রাশিয়া ও আফগানিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সামরিক সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে পাকিস্তান বিন্দুমাত্র উদ্বিগ্ন নয় বলে জানিয়েছেন ইসলামাবাদের শীর্ষ কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। গত ২৭ মে মস্কোয় রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের সচিব সের্গেই শোইগু এবং তালেবান প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা ইয়াকুবের মধ্যে এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তিটি সই হয়, যার আগে রাশিয়া তালেবানকে সন্ত্রাসী তালিকা থেকে বাদ দিয়ে প্রথম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। আফগান গণমাধ্যম চুক্তিটিকে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও যৌথ প্রতিরক্ষা প্রকল্পের অংশ দাবি করলেও রাশিয়ার বিশেষ প্রতিনিধি জামির কাবুলভ স্পষ্ট করেছেন যে, এর মূল লক্ষ্য মূলত ৮০’র দশকে সোভিয়েত আমলের পুরোনো সামরিক সরঞ্জামগুলোর সচল ও মেরামত করা। ফলে এটি ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যকার বিদ্যমান নিরাপত্তা ভারসাম্যে কোনো বড় পরিবর্তন আনবে না এবং পাকিস্তানও একে হুমকি মনে না করায় কোনো কূটনৈতিক প্রতিরোধ চালাচ্ছে না। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়া এবং পাকিস্তানের পাল্টা বিমান হামলাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ক বর্তমানে তলানিতে ঠেকেছে। মস্কো থেকে ফিরে মোল্লা ইয়াকুব ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই চুক্তির ফলে পাকিস্তান আর আফগান ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালানোর সাহস পাবে না, যা মূলত রাশিয়ার কাছ থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাওয়ার আফগান আশাকে নির্দেশ করে। তবে পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পেতে আগ্রহী হলেও রাশিয়া তা সরবরাহ করবে এমন কোনো ইঙ্গিত নেই, কারণ ইউক্রেন যুদ্ধের ড্রোন হামলার মুখে রাশিয়া নিজেই বর্তমানে এই ব্যবস্থার ঘাটতিতে রয়েছে। অন্যদিকে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে কাবুলের এই যোগাযোগ আফগানিস্তানের ওপর উল্টো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দমনের চাপ বাড়াবে, যা অঞ্চলের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক।

বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬
রাশিয়া ও আফগানিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সামরিক সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে পাকিস্তান বিন্দুমাত্র উদ্বিগ্ন নয় বলে জানিয়েছেন ইসলামাবাদের শীর্ষ কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। গত ২৭ মে মস্কোয় রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের সচিব সের্গেই শোইগু এবং তালেবান প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা ইয়াকুবের মধ্যে এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তিটি সই হয়, যার আগে রাশিয়া তালেবানকে সন্ত্রাসী তালিকা থেকে বাদ দিয়ে প্রথম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। আফগান গণমাধ্যম চুক্তিটিকে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও যৌথ প্রতিরক্ষা প্রকল্পের অংশ দাবি করলেও রাশিয়ার বিশেষ প্রতিনিধি জামির কাবুলভ স্পষ্ট করেছেন যে, এর মূল লক্ষ্য মূলত ৮০’র দশকে সোভিয়েত আমলের পুরোনো সামরিক সরঞ্জামগুলোর সচল ও মেরামত করা। ফলে এটি ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যকার বিদ্যমান নিরাপত্তা ভারসাম্যে কোনো বড় পরিবর্তন আনবে না এবং পাকিস্তানও একে হুমকি মনে না করায় কোনো কূটনৈতিক প্রতিরোধ চালাচ্ছে না। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়া এবং পাকিস্তানের পাল্টা বিমান হামলাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ক বর্তমানে তলানিতে ঠেকেছে। মস্কো থেকে ফিরে মোল্লা ইয়াকুব ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই চুক্তির ফলে পাকিস্তান আর আফগান ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালানোর সাহস পাবে না, যা মূলত রাশিয়ার কাছ থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাওয়ার আফগান আশাকে নির্দেশ করে। তবে পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পেতে আগ্রহী হলেও রাশিয়া তা সরবরাহ করবে এমন কোনো ইঙ্গিত নেই, কারণ ইউক্রেন যুদ্ধের ড্রোন হামলার মুখে রাশিয়া নিজেই বর্তমানে এই ব্যবস্থার ঘাটতিতে রয়েছে। অন্যদিকে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে কাবুলের এই যোগাযোগ আফগানিস্তানের ওপর উল্টো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দমনের চাপ বাড়াবে, যা অঞ্চলের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক।

আপনার মতামত লিখুন