ঢাকা নিউজ

পেশির চাপ ও ক্র্যাম্পের ঝুঁকি কমাতে ফুটবলারদের মোজায় বড় বড় ফুটো



পেশির চাপ ও ক্র্যাম্পের ঝুঁকি কমাতে ফুটবলারদের মোজায় বড় বড় ফুটো
ছবি : সংগৃহীত

চলতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম, জার্মানির লেরয় সানে কিংবা অস্ট্রেলিয়ার অধিকাংশ খেলোয়াড়দের মোজার পেছনের দিকটা খেয়াল করলে দেখা যাচ্ছে বড় বড় ফুটো বা কাটা অংশ। ক্রীড়াবিষয়ক ওয়েবসাইট 'দ্য অ্যাথলেটিক' খেলোয়াড়দের মোজার এমন অদ্ভুত দশার মূল কারণ খুঁজে বের করেছে, যার প্রধান উত্তর হচ্ছে আরাম এবং স্বাধীনভাবে নড়াচড়া করার সুবিধা। আধুনিক ফুটবল মোজাগুলো মূলত পলিয়েস্টার দিয়ে তৈরি হওয়ায় তা বেশ টেকসই ও জলরোধী হলেও পায়ে চড়ালে কিছুটা আড়ষ্ট লাগে। ফলে অনেক খেলোয়াড় মনে করেন যে পেছনে ফুটো থাকলে পায়ের পেশিতে চাপ কমে, রক্ত চলাচল ভালো হয় এবং ক্র্যাম্পের ঝুঁকি কমে।

খেলোয়াড়দের এই ধারণার সাথে অবশ্য চিকিৎসাবিশেষজ্ঞরা একমত নন। ফুটবলারদের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান 'থ্রিসিবি পারফরম্যান্স'-এর চিকিৎসক রাজ ব্রার জানান, মোজা কাটলে পায়ের চাপ কমে—এর পক্ষে কোনো চিকিৎসাগত প্রমাণ নেই। বরং মাঠের বাইরে রিকভারির জন্য হাই-প্রেশার কম্প্রেশন মোজা বেশি কার্যকর, যা রক্ত চলাচল বাড়াতে এবং ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে। মোজা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান 'হামেল'-এর সাবেক প্রধান নির্বাহী অ্যালান ভাদ নিলসেন জানান, কিছু ব্র্যান্ড লোগো স্পষ্ট রাখতে মোজা এতটা শক্ত করে বোনে যে তা পরতে কষ্ট হয়। তবে বর্তমানে নতুন প্রযুক্তিতে কুশনিং ও কম্প্রেশন জোন যোগ করা হচ্ছে যাতে পা ঠান্ডা ও শুকনা থাকে।

সাবেক খেলোয়াড়দের অনেকেই আবার বেলিংহাম-সানেদের এভাবে কাঁচি দিয়ে মোজা কাটাটাকে ইতিবাচকভাবে নিতে পারছেন না। সাবেক ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল ২০২৪ সালে তার এক পডকাস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, খেলোয়াড়দের কাছে চার শ জোড়া বুট মাপে তৈরি হয়ে থাকলেও নাইকি বা স্পনসররা তাদের একটু বড় সাইজের মোজা দিতে পারবে না—এটি তিনি মানেন না। তবে চিকিৎসাগত ভিন্ন মত কিংবা সাবেক তারকাদের সমালোচনা সত্ত্বেও চলমান বিশ্বকাপে ফুটবলারদের এমন ফুটো করা মোজা পরে মাঠে নামার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬


পেশির চাপ ও ক্র্যাম্পের ঝুঁকি কমাতে ফুটবলারদের মোজায় বড় বড় ফুটো

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুন ২০২৬

featured Image

চলতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম, জার্মানির লেরয় সানে কিংবা অস্ট্রেলিয়ার অধিকাংশ খেলোয়াড়দের মোজার পেছনের দিকটা খেয়াল করলে দেখা যাচ্ছে বড় বড় ফুটো বা কাটা অংশ। ক্রীড়াবিষয়ক ওয়েবসাইট 'দ্য অ্যাথলেটিক' খেলোয়াড়দের মোজার এমন অদ্ভুত দশার মূল কারণ খুঁজে বের করেছে, যার প্রধান উত্তর হচ্ছে আরাম এবং স্বাধীনভাবে নড়াচড়া করার সুবিধা। আধুনিক ফুটবল মোজাগুলো মূলত পলিয়েস্টার দিয়ে তৈরি হওয়ায় তা বেশ টেকসই ও জলরোধী হলেও পায়ে চড়ালে কিছুটা আড়ষ্ট লাগে। ফলে অনেক খেলোয়াড় মনে করেন যে পেছনে ফুটো থাকলে পায়ের পেশিতে চাপ কমে, রক্ত চলাচল ভালো হয় এবং ক্র্যাম্পের ঝুঁকি কমে।

খেলোয়াড়দের এই ধারণার সাথে অবশ্য চিকিৎসাবিশেষজ্ঞরা একমত নন। ফুটবলারদের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান 'থ্রিসিবি পারফরম্যান্স'-এর চিকিৎসক রাজ ব্রার জানান, মোজা কাটলে পায়ের চাপ কমে—এর পক্ষে কোনো চিকিৎসাগত প্রমাণ নেই। বরং মাঠের বাইরে রিকভারির জন্য হাই-প্রেশার কম্প্রেশন মোজা বেশি কার্যকর, যা রক্ত চলাচল বাড়াতে এবং ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে। মোজা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান 'হামেল'-এর সাবেক প্রধান নির্বাহী অ্যালান ভাদ নিলসেন জানান, কিছু ব্র্যান্ড লোগো স্পষ্ট রাখতে মোজা এতটা শক্ত করে বোনে যে তা পরতে কষ্ট হয়। তবে বর্তমানে নতুন প্রযুক্তিতে কুশনিং ও কম্প্রেশন জোন যোগ করা হচ্ছে যাতে পা ঠান্ডা ও শুকনা থাকে।

সাবেক খেলোয়াড়দের অনেকেই আবার বেলিংহাম-সানেদের এভাবে কাঁচি দিয়ে মোজা কাটাটাকে ইতিবাচকভাবে নিতে পারছেন না। সাবেক ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল ২০২৪ সালে তার এক পডকাস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, খেলোয়াড়দের কাছে চার শ জোড়া বুট মাপে তৈরি হয়ে থাকলেও নাইকি বা স্পনসররা তাদের একটু বড় সাইজের মোজা দিতে পারবে না—এটি তিনি মানেন না। তবে চিকিৎসাগত ভিন্ন মত কিংবা সাবেক তারকাদের সমালোচনা সত্ত্বেও চলমান বিশ্বকাপে ফুটবলারদের এমন ফুটো করা মোজা পরে মাঠে নামার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ