মানুষের জীবনে প্রকৃত সুখ, স্বস্তি ও প্রাচুর্য কেবল দুনিয়াবী সম্পদের পেছনে ছুটে পাওয়া সম্ভব নয়। ইসলামি জীবনদর্শনে অভাবমুক্ত জীবন এবং অন্তরের তৃপ্তির মূল চাবিকাঠি হলো মহান আল্লাহর ইবাদতে নিজেকে সঁপে দেওয়া। যখন কোনো বান্দা একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, আল্লাহ কেবল তার রিজিকেই বরকত দেন না, বরং তার হৃদয়কেও এক অপার্থিব প্রশান্তিতে ভরে দেন। এই বিষয়ে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাদিসে কুদসি রাসুলুল্লাহ (সা.) উল্লেখ করেছেন। যেখানে মহান আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন— ‘হে আদম সন্তান! আমার ইবাদতে মগ্ন হও। আমি তোমার অন্তরকে ঐশ্বর্যমন্ডিত করব এবং তোমার দারিদ্র্য দূর করব। তুমি যদি তা না করো, তাহলে আমি তোমার অন্তর পেরেশানি দিয়ে পূর্ণ করব এবং তোমার দরিদ্রতা দূর করব না।’ (ইবনে মাজাহ: ৪১০৭) হাদিসটি আমাদের শিক্ষা দেয় যে, দুনিয়ার মোহে পড়ে আল্লাহকে ভুলে গেলে মানুষের জীবনে অস্থিরতা ও অপূর্ণতা নেমে আসে। সম্পদ থাকলেও অন্তরের শান্তি হারিয়ে যায়। অন্যদিকে, আল্লাহর স্মরণে নিয়োজিত থাকলে আল্লাহ নিজেই বান্দার অভাব দূর করার দায়িত্ব নেন। প্রকৃতপক্ষে, অন্তরের প্রশান্তিই মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ। আর সেই প্রশান্তি অর্জিত হয় আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর ওপর পূর্ণ ভরসার মাধ্যমে। দুনিয়ার অস্থায়ী মোহে হারিয়ে না গিয়ে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করাই হলো প্রকৃত সফলতার পথ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর ইবাদতে মগ্ন থাকার এবং অভাবমুক্ত, শান্তিময় জীবন লাভের তৌফিক দান করুন। আমিন।

সোমবার, ১১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬
মানুষের জীবনে প্রকৃত সুখ, স্বস্তি ও প্রাচুর্য কেবল দুনিয়াবী সম্পদের পেছনে ছুটে পাওয়া সম্ভব নয়। ইসলামি জীবনদর্শনে অভাবমুক্ত জীবন এবং অন্তরের তৃপ্তির মূল চাবিকাঠি হলো মহান আল্লাহর ইবাদতে নিজেকে সঁপে দেওয়া। যখন কোনো বান্দা একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, আল্লাহ কেবল তার রিজিকেই বরকত দেন না, বরং তার হৃদয়কেও এক অপার্থিব প্রশান্তিতে ভরে দেন। এই বিষয়ে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাদিসে কুদসি রাসুলুল্লাহ (সা.) উল্লেখ করেছেন। যেখানে মহান আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন— ‘হে আদম সন্তান! আমার ইবাদতে মগ্ন হও। আমি তোমার অন্তরকে ঐশ্বর্যমন্ডিত করব এবং তোমার দারিদ্র্য দূর করব। তুমি যদি তা না করো, তাহলে আমি তোমার অন্তর পেরেশানি দিয়ে পূর্ণ করব এবং তোমার দরিদ্রতা দূর করব না।’ (ইবনে মাজাহ: ৪১০৭) হাদিসটি আমাদের শিক্ষা দেয় যে, দুনিয়ার মোহে পড়ে আল্লাহকে ভুলে গেলে মানুষের জীবনে অস্থিরতা ও অপূর্ণতা নেমে আসে। সম্পদ থাকলেও অন্তরের শান্তি হারিয়ে যায়। অন্যদিকে, আল্লাহর স্মরণে নিয়োজিত থাকলে আল্লাহ নিজেই বান্দার অভাব দূর করার দায়িত্ব নেন। প্রকৃতপক্ষে, অন্তরের প্রশান্তিই মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ। আর সেই প্রশান্তি অর্জিত হয় আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর ওপর পূর্ণ ভরসার মাধ্যমে। দুনিয়ার অস্থায়ী মোহে হারিয়ে না গিয়ে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করাই হলো প্রকৃত সফলতার পথ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর ইবাদতে মগ্ন থাকার এবং অভাবমুক্ত, শান্তিময় জীবন লাভের তৌফিক দান করুন। আমিন।

আপনার মতামত লিখুন