ঢাকা নিউজ

পাবনায় রাসায়নিক দিয়ে পাকানো লিচুতে বাজার সয়লাব: জনস্বাস্থ্যের চরম ঝুঁকি



পাবনায় রাসায়নিক দিয়ে পাকানো লিচুতে বাজার সয়লাব: জনস্বাস্থ্যের চরম ঝুঁকি
ছবি : সংগৃহীত

মৌসুমের নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে উঠতে শুরু করেছে লিচু। তবে অধিক মুনাফার লোভে অসাধু ব্যবসায়ীরা বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করে অপরিপক্ব লিচু পাকিয়ে বাজারে বিক্রি করছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোববার (১০ মে) পাবনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্যমতে, পাবনা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম লিচু উৎপাদনকারী জেলা। এবার এখানে প্রায় ৩৫ হাজার মেট্রিক টন লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কৃষি বিভাগের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক জানিয়েছেন, জনপ্রিয় ‘বোম্বাই লিচু’ বাজারে আসতে আরও অন্তত ৩ সপ্তাহ এবং দেশি জাতের লিচু পাকতে ১০ থেকে ১৪ দিন সময় লাগবে। অথচ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, লাল টুকটুকে আকর্ষণীয় লিচুতে সয়লাব চাটমোহর, ঈশ্বরদী ও সদরের হাটবাজারগুলো। প্রতি ১০০ লিচু ২৩০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হলেও ক্রেতাদের অভিযোগ—এসব লিচুতে কোনো স্বাদ নেই।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, লিচু দ্রুত বড় করতে এবং লাল রং আনতে চীন থেকে আমদানিকৃত ‘পিজিআর’ (প্লান্ট গ্রোথ রেগুলেটর) নামক রাসায়নিকের যথেচ্ছ ব্যবহার করা হচ্ছে। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ও বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. ইফতেখার মাহমুদ সতর্ক করে বলেন, এই রাসায়নিকযুক্ত লিচু খেলে শিশু ও বয়স্কদের কিডনি ও লিভারের জটিলতাসহ ডায়রিয়া ও আমাশয়ের মতো রোগ হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ের আগে লিচু সংগ্রহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংসদ সদস্যবৃন্দ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পূর্ণ মৌসুম না আসা পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে লিচু কেনা ও খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

সোমবার, ১১ মে ২০২৬


পাবনায় রাসায়নিক দিয়ে পাকানো লিচুতে বাজার সয়লাব: জনস্বাস্থ্যের চরম ঝুঁকি

প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬

featured Image

মৌসুমের নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে উঠতে শুরু করেছে লিচু। তবে অধিক মুনাফার লোভে অসাধু ব্যবসায়ীরা বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করে অপরিপক্ব লিচু পাকিয়ে বাজারে বিক্রি করছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোববার (১০ মে) পাবনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্যমতে, পাবনা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম লিচু উৎপাদনকারী জেলা। এবার এখানে প্রায় ৩৫ হাজার মেট্রিক টন লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কৃষি বিভাগের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক জানিয়েছেন, জনপ্রিয় ‘বোম্বাই লিচু’ বাজারে আসতে আরও অন্তত ৩ সপ্তাহ এবং দেশি জাতের লিচু পাকতে ১০ থেকে ১৪ দিন সময় লাগবে। অথচ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, লাল টুকটুকে আকর্ষণীয় লিচুতে সয়লাব চাটমোহর, ঈশ্বরদী ও সদরের হাটবাজারগুলো। প্রতি ১০০ লিচু ২৩০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হলেও ক্রেতাদের অভিযোগ—এসব লিচুতে কোনো স্বাদ নেই।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, লিচু দ্রুত বড় করতে এবং লাল রং আনতে চীন থেকে আমদানিকৃত ‘পিজিআর’ (প্লান্ট গ্রোথ রেগুলেটর) নামক রাসায়নিকের যথেচ্ছ ব্যবহার করা হচ্ছে। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ও বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. ইফতেখার মাহমুদ সতর্ক করে বলেন, এই রাসায়নিকযুক্ত লিচু খেলে শিশু ও বয়স্কদের কিডনি ও লিভারের জটিলতাসহ ডায়রিয়া ও আমাশয়ের মতো রোগ হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ের আগে লিচু সংগ্রহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংসদ সদস্যবৃন্দ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পূর্ণ মৌসুম না আসা পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে লিচু কেনা ও খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ