ঢাকা নিউজ

প্যারিসের আকাশে জিদানের উদয় ও রোনালদোর রহস্যময় ট্র্যাজেডি



প্যারিসের আকাশে জিদানের উদয় ও রোনালদোর রহস্যময় ট্র্যাজেডি
ছবি : সংগৃহীত

১৯৯৮ সালের ১২ জুলাই প্যারিসের স্টেড দ্য ফ্রান্স স্টেডিয়ামে স্বাগতিক ফ্রান্স ও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটেছিল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম এক আবেগময় মহাকাব্যের। ৬০ বছর পর ফরাসি মাটিতে ফেরা এই আসরটি শুধু একটি শিরোপার লড়াই ছিল না, বরং তা ছিল নতুন বিশ্ব ফুটবল ব্যবস্থার এক ঘোষণাপত্র। ফিফার অধীনে প্রথমবারের মতো ২৪টি দল থেকে বাড়িয়ে ৩২টি দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই বিশ্বকাপ বিশ্ব ফুটবলের পরিধিকে আরও বৈশ্বিক রূপ দেয়, যা ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার একচেটিয়া আধিপত্য ভেঙে আফ্রিকা, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্য নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছিল।

এই টুর্নামেন্টটির বড় একটি বৈশিষ্ট্য ছিল বহুসাংস্কৃতিক ফ্রান্সের সামাজিক ও রাজনৈতিক বিজয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যের পতনের পর আফ্রিকা ও উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা ব্যাপক অভিবাসীদের নিয়ে গঠিত ফরাসি দলটির নেতৃত্ব দেন আলজেরীয় বংশোদ্ভূত জিনেদিন জিদান। ফাইনালের ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে ব্রাজিলের ২১ বছর বয়সী বিশ্বসেরা তারকা রোনালদোর রহস্যময় অসুস্থতা ও খিঁচুনির খবর বিশ্বকে বিভ্রান্ত করে দেয়। মাঠের লড়াইয়ে রোনালদো নিজের ছায়া হয়ে থাকলে সেই সুযোগে জিনেদিন জিদানের প্রথমার্ধের দুটি চমৎকার হেড এবং শেষ মুহূর্তে ইমানুয়েল পেতির গোলে ব্রাজিলকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে ফ্রান্স।

এছাড়া ১৯৯৮ সালের এই বিশ্বকাপটি বেশ কিছু স্মরণীয় উত্থান-পতন, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ফুটবল রূপকথার জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। যুদ্ধবিধ্বস্ত নতুন স্বাধীন দেশ ক্রোয়েশিয়া দাভোর শুকারের অবিশ্বাস্য গোলবন্যার ওপর ভর করে কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করে ইতিহাস গড়ে। অন্যদিকে গ্রুপ পর্বে স্পেনের বিপক্ষে নাইজেরিয়ার ৩-২ ব্যবধানের ঐতিহাসিক জয় স্প্যানিশদের বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে আসরের সবচেয়ে বড় অঘটনের জন্ম দেয়।

নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত ম্যাচটিতে দিয়েগো সিমেওনের উসকানিতে ডেভিড বেকহ্যাম লাল কার্ড দেখলে ইংল্যান্ড টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয় এবং বেকহ্যাম রাতারাতি খলনায়কে পরিণত হন। কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নেদারল্যান্ডসের ডেনিস বার্গক্যাম্পের করা দর্শনীয় গোলটি আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত। সব মিলিয়ে দাভোর শুকারের গোল্ডেন বুট জয়, বেকহ্যামের পতন এবং রোনালদোর অমীমাংসিত রহস্যের বিপরীতে জিনেদিন জিদানের রাজমুকুট পরার মধ্য দিয়েই ফুটবলের এক নতুন যুগের সূচনা করেছিল ১৯৯৮ সালের ফরাসি গ্রীষ্ম।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


প্যারিসের আকাশে জিদানের উদয় ও রোনালদোর রহস্যময় ট্র্যাজেডি

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬

featured Image

১৯৯৮ সালের ১২ জুলাই প্যারিসের স্টেড দ্য ফ্রান্স স্টেডিয়ামে স্বাগতিক ফ্রান্স ও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটেছিল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম এক আবেগময় মহাকাব্যের। ৬০ বছর পর ফরাসি মাটিতে ফেরা এই আসরটি শুধু একটি শিরোপার লড়াই ছিল না, বরং তা ছিল নতুন বিশ্ব ফুটবল ব্যবস্থার এক ঘোষণাপত্র। ফিফার অধীনে প্রথমবারের মতো ২৪টি দল থেকে বাড়িয়ে ৩২টি দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই বিশ্বকাপ বিশ্ব ফুটবলের পরিধিকে আরও বৈশ্বিক রূপ দেয়, যা ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার একচেটিয়া আধিপত্য ভেঙে আফ্রিকা, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্য নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছিল।

এই টুর্নামেন্টটির বড় একটি বৈশিষ্ট্য ছিল বহুসাংস্কৃতিক ফ্রান্সের সামাজিক ও রাজনৈতিক বিজয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যের পতনের পর আফ্রিকা ও উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা ব্যাপক অভিবাসীদের নিয়ে গঠিত ফরাসি দলটির নেতৃত্ব দেন আলজেরীয় বংশোদ্ভূত জিনেদিন জিদান। ফাইনালের ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে ব্রাজিলের ২১ বছর বয়সী বিশ্বসেরা তারকা রোনালদোর রহস্যময় অসুস্থতা ও খিঁচুনির খবর বিশ্বকে বিভ্রান্ত করে দেয়। মাঠের লড়াইয়ে রোনালদো নিজের ছায়া হয়ে থাকলে সেই সুযোগে জিনেদিন জিদানের প্রথমার্ধের দুটি চমৎকার হেড এবং শেষ মুহূর্তে ইমানুয়েল পেতির গোলে ব্রাজিলকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে ফ্রান্স।

এছাড়া ১৯৯৮ সালের এই বিশ্বকাপটি বেশ কিছু স্মরণীয় উত্থান-পতন, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ফুটবল রূপকথার জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। যুদ্ধবিধ্বস্ত নতুন স্বাধীন দেশ ক্রোয়েশিয়া দাভোর শুকারের অবিশ্বাস্য গোলবন্যার ওপর ভর করে কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করে ইতিহাস গড়ে। অন্যদিকে গ্রুপ পর্বে স্পেনের বিপক্ষে নাইজেরিয়ার ৩-২ ব্যবধানের ঐতিহাসিক জয় স্প্যানিশদের বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে আসরের সবচেয়ে বড় অঘটনের জন্ম দেয়।

নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত ম্যাচটিতে দিয়েগো সিমেওনের উসকানিতে ডেভিড বেকহ্যাম লাল কার্ড দেখলে ইংল্যান্ড টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয় এবং বেকহ্যাম রাতারাতি খলনায়কে পরিণত হন। কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নেদারল্যান্ডসের ডেনিস বার্গক্যাম্পের করা দর্শনীয় গোলটি আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত। সব মিলিয়ে দাভোর শুকারের গোল্ডেন বুট জয়, বেকহ্যামের পতন এবং রোনালদোর অমীমাংসিত রহস্যের বিপরীতে জিনেদিন জিদানের রাজমুকুট পরার মধ্য দিয়েই ফুটবলের এক নতুন যুগের সূচনা করেছিল ১৯৯৮ সালের ফরাসি গ্রীষ্ম।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ