দীর্ঘদিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে যুদ্ধ বন্ধের চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পর এই চুক্তির খসড়া সমঝোতা স্মারকের বিস্তারিত প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘মেহর নিউজ’।
চুক্তিতে থাকা প্রধান প্রধান শর্ত ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
স্থায়ী যুদ্ধবিরতি: লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান ও যুদ্ধ বন্ধ করা।
অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা: ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বা বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
নৌ অবরোধ প্রত্যাহার: আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত নৌ অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।
সেনা প্রত্যাহার: ইরান ও তার আশেপাশের নির্দিষ্ট অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করা।
হরমুজ প্রণালি উন্মুক্তকরণ: ইরানের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
পুনর্গঠন তহবিল: ইরানকে নতুন করে গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা একটি পুনর্গঠন পরিকল্পনা দেবে, যেখানে ন্যূনতম ৩০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হবে।
জ্বালানি খাতের নিষেধাজ্ঞা মুক্তি: ইরানের তেল, গ্যাসসহ সব ধরনের জ্বালানি পণ্যের ওপর থাকা দীর্ঘদিনের মার্কিন ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটবে।
পারমাণবিক অস্ত্র না বানানোর প্রতিশ্রুতি: ইরান কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বলে তাদের আগের অবস্থান ও প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
নতুন নিষেধাজ্ঞা না দেওয়া: ওই অঞ্চলে নতুন করে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি না করা এবং ইরানের ওপর নতুন কোনো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
চূড়ান্ত শর্ত: বার্তা সংস্থা মেহরের তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার আওতায় জব্দ থাকা ইরানের মোট তহবিলের অন্তত অর্ধেক অংশ ফিরিয়ে না দেওয়া, তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নেওয়া এবং মার্কিন নৌ অবরোধ দৃশ্যত প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত চুক্তির আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে না। এছাড়া এই চূড়ান্ত চুক্তিটি পরবর্তীতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত হবে।
চুক্তির বিষয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, অন্য সব প্রেসিডেন্ট যেখানে ইরানের সাথে শান্তি স্থাপনে ব্যর্থ হয়েছেন, সেখানে তিনি সফল হয়েছেন। তিনি জানান, আগামী শুক্রবার (১৯ জুনের) আনুষ্ঠানিক সই এবং হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের পর পুরো বিশ্বের জন্য তেল পরিবহন স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের এই আকস্মিক চুক্তিকে মোটেও সহজভাবে নেয়নি ইসরাইল। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অনুগত ডানপন্থি সংবাদমাধ্যমগুলো ইতিমধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা শুরু করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইস্যুতে এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আর এক অবস্থানে নেই। এই চুক্তির ফলে ইসরাইল এখন লেবাননে বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে এবং সেখান থেকে সেনা সরিয়ে নিতে বাধ্য হতে পারে। ইসরাইলের কট্টরপন্থিরা বিষয়টিকে তাদের জন্য একটি বড় ‘কৌশলগত ও রাজনৈতিক পরাজয়’ এবং তেহরানের জন্য বিশাল বিজয় হিসেবে দেখছেন, যা তাদের ক্ষোভের মূল কারণ।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
দীর্ঘদিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে যুদ্ধ বন্ধের চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পর এই চুক্তির খসড়া সমঝোতা স্মারকের বিস্তারিত প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘মেহর নিউজ’।
চুক্তিতে থাকা প্রধান প্রধান শর্ত ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
স্থায়ী যুদ্ধবিরতি: লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান ও যুদ্ধ বন্ধ করা।
অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা: ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বা বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
নৌ অবরোধ প্রত্যাহার: আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত নৌ অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।
সেনা প্রত্যাহার: ইরান ও তার আশেপাশের নির্দিষ্ট অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করা।
হরমুজ প্রণালি উন্মুক্তকরণ: ইরানের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
পুনর্গঠন তহবিল: ইরানকে নতুন করে গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা একটি পুনর্গঠন পরিকল্পনা দেবে, যেখানে ন্যূনতম ৩০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হবে।
জ্বালানি খাতের নিষেধাজ্ঞা মুক্তি: ইরানের তেল, গ্যাসসহ সব ধরনের জ্বালানি পণ্যের ওপর থাকা দীর্ঘদিনের মার্কিন ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটবে।
পারমাণবিক অস্ত্র না বানানোর প্রতিশ্রুতি: ইরান কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বলে তাদের আগের অবস্থান ও প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
নতুন নিষেধাজ্ঞা না দেওয়া: ওই অঞ্চলে নতুন করে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি না করা এবং ইরানের ওপর নতুন কোনো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
চূড়ান্ত শর্ত: বার্তা সংস্থা মেহরের তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার আওতায় জব্দ থাকা ইরানের মোট তহবিলের অন্তত অর্ধেক অংশ ফিরিয়ে না দেওয়া, তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নেওয়া এবং মার্কিন নৌ অবরোধ দৃশ্যত প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত চুক্তির আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে না। এছাড়া এই চূড়ান্ত চুক্তিটি পরবর্তীতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত হবে।
চুক্তির বিষয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, অন্য সব প্রেসিডেন্ট যেখানে ইরানের সাথে শান্তি স্থাপনে ব্যর্থ হয়েছেন, সেখানে তিনি সফল হয়েছেন। তিনি জানান, আগামী শুক্রবার (১৯ জুনের) আনুষ্ঠানিক সই এবং হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের পর পুরো বিশ্বের জন্য তেল পরিবহন স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের এই আকস্মিক চুক্তিকে মোটেও সহজভাবে নেয়নি ইসরাইল। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অনুগত ডানপন্থি সংবাদমাধ্যমগুলো ইতিমধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা শুরু করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইস্যুতে এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আর এক অবস্থানে নেই। এই চুক্তির ফলে ইসরাইল এখন লেবাননে বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে এবং সেখান থেকে সেনা সরিয়ে নিতে বাধ্য হতে পারে। ইসরাইলের কট্টরপন্থিরা বিষয়টিকে তাদের জন্য একটি বড় ‘কৌশলগত ও রাজনৈতিক পরাজয়’ এবং তেহরানের জন্য বিশাল বিজয় হিসেবে দেখছেন, যা তাদের ক্ষোভের মূল কারণ।

আপনার মতামত লিখুন