যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে সম্প্রতি যে সাতটি দাবি করেছেন, সেগুলোর সবই ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (X) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। গালিবাফ স্পষ্ট করে বলেন, মিথ্যা তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধেও জয়ী হতে পারেনি এবং আসন্ন আলোচনাতেও কোনো সুবিধা করতে পারবে না।
এর আগে শুক্রবার দিনের শুরুতে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরান হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে খুলে দিতে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করতে সম্মত হয়েছে। এছাড়াও তিনি দাবি করেন, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তরে রাজি হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় সমুদ্র থেকে মাইন সরিয়ে ফেলছে। ট্রাম্পের এসব ইতিবাচক বার্তার বিপরীতে গালিবাফ বলেন, অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি কখনোই পুরোপুরি খোলা থাকবে না।
গালিবাফ আরও জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল শুধুমাত্র ইরানের নির্ধারিত রুট এবং অনুমোদনের ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে। তিনি মন্তব্য করেন যে, আন্তর্জাতিক এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিয়মকানুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের পোস্টের মাধ্যমে নির্ধারিত হতে পারে না।
উল্লেখ্য, আগামী সোমবার (২০ এপ্রিল) পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার উচ্চ-পর্যায়ের শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাম্প এই আলোচনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও গালিবাফের এই কঠোর অবস্থান নির্দেশ করছে যে, দুই পক্ষের মধ্যে এখনও বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। বিশেষ করে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে রশি টানাটানি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এক নজরে ট্রাম্পের যে দাবিগুলো গালিবাফ প্রত্যাখ্যান করেছেন:
ইরান কখনোই হরমুজ প্রণালি বন্ধ না করতে সম্মত হয়েছে।
ইরান অনির্দিষ্টকালের জন্য পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করেছে।
সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করতে ইরান রাজি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় সমুদ্র থেকে মাইন সরানো হচ্ছে।
চুক্তির বিষয়ে ইরানের সঙ্গে বড় কোনো মতপার্থক্য নেই।

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে সম্প্রতি যে সাতটি দাবি করেছেন, সেগুলোর সবই ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (X) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। গালিবাফ স্পষ্ট করে বলেন, মিথ্যা তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধেও জয়ী হতে পারেনি এবং আসন্ন আলোচনাতেও কোনো সুবিধা করতে পারবে না।
এর আগে শুক্রবার দিনের শুরুতে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরান হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে খুলে দিতে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করতে সম্মত হয়েছে। এছাড়াও তিনি দাবি করেন, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তরে রাজি হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় সমুদ্র থেকে মাইন সরিয়ে ফেলছে। ট্রাম্পের এসব ইতিবাচক বার্তার বিপরীতে গালিবাফ বলেন, অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি কখনোই পুরোপুরি খোলা থাকবে না।
গালিবাফ আরও জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল শুধুমাত্র ইরানের নির্ধারিত রুট এবং অনুমোদনের ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে। তিনি মন্তব্য করেন যে, আন্তর্জাতিক এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিয়মকানুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের পোস্টের মাধ্যমে নির্ধারিত হতে পারে না।
উল্লেখ্য, আগামী সোমবার (২০ এপ্রিল) পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার উচ্চ-পর্যায়ের শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাম্প এই আলোচনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও গালিবাফের এই কঠোর অবস্থান নির্দেশ করছে যে, দুই পক্ষের মধ্যে এখনও বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। বিশেষ করে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে রশি টানাটানি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এক নজরে ট্রাম্পের যে দাবিগুলো গালিবাফ প্রত্যাখ্যান করেছেন:
ইরান কখনোই হরমুজ প্রণালি বন্ধ না করতে সম্মত হয়েছে।
ইরান অনির্দিষ্টকালের জন্য পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করেছে।
সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করতে ইরান রাজি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় সমুদ্র থেকে মাইন সরানো হচ্ছে।
চুক্তির বিষয়ে ইরানের সঙ্গে বড় কোনো মতপার্থক্য নেই।

আপনার মতামত লিখুন