ঢাকা নিউজ

কুরবানির গোশতে বিয়ের মেহমানদারি করা কি জায়েজ?



কুরবানির গোশতে বিয়ের মেহমানদারি করা কি জায়েজ?
ছবি : সংগৃহীত

কুরবানি ইসলামের একটি অনন্য ইবাদত যা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আদায় করা হয়। এই ইবাদত সম্পন্ন হওয়ার পর কুরবানির গোশত দিয়ে বিয়ে, ওয়ালিমা বা অন্য যেকোনো বৈধ সামাজিক অনুষ্ঠানে মেহমান আপ্যায়ন করা ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ জায়েজ। এতে কুরবানির কোনো ক্ষতি হয় না, বরং এটি মানুষের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার একটি মাধ্যম।

তবে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়তের বিশুদ্ধতা। কুরবানির মূল উদ্দেশ্য হতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাকওয়া অর্জন, কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান বা ভোজের আয়োজন নয়। পবিত্র কুরআনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, আল্লাহর কাছে কুরবানির পশুর গোশত বা রক্ত পৌঁছায় না, বরং পৌঁছায় বান্দার তাকওয়া। তাই অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্দেশ্যে বা লোক দেখানোর নিয়তে কুরবানি করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। যদি কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টির পরিবর্তে বিয়ে বা অন্য কোনো জাগতিক উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে পশু জবাই করে, তবে তার কুরবানি সহিহ হবে না। হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর ত্যাগের মহিমা আমাদের এই শিক্ষাই দেয় যে, মুমিনের নামাজ, কুরবানি এবং জীবন-মৃত্যু সবকিছুই হতে হবে বিশ্বজগতের প্রতিপালকের জন্য।

পরিশেষে, কুরবানির গোশত নিজে খাওয়া এবং অভাবগ্রস্ত দরিদ্রদের পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজন ও মেহমানদের খাওয়ানো একটি পুণ্যময় কাজ। কুরবানির প্রকৃত সৌন্দর্য তখনই প্রকাশ পায় যখন এর মাধ্যমে গরিব মানুষের মুখে হাসি ফোটে এবং আত্মীয়তার বন্ধন দৃঢ় হয়। তাই নিয়তের স্বচ্ছতা বজায় রেখে কুরবানির গোশত দিয়ে যেকোনো মেহমানদারি সম্পন্ন করা বৈধ এবং এতে কোনো বাধা নেই।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬


কুরবানির গোশতে বিয়ের মেহমানদারি করা কি জায়েজ?

প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬

featured Image

কুরবানি ইসলামের একটি অনন্য ইবাদত যা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আদায় করা হয়। এই ইবাদত সম্পন্ন হওয়ার পর কুরবানির গোশত দিয়ে বিয়ে, ওয়ালিমা বা অন্য যেকোনো বৈধ সামাজিক অনুষ্ঠানে মেহমান আপ্যায়ন করা ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ জায়েজ। এতে কুরবানির কোনো ক্ষতি হয় না, বরং এটি মানুষের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার একটি মাধ্যম।

তবে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়তের বিশুদ্ধতা। কুরবানির মূল উদ্দেশ্য হতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাকওয়া অর্জন, কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান বা ভোজের আয়োজন নয়। পবিত্র কুরআনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, আল্লাহর কাছে কুরবানির পশুর গোশত বা রক্ত পৌঁছায় না, বরং পৌঁছায় বান্দার তাকওয়া। তাই অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্দেশ্যে বা লোক দেখানোর নিয়তে কুরবানি করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। যদি কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টির পরিবর্তে বিয়ে বা অন্য কোনো জাগতিক উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে পশু জবাই করে, তবে তার কুরবানি সহিহ হবে না। হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর ত্যাগের মহিমা আমাদের এই শিক্ষাই দেয় যে, মুমিনের নামাজ, কুরবানি এবং জীবন-মৃত্যু সবকিছুই হতে হবে বিশ্বজগতের প্রতিপালকের জন্য।

পরিশেষে, কুরবানির গোশত নিজে খাওয়া এবং অভাবগ্রস্ত দরিদ্রদের পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজন ও মেহমানদের খাওয়ানো একটি পুণ্যময় কাজ। কুরবানির প্রকৃত সৌন্দর্য তখনই প্রকাশ পায় যখন এর মাধ্যমে গরিব মানুষের মুখে হাসি ফোটে এবং আত্মীয়তার বন্ধন দৃঢ় হয়। তাই নিয়তের স্বচ্ছতা বজায় রেখে কুরবানির গোশত দিয়ে যেকোনো মেহমানদারি সম্পন্ন করা বৈধ এবং এতে কোনো বাধা নেই।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ