মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালি ঘিরে চরম উত্তেজনার মধ্যেই এবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মালাক্কা প্রণালির দিকে নজর বাড়াচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে সাম্প্রতিক এক প্রতিরক্ষা চুক্তির পর এই নতুন ভূ-রাজনৈতিক গুঞ্জন জোরালো হয়েছে। এই চুক্তির ফলে মার্কিন সামরিক বিমানগুলো ইন্দোনেশিয়ার আকাশসীমায় আরও বিস্তৃতভাবে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পাবে, যাকে বিশ্লেষকরা মালাক্কা প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি ও সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখছেন।
ভারত মহাসাগর ও পূর্ব এশিয়াকে সংযুক্তকারী মালাক্কা প্রণালি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম বাণিজ্যপথ। জ্বালানি তেল ছাড়াও ইলেকট্রনিকস, তৈরি পোশাক ও শিল্পপণ্য পরিবহনের জন্য এটি বৈশ্বিক বাণিজ্যের ‘লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে চীন এই রুটের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় এই অঞ্চলটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল।
মালাক্কা প্রণালি ঘিরে পরিবর্তিত এই পরিস্থিতি ভারতকে এক সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে এসেছে। প্রণালির পশ্চিম প্রবেশমুখে অবস্থিত ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ একটি প্রাকৃতিক নজরদারি কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে ক্যাম্পবেল বে-তে অবস্থিত ভারতের দক্ষিণতম বিমানঘাঁটি এই অঞ্চলের সমুদ্রপথ পর্যবেক্ষণে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। এই ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে এ অঞ্চলে চীনের প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে মালাক্কা প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তার সহজ হবে না। ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কড়া অবস্থান বজায় রেখেছে। অন্যদিকে, সিঙ্গাপুর তাদের উন্নত বন্দর ও বৈশ্বিক শিপিং ব্যবস্থার মাধ্যমে এই প্রণালির অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা পালন করে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন এখন মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতেও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডোরগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখার একটি বৃহত্তর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন এক মাত্রা যোগ করতে পারে।

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালি ঘিরে চরম উত্তেজনার মধ্যেই এবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মালাক্কা প্রণালির দিকে নজর বাড়াচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে সাম্প্রতিক এক প্রতিরক্ষা চুক্তির পর এই নতুন ভূ-রাজনৈতিক গুঞ্জন জোরালো হয়েছে। এই চুক্তির ফলে মার্কিন সামরিক বিমানগুলো ইন্দোনেশিয়ার আকাশসীমায় আরও বিস্তৃতভাবে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পাবে, যাকে বিশ্লেষকরা মালাক্কা প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি ও সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখছেন।
ভারত মহাসাগর ও পূর্ব এশিয়াকে সংযুক্তকারী মালাক্কা প্রণালি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম বাণিজ্যপথ। জ্বালানি তেল ছাড়াও ইলেকট্রনিকস, তৈরি পোশাক ও শিল্পপণ্য পরিবহনের জন্য এটি বৈশ্বিক বাণিজ্যের ‘লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে চীন এই রুটের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় এই অঞ্চলটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল।
মালাক্কা প্রণালি ঘিরে পরিবর্তিত এই পরিস্থিতি ভারতকে এক সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে এসেছে। প্রণালির পশ্চিম প্রবেশমুখে অবস্থিত ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ একটি প্রাকৃতিক নজরদারি কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে ক্যাম্পবেল বে-তে অবস্থিত ভারতের দক্ষিণতম বিমানঘাঁটি এই অঞ্চলের সমুদ্রপথ পর্যবেক্ষণে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। এই ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে এ অঞ্চলে চীনের প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে মালাক্কা প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তার সহজ হবে না। ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কড়া অবস্থান বজায় রেখেছে। অন্যদিকে, সিঙ্গাপুর তাদের উন্নত বন্দর ও বৈশ্বিক শিপিং ব্যবস্থার মাধ্যমে এই প্রণালির অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা পালন করে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন এখন মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতেও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডোরগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখার একটি বৃহত্তর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন এক মাত্রা যোগ করতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন