দেশের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোতে বিচারাধীন মামলার সাজার হার নিয়ে এক উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হওয়া মামলার ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রেই আসামিরা খালাস পেয়ে যাচ্ছেন, যেখানে সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে ৩২টি জেলার ৪২টি ট্রাইব্যুনালের মামলার নথি বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানানো হয়েছে। শনিবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক সভায় গবেষণার তথ্যসমূহ উপস্থাপন করা হয়। সাবেক জেলা ও দায়রা জজ উম্মে কুলসুমের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে নিষ্পত্তি হওয়া ৪ হাজার ৪০টি মামলার মধ্যে এই ভয়াবহ চিত্র বিদ্যমান। এছাড়া প্রায় ১০ শতাংশ মামলা আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হচ্ছে, যা ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, আইন অনুযায়ী ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির বিধান থাকলেও বাস্তবে একটি মামলা শেষ হতে গড়ে তিন বছর সাত মাস বা এক হাজার ৩৭০ দিন সময় লাগছে। এই দীর্ঘ সময়ে প্রতিটি মামলায় গড়ে অন্তত ২২ বার শুনানির তারিখ পড়ছে। বিচারের এই ধীরগতি ও সাজার নিম্ন হারের পেছনে তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা, সাক্ষী ও অভিযোগকারীর অনুপস্থিতি এবং দুর্বল প্রমাণ ব্যবস্থাকে দায়ী করা হয়েছে। বিচারের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে আরও চিহ্নিত করা হয়েছে ফরেনসিক ও ডিএনএ রিপোর্ট পেতে দেরি, সাক্ষী সুরক্ষার অভাব এবং তদন্তের নিম্নমানকে। পাশাপাশি নিষিদ্ধ ‘টু ফিঙ্গার টেস্ট’ পদ্ধতির ব্যবহার, সামাজিক চাপ, আইনি অজ্ঞতা এবং আসামিদের প্রভাব বিচারপ্রক্রিয়াকে ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিচার বিভাগের সক্ষমতা ও বাজেট বরাদ্দের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রের প্রধান তিনটি অঙ্গের মধ্যে বিচার বিভাগ সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, পুরো বিচার বিভাগের বাজেট যেখানে প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা, সেখানে শুধু বিটিভির বরাদ্দই প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তারা নারীর প্রতি সহিংসতার বেদনাদায়ক বাস্তবতার কথা তুলে ধরেন। জানানো হয়, জরিপ অনুযায়ী দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ নারী জীবনের কোনো না কোনো সময়ে সহিংসতার শিকার হন। অনুষ্ঠানে বিচার বিভাগ, মানবাধিকার সংগঠন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে উত্তরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রোববার, ০৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬
দেশের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোতে বিচারাধীন মামলার সাজার হার নিয়ে এক উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হওয়া মামলার ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রেই আসামিরা খালাস পেয়ে যাচ্ছেন, যেখানে সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে ৩২টি জেলার ৪২টি ট্রাইব্যুনালের মামলার নথি বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানানো হয়েছে। শনিবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক সভায় গবেষণার তথ্যসমূহ উপস্থাপন করা হয়। সাবেক জেলা ও দায়রা জজ উম্মে কুলসুমের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে নিষ্পত্তি হওয়া ৪ হাজার ৪০টি মামলার মধ্যে এই ভয়াবহ চিত্র বিদ্যমান। এছাড়া প্রায় ১০ শতাংশ মামলা আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হচ্ছে, যা ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, আইন অনুযায়ী ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির বিধান থাকলেও বাস্তবে একটি মামলা শেষ হতে গড়ে তিন বছর সাত মাস বা এক হাজার ৩৭০ দিন সময় লাগছে। এই দীর্ঘ সময়ে প্রতিটি মামলায় গড়ে অন্তত ২২ বার শুনানির তারিখ পড়ছে। বিচারের এই ধীরগতি ও সাজার নিম্ন হারের পেছনে তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা, সাক্ষী ও অভিযোগকারীর অনুপস্থিতি এবং দুর্বল প্রমাণ ব্যবস্থাকে দায়ী করা হয়েছে। বিচারের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে আরও চিহ্নিত করা হয়েছে ফরেনসিক ও ডিএনএ রিপোর্ট পেতে দেরি, সাক্ষী সুরক্ষার অভাব এবং তদন্তের নিম্নমানকে। পাশাপাশি নিষিদ্ধ ‘টু ফিঙ্গার টেস্ট’ পদ্ধতির ব্যবহার, সামাজিক চাপ, আইনি অজ্ঞতা এবং আসামিদের প্রভাব বিচারপ্রক্রিয়াকে ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিচার বিভাগের সক্ষমতা ও বাজেট বরাদ্দের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রের প্রধান তিনটি অঙ্গের মধ্যে বিচার বিভাগ সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, পুরো বিচার বিভাগের বাজেট যেখানে প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা, সেখানে শুধু বিটিভির বরাদ্দই প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তারা নারীর প্রতি সহিংসতার বেদনাদায়ক বাস্তবতার কথা তুলে ধরেন। জানানো হয়, জরিপ অনুযায়ী দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ নারী জীবনের কোনো না কোনো সময়ে সহিংসতার শিকার হন। অনুষ্ঠানে বিচার বিভাগ, মানবাধিকার সংগঠন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে উত্তরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আপনার মতামত লিখুন