ঢাকা নিউজ

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে ইউরোপে বৈদ্যুতিক গাড়ির রেকর্ড বিক্রি



জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে ইউরোপে বৈদ্যুতিক গাড়ির রেকর্ড বিক্রি
ছবি : সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউরোপের দেশগুলোতে বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) চাহিদা ও বিক্রি রেকর্ড ছাড়িয়েছে। গত মার্চ মাসে ইউরোপের প্রধান বাজারগুলোতে এই গাড়ির বিক্রি আগের বছরের তুলনায় ৫১ শতাংশ বেড়েছে। ‘নিউ অটোমোটিভ’ ও ‘ই-মবিলিটি ইউরোপ’-এর তথ্যমতে, কেবল মার্চ মাসেই ২ লাখ ২৪ হাজার নতুন ইলেকট্রিক গাড়ি নিবন্ধিত হয়েছে, যা ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি বন্ধের ফলে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ক্রেতারা পেট্রোল ও ডিজেল চালিত গাড়ির পরিবর্তে সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে ঝুঁকছেন। এই রূপান্তরের দৌড়ে নরওয়ে অবিশ্বাস্য সাফল্য দেখিয়েছে, যেখানে নতুন বিক্রি হওয়া গাড়ির ৯৮ শতাংশই বৈদ্যুতিক। এছাড়া ডেনমার্কে ৭৬ শতাংশ এবং ফিনল্যান্ডে প্রায় ৫০ শতাংশ বাজার এখন বৈদ্যুতিক গাড়ির দখলে। জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালির মতো বড় বাজারগুলোতেও প্রথম প্রান্তিকে গড় ব্যবহার ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

বৈদ্যুতিক গাড়ি জনপ্রিয় করতে ফ্রান্স সরকার সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। দেশটি নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য প্রায় ৫,৭০০ ইউরো পর্যন্ত ভর্তুকি এবং নামমাত্র খরচে গাড়ি লিজ নেওয়ার জন্য ‘সোশ্যাল লিজিং’ স্কিম চালু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত এই রূপান্তরের ফলে বছরে তেলের চাহিদা প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল হ্রাস পাবে। বর্তমানে ইউরোপে উৎপাদিত বৈদ্যুতিক গাড়ির অর্ধেকই তৈরি হচ্ছে জার্মানিতে, যা এই অঞ্চলে দেশটির শিল্প সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬


জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে ইউরোপে বৈদ্যুতিক গাড়ির রেকর্ড বিক্রি

প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউরোপের দেশগুলোতে বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) চাহিদা ও বিক্রি রেকর্ড ছাড়িয়েছে। গত মার্চ মাসে ইউরোপের প্রধান বাজারগুলোতে এই গাড়ির বিক্রি আগের বছরের তুলনায় ৫১ শতাংশ বেড়েছে। ‘নিউ অটোমোটিভ’ ও ‘ই-মবিলিটি ইউরোপ’-এর তথ্যমতে, কেবল মার্চ মাসেই ২ লাখ ২৪ হাজার নতুন ইলেকট্রিক গাড়ি নিবন্ধিত হয়েছে, যা ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি বন্ধের ফলে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ক্রেতারা পেট্রোল ও ডিজেল চালিত গাড়ির পরিবর্তে সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে ঝুঁকছেন। এই রূপান্তরের দৌড়ে নরওয়ে অবিশ্বাস্য সাফল্য দেখিয়েছে, যেখানে নতুন বিক্রি হওয়া গাড়ির ৯৮ শতাংশই বৈদ্যুতিক। এছাড়া ডেনমার্কে ৭৬ শতাংশ এবং ফিনল্যান্ডে প্রায় ৫০ শতাংশ বাজার এখন বৈদ্যুতিক গাড়ির দখলে। জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালির মতো বড় বাজারগুলোতেও প্রথম প্রান্তিকে গড় ব্যবহার ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

বৈদ্যুতিক গাড়ি জনপ্রিয় করতে ফ্রান্স সরকার সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। দেশটি নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য প্রায় ৫,৭০০ ইউরো পর্যন্ত ভর্তুকি এবং নামমাত্র খরচে গাড়ি লিজ নেওয়ার জন্য ‘সোশ্যাল লিজিং’ স্কিম চালু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত এই রূপান্তরের ফলে বছরে তেলের চাহিদা প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল হ্রাস পাবে। বর্তমানে ইউরোপে উৎপাদিত বৈদ্যুতিক গাড়ির অর্ধেকই তৈরি হচ্ছে জার্মানিতে, যা এই অঞ্চলে দেশটির শিল্প সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ