রাজধানীর মহাখালীতে ডিএনসিসি ডেডিকেটেড হাসপাতালের সামনে এক যুবকের কোলে ৩ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহের ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ছবিতে থাকা যুবকটি শিশুটির বাবা বলে দাবি করা হলেও, প্রকৃত অনুসন্ধানে জানা গেছে ওই ব্যক্তি শিশু সাদমানের দুলাভাই রাফি। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে সাদমানের বাবা মো. সজিব মানসিকভাবে ভেঙে পড়ায় এবং বারবার জ্ঞান হারানোয় তার পক্ষে মরদেহ বহন করা সম্ভব ছিল না।
শিশুটির মা মিম আক্তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্যের সংশোধন করে জানান, সাদমান বেশ কিছুদিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত ছিল এবং তার শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটে। গত ১৬ এপ্রিল হামের উপসর্গ নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতির জটিলতা বাড়লে তাকে ক্রিটিক্যাল কেয়ারে স্থানান্তর করা হয়। তবে মিম আক্তারের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসার ক্ষেত্রে চরম অবহেলা করা হয়েছে। নার্সদের ডাকা সত্ত্বেও তারা সময়মতো সাড়া দেননি এবং অক্সিজেন ও টেস্ট রিপোর্ট নিয়ে পরিবারকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ছবিতে থাকা সাদমানের দুলাভাই রাফি জানান, মৃত্যুর খবর শুনে তিনি দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে মরদেহ নিয়ে বের হয়ে আসেন। যাতায়াত খরচ ও সময়ের কথা ভেবে তারা একটি সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করেন। সেই সময় ফ্লাইওভারের কাছে অপেক্ষারত অবস্থায় কেউ একজন তাদের ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন কিন্তু আংশিক ভুল ক্যাপশন দিয়ে প্রচার করে, যা পরবর্তীতে ভাইরাল হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্য চিকিৎসার অবহেলার অভিযোগটি সরাসরি অস্বীকার করেছে। হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ডা. আসিফ হায়দার জানিয়েছেন, শিশুটি হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়ার সংক্রমণ এবং সেপটিসেমিয়ায় আক্রান্ত ছিল, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীর মহাখালীতে ডিএনসিসি ডেডিকেটেড হাসপাতালের সামনে এক যুবকের কোলে ৩ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহের ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ছবিতে থাকা যুবকটি শিশুটির বাবা বলে দাবি করা হলেও, প্রকৃত অনুসন্ধানে জানা গেছে ওই ব্যক্তি শিশু সাদমানের দুলাভাই রাফি। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে সাদমানের বাবা মো. সজিব মানসিকভাবে ভেঙে পড়ায় এবং বারবার জ্ঞান হারানোয় তার পক্ষে মরদেহ বহন করা সম্ভব ছিল না।
শিশুটির মা মিম আক্তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্যের সংশোধন করে জানান, সাদমান বেশ কিছুদিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত ছিল এবং তার শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটে। গত ১৬ এপ্রিল হামের উপসর্গ নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতির জটিলতা বাড়লে তাকে ক্রিটিক্যাল কেয়ারে স্থানান্তর করা হয়। তবে মিম আক্তারের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসার ক্ষেত্রে চরম অবহেলা করা হয়েছে। নার্সদের ডাকা সত্ত্বেও তারা সময়মতো সাড়া দেননি এবং অক্সিজেন ও টেস্ট রিপোর্ট নিয়ে পরিবারকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ছবিতে থাকা সাদমানের দুলাভাই রাফি জানান, মৃত্যুর খবর শুনে তিনি দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে মরদেহ নিয়ে বের হয়ে আসেন। যাতায়াত খরচ ও সময়ের কথা ভেবে তারা একটি সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করেন। সেই সময় ফ্লাইওভারের কাছে অপেক্ষারত অবস্থায় কেউ একজন তাদের ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন কিন্তু আংশিক ভুল ক্যাপশন দিয়ে প্রচার করে, যা পরবর্তীতে ভাইরাল হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্য চিকিৎসার অবহেলার অভিযোগটি সরাসরি অস্বীকার করেছে। হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ডা. আসিফ হায়দার জানিয়েছেন, শিশুটি হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়ার সংক্রমণ এবং সেপটিসেমিয়ায় আক্রান্ত ছিল, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।

আপনার মতামত লিখুন