ব্লুটুথ প্রযুক্তি বর্তমান যুগের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়ালেও এর রেডিয়েশন বা বিকিরণ মস্তিষ্কের ক্ষতি করছে কিনা, তা নিয়ে জনমনে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্লুটুথ মূলত ‘নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশন’ নির্গত করে। এক্স-রে বা পারমাণবিক বর্জ্যের মতো আয়োনাইজিং রেডিয়েশন ডিএনএ-র ক্ষতি করতে পারলেও, ব্লুটুথের বিকিরণে সেই শক্তি নেই এবং এটি সরাসরি ক্যানসারের কারণ হওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কেন ফস্টার জানিয়েছেন, ব্লুটুথ ডিভাইসগুলো মোবাইল ফোনের তুলনায় অনেক কম বিকিরণ ছড়ায়। দীর্ঘক্ষণ হেডফোন ব্যবহারে শরীরে কিছুটা এক্সপোজার বাড়লেও ফোন সরাসরি কানের কাছে ধরে রাখার চেয়ে এটি অনেক বেশি নিরাপদ। এমনকি অ্যাপল এয়ারপডের মতো আধুনিক ডিভাইসের অ্যান্টেনা কানের বাইরের অংশে থাকায় ঝুঁকির মাত্রা আরও কমে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিকিরণের চেয়েও ব্লুটুথ হেডফোন ব্যবহারের বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হলো শ্রবণশক্তি হ্রাস পাওয়া। দীর্ঘক্ষণ ৮০ শতাংশের বেশি ভলিউমে গান শুনলে স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি নষ্ট হতে পারে। এছাড়া হেডফোন লাগিয়ে হাঁটাচলা করার সময় পারিপার্শ্বিক শব্দ শুনতে না পাওয়া বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকির চেয়েও তাৎক্ষণিক বড় বিপদ হিসেবে গণ্য করা হয়।
রেডিয়েশন নিয়ে যারা সচেতন থাকতে চান, তাদের জন্য বিশেষজ্ঞরা দিনে সর্বোচ্চ ৬০ থেকে ৯০ মিনিট হেডফোন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। এক্ষেত্রে ভলিউম ৬০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে রাখা জরুরি। এছাড়া বিকিরণ নিয়ে উদ্বেগ থাকলে তারযুক্ত হেডফোন ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প এবং ব্যবহার শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কান থেকে ডিভাইসটি খুলে রাখা উচিত।
পরিশেষে, ব্লুটুথ ডিভাইস ব্যবহারে ক্যানসার বা মস্তিষ্কের ক্ষতির অকাট্য প্রমাণ না থাকলেও শ্রবণশক্তি রক্ষা এবং দুর্ঘটনা এড়াতে সচেতন ব্যবহারই প্রধান সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬
ব্লুটুথ প্রযুক্তি বর্তমান যুগের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়ালেও এর রেডিয়েশন বা বিকিরণ মস্তিষ্কের ক্ষতি করছে কিনা, তা নিয়ে জনমনে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্লুটুথ মূলত ‘নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশন’ নির্গত করে। এক্স-রে বা পারমাণবিক বর্জ্যের মতো আয়োনাইজিং রেডিয়েশন ডিএনএ-র ক্ষতি করতে পারলেও, ব্লুটুথের বিকিরণে সেই শক্তি নেই এবং এটি সরাসরি ক্যানসারের কারণ হওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কেন ফস্টার জানিয়েছেন, ব্লুটুথ ডিভাইসগুলো মোবাইল ফোনের তুলনায় অনেক কম বিকিরণ ছড়ায়। দীর্ঘক্ষণ হেডফোন ব্যবহারে শরীরে কিছুটা এক্সপোজার বাড়লেও ফোন সরাসরি কানের কাছে ধরে রাখার চেয়ে এটি অনেক বেশি নিরাপদ। এমনকি অ্যাপল এয়ারপডের মতো আধুনিক ডিভাইসের অ্যান্টেনা কানের বাইরের অংশে থাকায় ঝুঁকির মাত্রা আরও কমে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিকিরণের চেয়েও ব্লুটুথ হেডফোন ব্যবহারের বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হলো শ্রবণশক্তি হ্রাস পাওয়া। দীর্ঘক্ষণ ৮০ শতাংশের বেশি ভলিউমে গান শুনলে স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি নষ্ট হতে পারে। এছাড়া হেডফোন লাগিয়ে হাঁটাচলা করার সময় পারিপার্শ্বিক শব্দ শুনতে না পাওয়া বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকির চেয়েও তাৎক্ষণিক বড় বিপদ হিসেবে গণ্য করা হয়।
রেডিয়েশন নিয়ে যারা সচেতন থাকতে চান, তাদের জন্য বিশেষজ্ঞরা দিনে সর্বোচ্চ ৬০ থেকে ৯০ মিনিট হেডফোন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। এক্ষেত্রে ভলিউম ৬০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে রাখা জরুরি। এছাড়া বিকিরণ নিয়ে উদ্বেগ থাকলে তারযুক্ত হেডফোন ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প এবং ব্যবহার শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কান থেকে ডিভাইসটি খুলে রাখা উচিত।
পরিশেষে, ব্লুটুথ ডিভাইস ব্যবহারে ক্যানসার বা মস্তিষ্কের ক্ষতির অকাট্য প্রমাণ না থাকলেও শ্রবণশক্তি রক্ষা এবং দুর্ঘটনা এড়াতে সচেতন ব্যবহারই প্রধান সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন