ঢাকা নিউজ

বিদ্রোহীদের বৈঠকের মাঝেই স্পিকারকে চিঠি অভিষেকের



বিদ্রোহীদের বৈঠকের মাঝেই স্পিকারকে চিঠি অভিষেকের
ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট এবার এক নতুন ও জটিল পর্যায়ে পৌঁছেছে। দলের একাংশের বিদ্রোহী সংসদ সদস্যরা লোকসভায় পৃথক গোষ্ঠী বা ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জোরালো চেষ্টা চালাচ্ছেন—এমন গুঞ্জনের মধ্যেই লোকসভার স্পিকারের কাছে একটি বিশেষ চিঠি পাঠিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিন পৃষ্ঠার ওই চিঠিতে অভিষেক দাবি করেছেন, তৃণমূল কংগ্রেস একটি সম্পূর্ণ অখণ্ড রাজনৈতিক দল এবং এর সংসদীয় দলটিও মূল দলেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফলে একই দলের অভ্যন্তরে অন্য কোনো সমান্তরাল বা পৃথক গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দেওয়ার কোনো আইনি সুযোগ নেই। রোববার বিকালে তৃণমূলপন্থী সংসদ সদস্য কীর্তি আজাদ ও সাগরিকা ঘোষ স্পিকারের বাসভবনে গিয়ে সরাসরি এই চিঠিটি জমা দেন। তাদের স্পষ্ট দাবি—সংবিধান এবং সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন পূর্ববর্তী পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দল ভেঙে এভাবে পৃথক পরিচয় তৈরি করার কোনো সুযোগ নেই।

তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই তৎপরতার ঠিক একই সময়ে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন বিক্ষুব্ধ ও বিদ্রোহী সংসদ সদস্যরা। ওই বৈঠকে তৃণমূলের একাধিক পরিচিত মুখকে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে, যা রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ও উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মূলত এই বিদ্রোহী শিবির যেন লোকসভায় পৃথক দল বা ব্লক গঠনের আবেদন জানাতে না পারে, সেই পথ আগেভাগেই বন্ধ করতে এবং নিজেদের দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করতে স্পিকারের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের এই কোন্দল এখন আর কেবল দলীয় সীমানায় আটকে নেই; এটি এখন সংসদীয় স্বীকৃতি, সাংবিধানিক ব্যাখ্যা এবং ভারতের জাতীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ সমীকরণের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও ভাঙনের জল্পনা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


বিদ্রোহীদের বৈঠকের মাঝেই স্পিকারকে চিঠি অভিষেকের

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

featured Image

পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট এবার এক নতুন ও জটিল পর্যায়ে পৌঁছেছে। দলের একাংশের বিদ্রোহী সংসদ সদস্যরা লোকসভায় পৃথক গোষ্ঠী বা ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জোরালো চেষ্টা চালাচ্ছেন—এমন গুঞ্জনের মধ্যেই লোকসভার স্পিকারের কাছে একটি বিশেষ চিঠি পাঠিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিন পৃষ্ঠার ওই চিঠিতে অভিষেক দাবি করেছেন, তৃণমূল কংগ্রেস একটি সম্পূর্ণ অখণ্ড রাজনৈতিক দল এবং এর সংসদীয় দলটিও মূল দলেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফলে একই দলের অভ্যন্তরে অন্য কোনো সমান্তরাল বা পৃথক গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দেওয়ার কোনো আইনি সুযোগ নেই। রোববার বিকালে তৃণমূলপন্থী সংসদ সদস্য কীর্তি আজাদ ও সাগরিকা ঘোষ স্পিকারের বাসভবনে গিয়ে সরাসরি এই চিঠিটি জমা দেন। তাদের স্পষ্ট দাবি—সংবিধান এবং সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন পূর্ববর্তী পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দল ভেঙে এভাবে পৃথক পরিচয় তৈরি করার কোনো সুযোগ নেই।

তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই তৎপরতার ঠিক একই সময়ে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন বিক্ষুব্ধ ও বিদ্রোহী সংসদ সদস্যরা। ওই বৈঠকে তৃণমূলের একাধিক পরিচিত মুখকে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে, যা রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ও উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মূলত এই বিদ্রোহী শিবির যেন লোকসভায় পৃথক দল বা ব্লক গঠনের আবেদন জানাতে না পারে, সেই পথ আগেভাগেই বন্ধ করতে এবং নিজেদের দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করতে স্পিকারের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের এই কোন্দল এখন আর কেবল দলীয় সীমানায় আটকে নেই; এটি এখন সংসদীয় স্বীকৃতি, সাংবিধানিক ব্যাখ্যা এবং ভারতের জাতীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ সমীকরণের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও ভাঙনের জল্পনা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ