ঢাকা নিউজ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে বড় বাধা যেসব জটিল ইস্যু



ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে বড় বাধা যেসব জটিল ইস্যু
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি বর্তমানে চরম সংকটের মুখে পড়েছে। এর ফলে জ্বালানি, চিকিৎসা সরঞ্জাম, প্লাস্টিক ও কাঁচামাল সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যার প্রভাবে বিভিন্ন দেশে জ্বালানি তেলের দীর্ঘ সারি এবং হাসপাতালগুলোতে জরুরি চিকিৎসা সামগ্রীর তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতে এ পর্যন্ত পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। এই পরিস্থিতিতে সংঘাত নিরসনে ওয়াশিংটন কোনো তড়িঘড়ি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে জানান, ইরানের পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে যা যুক্তরাষ্ট্র খতিয়ে দেখবে, তবে প্রস্তাবের বিষয়বস্তু সম্পর্কে তিনি এখনো নিশ্চিত নন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে তার ওপর সময়ের কোনো চাপ নেই এবং তিনি একটি ‘ভালো চুক্তির’ অপেক্ষায় রয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত ইস্যু এই আলোচনার পথে প্রধান বাধা হিসেবে কাজ করছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি অন্যতম, যেটিকে ইরান নিজেদের সার্বভৌম এলাকা দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সেখানে অবাধ নৌচলাচলের নিশ্চয়তা চায়। বর্তমানে এই অঞ্চলটি কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও প্রকট হয়েছে।

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও দুই পক্ষের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। যুক্তরাষ্ট্র ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের দাবি জানালেও ইরান একে শান্তিপূর্ণ উদ্যোগ বলে দাবি করছে। বর্তমানে ইরানের কাছে ৪০০ কেজির বেশি উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে, যা ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন হেফাজতে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এছাড়া লেবানন ও হিজবুল্লাহ ইস্যু, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের আটকে থাকা অর্থ ফেরতসহ ২৭০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবির মতো বিষয়গুলো যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে বড় বাধা যেসব জটিল ইস্যু

প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি বর্তমানে চরম সংকটের মুখে পড়েছে। এর ফলে জ্বালানি, চিকিৎসা সরঞ্জাম, প্লাস্টিক ও কাঁচামাল সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যার প্রভাবে বিভিন্ন দেশে জ্বালানি তেলের দীর্ঘ সারি এবং হাসপাতালগুলোতে জরুরি চিকিৎসা সামগ্রীর তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতে এ পর্যন্ত পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। এই পরিস্থিতিতে সংঘাত নিরসনে ওয়াশিংটন কোনো তড়িঘড়ি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে জানান, ইরানের পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে যা যুক্তরাষ্ট্র খতিয়ে দেখবে, তবে প্রস্তাবের বিষয়বস্তু সম্পর্কে তিনি এখনো নিশ্চিত নন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে তার ওপর সময়ের কোনো চাপ নেই এবং তিনি একটি ‘ভালো চুক্তির’ অপেক্ষায় রয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত ইস্যু এই আলোচনার পথে প্রধান বাধা হিসেবে কাজ করছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি অন্যতম, যেটিকে ইরান নিজেদের সার্বভৌম এলাকা দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সেখানে অবাধ নৌচলাচলের নিশ্চয়তা চায়। বর্তমানে এই অঞ্চলটি কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও প্রকট হয়েছে।

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও দুই পক্ষের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। যুক্তরাষ্ট্র ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের দাবি জানালেও ইরান একে শান্তিপূর্ণ উদ্যোগ বলে দাবি করছে। বর্তমানে ইরানের কাছে ৪০০ কেজির বেশি উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে, যা ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন হেফাজতে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এছাড়া লেবানন ও হিজবুল্লাহ ইস্যু, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের আটকে থাকা অর্থ ফেরতসহ ২৭০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবির মতো বিষয়গুলো যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ