উপমহাদেশের সরকারি অফিসগুলোতে কর্মকর্তাদের চেয়ারে সাদা তোয়ালে বিছিয়ে রাখার দীর্ঘদিনের পরিচিত প্রথাটি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভারতের উত্তরপ্রদেশের আমলা ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে প্রটোকল নিয়ে সৃষ্ট এক জটিলতাকে কেন্দ্র করে এই ‘তোয়ালে সংস্কৃতি’র শেকড় এবং এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক আমলা ও রাজনীতিবিদরা। লখনৌ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১ হাজার তোয়ালে পরিবর্তন করা হয়, যা এই প্রথার ব্যাপকতা প্রমাণ করে।
ঐতিহাসিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই প্রথাটি মূলত ব্রিটিশ শাসনামলের একটি উত্তরাধিকার। সাবেক আমলাদের মতে, তৎকালীন সময়ে রাস্তাঘাট কাঁচা ছিল এবং যাতায়াতের জন্য ঘোড়া ব্যবহার করা হতো। ধুলোবালি ও ঘাম থেকে রক্ষা পেতে এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতেই তোয়ালের ব্যবহার শুরু হয়েছিল। তবে আধুনিক যুগে এসির সুবিধা থাকার পরও এই প্রথা টিকে থাকাকে অনেকে ‘সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতা’ এবং ‘ক্ষমতার প্রদর্শনী’ হিসেবে অভিহিত করছেন। কংগ্রেস নেতা গুরদীপ সিং সপ্পাল এবং সাবেক আমলা আশীষ যোশী এই প্রথাকে বর্তমান সময়ে নিরর্থক বলে মন্তব্য করেছেন।
বিতর্কটি আরও জোরালো হয়েছে উত্তরপ্রদেশের আইনপ্রণেতাদের এক অভিযোগের পর। তাঁদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে আমলাদের চেয়ারে সাদা তোয়ালে থাকলেও জনপ্রতিনিধিদের চেয়ারে তা ছিল না, যা প্রটোকলের লঙ্ঘন। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের চেয়ারে সাদা তোয়ালের পরিবর্তে কমলা রঙের তোয়ালের ব্যবহার এই প্রথায় নতুন এক রাজনৈতিক মাত্রা যোগ করেছে। কেবল তোয়ালে নয়, এমনকি টেবিলের উচ্চতা এবং লাল ও সবুজ কালির ব্যবহারও যে আমলাতন্ত্রে পদমর্যাদার প্রতীক, তা-ও আলোচনায় উঠে এসেছে।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে এই ঔপনিবেশিক প্রথা বজায় রাখা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছেন। সাবেক আইপিএস কর্মকর্তা যশোবর্ধন ঝা আজাদের মতে, যা একসময় প্রয়োজনের তাগিদে শুরু হয়েছিল, তা আজ স্রেফ একটি ‘শারীরিক ব্যাকরণ’ বা পদমর্যাদার প্রতীকে পরিণত হয়েছে, যা সেবার চেয়ে আভিজাত্যকেই বেশি প্রাধান্য দেয়।

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
উপমহাদেশের সরকারি অফিসগুলোতে কর্মকর্তাদের চেয়ারে সাদা তোয়ালে বিছিয়ে রাখার দীর্ঘদিনের পরিচিত প্রথাটি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভারতের উত্তরপ্রদেশের আমলা ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে প্রটোকল নিয়ে সৃষ্ট এক জটিলতাকে কেন্দ্র করে এই ‘তোয়ালে সংস্কৃতি’র শেকড় এবং এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক আমলা ও রাজনীতিবিদরা। লখনৌ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১ হাজার তোয়ালে পরিবর্তন করা হয়, যা এই প্রথার ব্যাপকতা প্রমাণ করে।
ঐতিহাসিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই প্রথাটি মূলত ব্রিটিশ শাসনামলের একটি উত্তরাধিকার। সাবেক আমলাদের মতে, তৎকালীন সময়ে রাস্তাঘাট কাঁচা ছিল এবং যাতায়াতের জন্য ঘোড়া ব্যবহার করা হতো। ধুলোবালি ও ঘাম থেকে রক্ষা পেতে এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতেই তোয়ালের ব্যবহার শুরু হয়েছিল। তবে আধুনিক যুগে এসির সুবিধা থাকার পরও এই প্রথা টিকে থাকাকে অনেকে ‘সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতা’ এবং ‘ক্ষমতার প্রদর্শনী’ হিসেবে অভিহিত করছেন। কংগ্রেস নেতা গুরদীপ সিং সপ্পাল এবং সাবেক আমলা আশীষ যোশী এই প্রথাকে বর্তমান সময়ে নিরর্থক বলে মন্তব্য করেছেন।
বিতর্কটি আরও জোরালো হয়েছে উত্তরপ্রদেশের আইনপ্রণেতাদের এক অভিযোগের পর। তাঁদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে আমলাদের চেয়ারে সাদা তোয়ালে থাকলেও জনপ্রতিনিধিদের চেয়ারে তা ছিল না, যা প্রটোকলের লঙ্ঘন। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের চেয়ারে সাদা তোয়ালের পরিবর্তে কমলা রঙের তোয়ালের ব্যবহার এই প্রথায় নতুন এক রাজনৈতিক মাত্রা যোগ করেছে। কেবল তোয়ালে নয়, এমনকি টেবিলের উচ্চতা এবং লাল ও সবুজ কালির ব্যবহারও যে আমলাতন্ত্রে পদমর্যাদার প্রতীক, তা-ও আলোচনায় উঠে এসেছে।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে এই ঔপনিবেশিক প্রথা বজায় রাখা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছেন। সাবেক আইপিএস কর্মকর্তা যশোবর্ধন ঝা আজাদের মতে, যা একসময় প্রয়োজনের তাগিদে শুরু হয়েছিল, তা আজ স্রেফ একটি ‘শারীরিক ব্যাকরণ’ বা পদমর্যাদার প্রতীকে পরিণত হয়েছে, যা সেবার চেয়ে আভিজাত্যকেই বেশি প্রাধান্য দেয়।

আপনার মতামত লিখুন