর্যন্ত বাজ্জিওর মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকার বিষাদময় ছবির বিপরীতে রোমারিওর ট্রফি উঁচিয়ে ধরার হাসিতেই শেষ হয় ১৯৯৪ সালের আমেরিকার সেই অবিস্মরণীয় গ্রীষ্ম।

আপনার মতামত লিখুন