দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এবং গুণগত মান নিশ্চিত করতে মাঠ প্রশাসন থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জেলা প্রশাসকরা (ডিসি)। রবিবার (৩ মে) অনুষ্ঠিত ডিসি সম্মেলনের শিক্ষা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় তারা প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিদ্যমান বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একগুচ্ছ প্রস্তাব ও আশ্বাসের কথা জানান।
ফলাফল বনাম দক্ষতা: জিপিএ প্রতিযোগিতার সমালোচনা সম্মেলনে ডিসিরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা অতিরিক্ত ফলাফলনির্ভর হয়ে পড়েছে। জিপিএ-৫ পাওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করছে এবং প্রকৃত জ্ঞান অর্জনকে বাধাগ্রস্ত করছে। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নুরুল করিম ভূঁইয়া শিক্ষার্থীদের ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার প্রস্তাব দেন। তিনি মনে করেন, সামাজিক তুলনা বন্ধ হলে শিক্ষার্থীরা প্রকৃত শিক্ষার দিকে বেশি মনোযোগ দিতে পারবে। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাও একই সুরে বলেন, মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা ছাড়া নিরাপদ সমাজ গঠন সম্ভব নয়।
প্রাথমিক শিক্ষার দুর্বলতা ও মনিটরিং আলোচনায় উঠে আসে যে, প্রাথমিক পর্যায়ের প্রায় ৭৫-৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী বাংলা ও ইংরেজিতে মৌলিক দক্ষতায় পিছিয়ে রয়েছে। এই সংকট কাটাতে শিক্ষকদের কার্যকর প্রশিক্ষণ, শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত মনিটরিং এবং আনন্দমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতের ভারসাম্যহীনতা দূর করতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান একীভূত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ:
বাস্তবমুখী কারিকুলাম: ডিজিটাল দক্ষতা, ভূমি ব্যবস্থাপনা, ট্রাফিক সচেতনতা ও নৈতিক শিক্ষাকে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ।
প্রযুক্তিগত নজরদারি: শ্রেণিকক্ষে পাঠদান নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার এবং প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার।
অবকাঠামো উন্নয়ন: প্রতিটি উপজেলায় মাল্টিপারপাস পরীক্ষা কেন্দ্র নির্মাণ।
শিক্ষার্থী আকর্ষণ: মিড-ডে মিল, ইউনিফর্ম বিতরণ এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম (খেলাধুলা ও সংস্কৃতি) বৃদ্ধির মাধ্যমে উপস্থিতির হার বাড়ানো।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। ডিসিরা আশ্বাস দিয়েছেন যে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রমের সুষ্ঠু বাস্তবায়নে প্রশাসন এখন থেকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এবং গুণগত মান নিশ্চিত করতে মাঠ প্রশাসন থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জেলা প্রশাসকরা (ডিসি)। রবিবার (৩ মে) অনুষ্ঠিত ডিসি সম্মেলনের শিক্ষা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় তারা প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিদ্যমান বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একগুচ্ছ প্রস্তাব ও আশ্বাসের কথা জানান।
ফলাফল বনাম দক্ষতা: জিপিএ প্রতিযোগিতার সমালোচনা সম্মেলনে ডিসিরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা অতিরিক্ত ফলাফলনির্ভর হয়ে পড়েছে। জিপিএ-৫ পাওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করছে এবং প্রকৃত জ্ঞান অর্জনকে বাধাগ্রস্ত করছে। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নুরুল করিম ভূঁইয়া শিক্ষার্থীদের ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার প্রস্তাব দেন। তিনি মনে করেন, সামাজিক তুলনা বন্ধ হলে শিক্ষার্থীরা প্রকৃত শিক্ষার দিকে বেশি মনোযোগ দিতে পারবে। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাও একই সুরে বলেন, মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা ছাড়া নিরাপদ সমাজ গঠন সম্ভব নয়।
প্রাথমিক শিক্ষার দুর্বলতা ও মনিটরিং আলোচনায় উঠে আসে যে, প্রাথমিক পর্যায়ের প্রায় ৭৫-৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী বাংলা ও ইংরেজিতে মৌলিক দক্ষতায় পিছিয়ে রয়েছে। এই সংকট কাটাতে শিক্ষকদের কার্যকর প্রশিক্ষণ, শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত মনিটরিং এবং আনন্দমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতের ভারসাম্যহীনতা দূর করতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান একীভূত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ:
বাস্তবমুখী কারিকুলাম: ডিজিটাল দক্ষতা, ভূমি ব্যবস্থাপনা, ট্রাফিক সচেতনতা ও নৈতিক শিক্ষাকে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ।
প্রযুক্তিগত নজরদারি: শ্রেণিকক্ষে পাঠদান নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার এবং প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার।
অবকাঠামো উন্নয়ন: প্রতিটি উপজেলায় মাল্টিপারপাস পরীক্ষা কেন্দ্র নির্মাণ।
শিক্ষার্থী আকর্ষণ: মিড-ডে মিল, ইউনিফর্ম বিতরণ এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম (খেলাধুলা ও সংস্কৃতি) বৃদ্ধির মাধ্যমে উপস্থিতির হার বাড়ানো।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। ডিসিরা আশ্বাস দিয়েছেন যে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রমের সুষ্ঠু বাস্তবায়নে প্রশাসন এখন থেকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

আপনার মতামত লিখুন