ভারতে আবারও ‘অনুপ্রবেশ’ ইস্যু সামনে এনে কড়া অবস্থানের বার্তা দিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে গুজরাটের গান্ধীনগরে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া তাঁর এই বক্তব্যের সঙ্গে কেন্দ্র সরকারের নিজস্ব দাপ্তরিক তথ্যের অসঙ্গতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে এক নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অমিত শাহ দাবি করেন, বেআইনি অনুপ্রবেশের মাধ্যমে দেশের জনবিন্যাস বদলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় গঠিত একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন আইন আনার বিষয় বিবেচনা করা হবে। পশ্চিমবঙ্গ প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, আগে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ১০ হাজার মানুষ পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করত, আর এখন সেই সংখ্যক মানুষই বাংলাদেশে ফিরে যাচ্ছে।
কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই বক্তব্যের সঙ্গে তাঁর নিজের মন্ত্রণালয়ের তথ্যেরই বড় ফারাক সামনে এসেছে। গত বছর রাজ্যসভায় দেওয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লিখিত জবাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে পশ্চিমবঙ্গ অংশে ১৫৪৭ জন, ২০২৪ সালে ১৬৬৪ জন এবং ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ৭২৩ জন অনুপ্রবেশকারীকে বিএসএফ আটক করেছে; যা অমিত শাহের প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের সীমান্ত পারাপারের দাবির সঙ্গে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ।
পাশাপাশি সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার জন্য জমি হস্তান্তর নিয়েও বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। অমিত শাহ যেখানে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ জমি বিএসএফকে দেওয়ার দাবি করেছেন, সেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট বলছে, এখন পর্যন্ত মাত্র ১৪২ দশমিক ৭৯ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সীমান্তে পশ্চিমবঙ্গ অংশের একটি বড় এলাকায় এখনো কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ বাকি রয়েছে এবং অনেক জায়গায় ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াও শেষ হয়নি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাস্তব পরিস্থিতির চেয়ে বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অনেক বড় করে তুলে ধরে আগামী নির্বাচনের আগে নতুন মেরুকরণের চেষ্টা চলছে। সরকারি দাপ্তরিক তথ্য এবং রাজনৈতিক বক্তব্যের এই অমিল এখন কেন্দ্রের অবস্থানকেই বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ মে ২০২৬
ভারতে আবারও ‘অনুপ্রবেশ’ ইস্যু সামনে এনে কড়া অবস্থানের বার্তা দিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে গুজরাটের গান্ধীনগরে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া তাঁর এই বক্তব্যের সঙ্গে কেন্দ্র সরকারের নিজস্ব দাপ্তরিক তথ্যের অসঙ্গতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে এক নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অমিত শাহ দাবি করেন, বেআইনি অনুপ্রবেশের মাধ্যমে দেশের জনবিন্যাস বদলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় গঠিত একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন আইন আনার বিষয় বিবেচনা করা হবে। পশ্চিমবঙ্গ প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, আগে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ১০ হাজার মানুষ পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করত, আর এখন সেই সংখ্যক মানুষই বাংলাদেশে ফিরে যাচ্ছে।
কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই বক্তব্যের সঙ্গে তাঁর নিজের মন্ত্রণালয়ের তথ্যেরই বড় ফারাক সামনে এসেছে। গত বছর রাজ্যসভায় দেওয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লিখিত জবাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে পশ্চিমবঙ্গ অংশে ১৫৪৭ জন, ২০২৪ সালে ১৬৬৪ জন এবং ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ৭২৩ জন অনুপ্রবেশকারীকে বিএসএফ আটক করেছে; যা অমিত শাহের প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের সীমান্ত পারাপারের দাবির সঙ্গে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ।
পাশাপাশি সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার জন্য জমি হস্তান্তর নিয়েও বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। অমিত শাহ যেখানে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ জমি বিএসএফকে দেওয়ার দাবি করেছেন, সেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট বলছে, এখন পর্যন্ত মাত্র ১৪২ দশমিক ৭৯ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সীমান্তে পশ্চিমবঙ্গ অংশের একটি বড় এলাকায় এখনো কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ বাকি রয়েছে এবং অনেক জায়গায় ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াও শেষ হয়নি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাস্তব পরিস্থিতির চেয়ে বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অনেক বড় করে তুলে ধরে আগামী নির্বাচনের আগে নতুন মেরুকরণের চেষ্টা চলছে। সরকারি দাপ্তরিক তথ্য এবং রাজনৈতিক বক্তব্যের এই অমিল এখন কেন্দ্রের অবস্থানকেই বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন