ঢাকা নিউজ

উজান থেকে আসা ঢল ও বৃষ্টিতে ডুবছে হাওড়ের স্বপ্ন: নেত্রকোনায় কৃষকের হাহাকার



উজান থেকে আসা ঢল ও বৃষ্টিতে ডুবছে হাওড়ের স্বপ্ন: নেত্রকোনায় কৃষকের হাহাকার
ছবি : সংগৃহীত

নেত্রকোনার খালিয়াজুরি, মদন ও কলমাকান্দাসহ বিভিন্ন উপজেলায় হঠাৎ উজানের ঢল এবং টানা বৃষ্টিতে হাজার হাজার হেক্টর বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। চোখের সামনে সোনালি ফসল পানির নিচে চলে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাওড়াঞ্চলের কৃষকরা। বিশেষ করে খালিয়াজুরির জগন্নাথপুর গ্রামের মিলন ব্যাপারীর মতো বড় কৃষকরা, যাদের কয়েক হাজার মণ ধান পাওয়ার আশা ছিল, তারা এখন সর্বস্ব হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

হাওড়াঞ্চলে এখন ‘নয়নভাগা’ নামক এক বেদনাদায়ক দৃশ্য চোখে পড়ছে। স্থানীয় প্রথা অনুযায়ী, যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগে জমির মালিক নিজের ধান কাটতে অক্ষম হন, তখন অন্য লোকজন এসে সেই ধান কেটে নিয়ে যায়—আর মালিককে কেবল অসহায়ভাবে তাকিয়ে দেখতে হয়। দেনা শোধ ও আগামী দিনের সংসার চালানো নিয়ে প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে চরম দুশ্চিন্তা বিরাজ করছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, হাওড়ের জলকপাট (স্লুইসগেট) অকার্যকর থাকা এবং দীর্ঘদিনের পলি জমে খাল-নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি ঠিকমতো নামতে পারছে না। ফলে অর্ধেকের বেশি ধান এখনো কাটা বাকি থাকতেই তলিয়ে গেছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, কলমাকান্দা, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরিসহ বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমির ধান ইতিমধ্যে পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। তবে কৃষকদের দাবি, ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, কংস ও উব্দাখালী নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যদিও তারা দাবি করছেন যে বেড়িবাঁধগুলো এখনো সুরক্ষিত আছে, তবে বৃষ্টির পানি বের হওয়ার পথ না থাকায় জলাবদ্ধতা কমছে না। জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানিয়েছেন, নদ-নদীতে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা এই মানবিক বিপর্যয়ের মূল কারণ। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরকারি সহযোগিতার দিকে তাকিয়ে আছেন।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

শনিবার, ০২ মে ২০২৬


উজান থেকে আসা ঢল ও বৃষ্টিতে ডুবছে হাওড়ের স্বপ্ন: নেত্রকোনায় কৃষকের হাহাকার

প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬

featured Image

নেত্রকোনার খালিয়াজুরি, মদন ও কলমাকান্দাসহ বিভিন্ন উপজেলায় হঠাৎ উজানের ঢল এবং টানা বৃষ্টিতে হাজার হাজার হেক্টর বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। চোখের সামনে সোনালি ফসল পানির নিচে চলে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাওড়াঞ্চলের কৃষকরা। বিশেষ করে খালিয়াজুরির জগন্নাথপুর গ্রামের মিলন ব্যাপারীর মতো বড় কৃষকরা, যাদের কয়েক হাজার মণ ধান পাওয়ার আশা ছিল, তারা এখন সর্বস্ব হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

হাওড়াঞ্চলে এখন ‘নয়নভাগা’ নামক এক বেদনাদায়ক দৃশ্য চোখে পড়ছে। স্থানীয় প্রথা অনুযায়ী, যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগে জমির মালিক নিজের ধান কাটতে অক্ষম হন, তখন অন্য লোকজন এসে সেই ধান কেটে নিয়ে যায়—আর মালিককে কেবল অসহায়ভাবে তাকিয়ে দেখতে হয়। দেনা শোধ ও আগামী দিনের সংসার চালানো নিয়ে প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে চরম দুশ্চিন্তা বিরাজ করছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, হাওড়ের জলকপাট (স্লুইসগেট) অকার্যকর থাকা এবং দীর্ঘদিনের পলি জমে খাল-নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি ঠিকমতো নামতে পারছে না। ফলে অর্ধেকের বেশি ধান এখনো কাটা বাকি থাকতেই তলিয়ে গেছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, কলমাকান্দা, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরিসহ বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমির ধান ইতিমধ্যে পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। তবে কৃষকদের দাবি, ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, কংস ও উব্দাখালী নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যদিও তারা দাবি করছেন যে বেড়িবাঁধগুলো এখনো সুরক্ষিত আছে, তবে বৃষ্টির পানি বের হওয়ার পথ না থাকায় জলাবদ্ধতা কমছে না। জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানিয়েছেন, নদ-নদীতে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা এই মানবিক বিপর্যয়ের মূল কারণ। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরকারি সহযোগিতার দিকে তাকিয়ে আছেন।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ