ঢাকা নিউজ

নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে মাদুরোকে নতুন ফাঁদে ফেললেন ট্রাম্প



নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে মাদুরোকে নতুন ফাঁদে ফেললেন ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার ওপর আরোপিত নির্দিষ্ট কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মাদক পাচারের অভিযোগে নিউ ইয়র্ক সিটিতে ফেডারেল বিচারের মুখোমুখি প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর আইনি খরচ যেন কারাকাস সরকার বহন করতে পারে, সেই উদ্দেশ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন অভিযানে মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার পর থেকেই এই আইনি লড়াই শুরু হয়।

মাদুরোর আইনজীবী সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার যুক্তি দেখিয়ে মামলা খারিজের আবেদন করলে মার্কিন বিচার বিভাগ নিষেধাজ্ঞা সংশোধনের এই কৌশল নেয়। আদালতের নথিতে জানানো হয়েছে, ভেনেজুয়েলা সরকার এখন থেকে আইনজীবীর পারিশ্রমিক দিতে পারবে। এর ফলে মামলা খারিজের আবেদনটি এখন আর প্রাসঙ্গিক থাকছে না, যাকে বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের পক্ষ থেকে মাদুরোকে বিচারের মুখোমুখি করার একটি নতুন ‘ফাঁদ’ হিসেবে দেখছেন।

এদিকে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ভেনেজুয়েলা থেকে নিয়ে আসাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও ‘অপহরণ’ বলে সমালোচনা করেছেন অনেক আইন বিশেষজ্ঞ। তবে ট্রাম্প প্রশাসন বিষয়টিকে বৈধ অভিযান হিসেবে দাবি করে আসছে। তারা ভেনেজুয়েলার ‘হেড অব স্টেট ইমিউনিটি’ নীতিকেও স্বীকৃতি দিতে নারাজ, কারণ ওয়াশিংটন মাদুরোকে দেশটির বৈধ নেতা হিসেবে মানে না।

বর্তমানে ব্রুকলিনের কারাগারে আটক মাদুরো নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, এসব অভিযোগ মূলত ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদ দখলের একটি বাহানা মাত্র। অন্যদিকে, আদালতের শুনানিতে বিচারক হেলারস্টেইন জাতীয় নিরাপত্তার চেয়ে আসামির আইনজীবী পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকারকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। মামলার পরবর্তী প্রক্রিয়ায় এখন মার্কিন নির্বাহী বিভাগ বনাম বিচারিক অধিকারের আইনি লড়াই আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬


নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে মাদুরোকে নতুন ফাঁদে ফেললেন ট্রাম্প

প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ভেনেজুয়েলার ওপর আরোপিত নির্দিষ্ট কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মাদক পাচারের অভিযোগে নিউ ইয়র্ক সিটিতে ফেডারেল বিচারের মুখোমুখি প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর আইনি খরচ যেন কারাকাস সরকার বহন করতে পারে, সেই উদ্দেশ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন অভিযানে মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার পর থেকেই এই আইনি লড়াই শুরু হয়।

মাদুরোর আইনজীবী সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার যুক্তি দেখিয়ে মামলা খারিজের আবেদন করলে মার্কিন বিচার বিভাগ নিষেধাজ্ঞা সংশোধনের এই কৌশল নেয়। আদালতের নথিতে জানানো হয়েছে, ভেনেজুয়েলা সরকার এখন থেকে আইনজীবীর পারিশ্রমিক দিতে পারবে। এর ফলে মামলা খারিজের আবেদনটি এখন আর প্রাসঙ্গিক থাকছে না, যাকে বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের পক্ষ থেকে মাদুরোকে বিচারের মুখোমুখি করার একটি নতুন ‘ফাঁদ’ হিসেবে দেখছেন।

এদিকে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ভেনেজুয়েলা থেকে নিয়ে আসাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও ‘অপহরণ’ বলে সমালোচনা করেছেন অনেক আইন বিশেষজ্ঞ। তবে ট্রাম্প প্রশাসন বিষয়টিকে বৈধ অভিযান হিসেবে দাবি করে আসছে। তারা ভেনেজুয়েলার ‘হেড অব স্টেট ইমিউনিটি’ নীতিকেও স্বীকৃতি দিতে নারাজ, কারণ ওয়াশিংটন মাদুরোকে দেশটির বৈধ নেতা হিসেবে মানে না।

বর্তমানে ব্রুকলিনের কারাগারে আটক মাদুরো নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, এসব অভিযোগ মূলত ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদ দখলের একটি বাহানা মাত্র। অন্যদিকে, আদালতের শুনানিতে বিচারক হেলারস্টেইন জাতীয় নিরাপত্তার চেয়ে আসামির আইনজীবী পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকারকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। মামলার পরবর্তী প্রক্রিয়ায় এখন মার্কিন নির্বাহী বিভাগ বনাম বিচারিক অধিকারের আইনি লড়াই আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ