ঢাকা নিউজ

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ: তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে ভারতের অর্থনীতি



হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ: তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে ভারতের অর্থনীতি
ছবি : সংগৃহীত

গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে অবরোধের ঘোষণা হাজার হাজার মাইল দূরে অবস্থিত ভারতে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। ১৪০ কোটি জনসংখ্যার এই দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাসের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় এই সরবরাহ ব্যবস্থায় যে কোনো বিঘ্ন তীব্র জ্বালানি সংকটের সূত্রপাত করতে পারে, যা ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিকে স্থবির করে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হামলা শুরু করার পর থেকে হরমুজ প্রণালির ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে তেহরান। বিশ্বব্যাপী তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথে পরিবাহিত হয়, যা এখন প্রায় অচল অবস্থায় রয়েছে। যদিও ইরান নিজের জাহাজ চলাচল চালু রেখেছে এবং অন্যান্য দেশের কিছু জাহাজকে সীমিতভাবে চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে।

গত শনিবার পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত স্থায়ী যুদ্ধবিরতি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন সামরিক বাহিনী সোমবার থেকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-চলাচলের ওপর অবরোধ আরোপের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এমন হুমকির পর পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের বন্দরগুলো নিয়ে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।

এর আগে ইরান কর্তৃক প্রণালি অবরুদ্ধের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি ঘাটতির মাঝে ভারত বিশেষ অনুমতি বা ‘সেফ প্যাসেজ’ পাওয়া অল্প কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি ছিল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবারও ভারতের পতাকাবাহী একটি এলপিজি জাহাজ নিরাপদে এই প্রণালী অতিক্রম করেছে, যার ফলে মোট জাহাজ পারাপারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯টিতে। তবে মার্কিন অবরোধ কার্যকর হলে ভারতের জন্য অবশিষ্ট এই সামান্য সুযোগটুকুও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

গ্যাসের মজুত ফুরিয়ে আসায় বর্তমানে নয়াদিল্লি বাণিজ্যিক খাতের পরিবর্তে সাধারণ পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য হয়েছে। এর ফলে অনেক রেস্তোরাঁ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল শিল্প-প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রাকে চরম সংকটে ফেলেছে।

জ্বালানি ও খাবারের খরচ মেটানোর সামর্থ্য হারিয়ে মুম্বাই এবং দিল্লির মতো বড় শহরগুলো থেকে অনেক অভিবাসী শ্রমিক নিজ গ্রামে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। ভারত এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের জন্য কোনো প্রকার অর্থ প্রদানের বিষয়টি অস্বীকার করলেও, মার্কিন এই হুমকি নয়াদিল্লি ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক চুক্তির ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

বর্তমানে পারস্য উপসাগর থেকে বের হওয়ার অপেক্ষায় ভারতের এক ডজনেরও বেশি জাহাজ আটকে আছে। মার্কিন অবরোধ কার্যকর হলে এই জাহাজগুলো মাঝসমুদ্রে আটকা পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভারতকে এই ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের আরও গভীরে টেনে নিয়ে যাবে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬


হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ: তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে ভারতের অর্থনীতি

প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে অবরোধের ঘোষণা হাজার হাজার মাইল দূরে অবস্থিত ভারতে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। ১৪০ কোটি জনসংখ্যার এই দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাসের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় এই সরবরাহ ব্যবস্থায় যে কোনো বিঘ্ন তীব্র জ্বালানি সংকটের সূত্রপাত করতে পারে, যা ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিকে স্থবির করে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হামলা শুরু করার পর থেকে হরমুজ প্রণালির ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে তেহরান। বিশ্বব্যাপী তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথে পরিবাহিত হয়, যা এখন প্রায় অচল অবস্থায় রয়েছে। যদিও ইরান নিজের জাহাজ চলাচল চালু রেখেছে এবং অন্যান্য দেশের কিছু জাহাজকে সীমিতভাবে চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে।

গত শনিবার পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত স্থায়ী যুদ্ধবিরতি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন সামরিক বাহিনী সোমবার থেকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-চলাচলের ওপর অবরোধ আরোপের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এমন হুমকির পর পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের বন্দরগুলো নিয়ে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।

এর আগে ইরান কর্তৃক প্রণালি অবরুদ্ধের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি ঘাটতির মাঝে ভারত বিশেষ অনুমতি বা ‘সেফ প্যাসেজ’ পাওয়া অল্প কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি ছিল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবারও ভারতের পতাকাবাহী একটি এলপিজি জাহাজ নিরাপদে এই প্রণালী অতিক্রম করেছে, যার ফলে মোট জাহাজ পারাপারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯টিতে। তবে মার্কিন অবরোধ কার্যকর হলে ভারতের জন্য অবশিষ্ট এই সামান্য সুযোগটুকুও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

গ্যাসের মজুত ফুরিয়ে আসায় বর্তমানে নয়াদিল্লি বাণিজ্যিক খাতের পরিবর্তে সাধারণ পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য হয়েছে। এর ফলে অনেক রেস্তোরাঁ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল শিল্প-প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রাকে চরম সংকটে ফেলেছে।

জ্বালানি ও খাবারের খরচ মেটানোর সামর্থ্য হারিয়ে মুম্বাই এবং দিল্লির মতো বড় শহরগুলো থেকে অনেক অভিবাসী শ্রমিক নিজ গ্রামে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। ভারত এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের জন্য কোনো প্রকার অর্থ প্রদানের বিষয়টি অস্বীকার করলেও, মার্কিন এই হুমকি নয়াদিল্লি ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক চুক্তির ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

বর্তমানে পারস্য উপসাগর থেকে বের হওয়ার অপেক্ষায় ভারতের এক ডজনেরও বেশি জাহাজ আটকে আছে। মার্কিন অবরোধ কার্যকর হলে এই জাহাজগুলো মাঝসমুদ্রে আটকা পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভারতকে এই ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের আরও গভীরে টেনে নিয়ে যাবে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ