ঢাকা নিউজ

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরানের নতুন প্রস্তাব: শর্তযুক্ত ছাড়ের ঘোষণা



হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরানের নতুন প্রস্তাব: শর্তযুক্ত ছাড়ের ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিষয়ে একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, ইরান শর্তসাপেক্ষে প্রণালির ওমান অংশ দিয়ে জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা দেবে না বলে জানিয়েছে। তবে এই প্রস্তাবটি তখনই কার্যকর হবে যখন ওয়াশিংটন তেহরানের দেওয়া দাবিগুলো মেনে নেবে।

১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রণালিটি পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে যুক্ত করেছে, যার উত্তর উপকূলে ইরান এবং দক্ষিণ উপকূলে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অবস্থিত। বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের জন্য এর গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ এই দেশগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি পণ্য এই পথেই আসে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান এই প্রণালিতে অবরোধ জারি করে। এর ফলে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করলেও বর্তমানে শত শত জাহাজ এবং প্রায় ২ হাজার ক্রু সেখানে আটকা পড়ে আছেন। এই অবরোধের কারণে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজগুলো ঘুরপথে চলতে বাধ্য হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে এবং সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই নতুন প্রস্তাব আন্তর্জাতিক মহলে কিছুটা স্বস্তি দিলেও এর বাস্তবায়ন পুরোপুরি নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর। জ্বালানি নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা রক্ষায় হরমুজ প্রণালির এই অচলাবস্থা নিরসন এখন সময়ের দাবি। মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোও এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই কূটনৈতিক দরকষাকষির দিকে তাকিয়ে আছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬


হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরানের নতুন প্রস্তাব: শর্তযুক্ত ছাড়ের ঘোষণা

প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিষয়ে একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, ইরান শর্তসাপেক্ষে প্রণালির ওমান অংশ দিয়ে জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা দেবে না বলে জানিয়েছে। তবে এই প্রস্তাবটি তখনই কার্যকর হবে যখন ওয়াশিংটন তেহরানের দেওয়া দাবিগুলো মেনে নেবে।

১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রণালিটি পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে যুক্ত করেছে, যার উত্তর উপকূলে ইরান এবং দক্ষিণ উপকূলে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অবস্থিত। বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের জন্য এর গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ এই দেশগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি পণ্য এই পথেই আসে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান এই প্রণালিতে অবরোধ জারি করে। এর ফলে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করলেও বর্তমানে শত শত জাহাজ এবং প্রায় ২ হাজার ক্রু সেখানে আটকা পড়ে আছেন। এই অবরোধের কারণে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজগুলো ঘুরপথে চলতে বাধ্য হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে এবং সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই নতুন প্রস্তাব আন্তর্জাতিক মহলে কিছুটা স্বস্তি দিলেও এর বাস্তবায়ন পুরোপুরি নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর। জ্বালানি নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা রক্ষায় হরমুজ প্রণালির এই অচলাবস্থা নিরসন এখন সময়ের দাবি। মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোও এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই কূটনৈতিক দরকষাকষির দিকে তাকিয়ে আছে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ