বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সম্প্রতি বাংলাদেশকে হামের ক্ষেত্রে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কোভিড-১৯ অতিমারির সময় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি বিঘ্নিত হওয়া এবং জনগণের মধ্যে টিকা গ্রহণের প্রবণতা কমে যাওয়ায় দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ যা মূলত শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে ছড়ায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্যমতে, একজন আক্রান্ত শিশু গড়ে ১২ থেকে ১৮ জন সুস্থ শিশুকে সংক্রমিত করতে পারে। বর্তমানে দেশে বিশেষ করে পাহাড়ি ও উপকূলীয় দুর্গম অঞ্চলগুলোতে এই রোগের ক্লাস্টার সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হামের সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত করে দেয়, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ইমিউন অ্যামনেশিয়া’ বলা হয়। এতে আক্রান্ত শিশু তার অতীতে অর্জিত সব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং পরবর্তী ২-৩ বছর নিউমোনিয়া বা মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার চরম ঝুঁকিতে থাকে।
হাম প্রতিরোধ ও শিশুমৃত্যু রোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞরা ত্রি-মুখী কৌশলের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রথমত, যেসব শিশু নিয়মিত টিকা মিস করেছে তাদের দ্রুত ‘ক্যাচ-আপ ক্যাম্পেইন’-এর মাধ্যমে টিকার আওতায় আনতে হবে। দ্বিতীয়ত, আক্রান্ত শিশুকে উচ্চমাত্রার ভিটামিন-এ প্রদান করলে মৃত্যুঝুঁকি প্রায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব।
সর্বোপরি জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। শরীরে দানা বা র্যাশ ওঠার ৪ দিন আগে ও ৪ দিন পরে শিশু সবথেকে বেশি ভাইরাস ছড়ায়, তাই এই সময়ে আক্রান্ত শিশুকে আইসোলেশনে রাখা এবং মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হলে এই সম্ভাব্য মহামারি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সম্প্রতি বাংলাদেশকে হামের ক্ষেত্রে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কোভিড-১৯ অতিমারির সময় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি বিঘ্নিত হওয়া এবং জনগণের মধ্যে টিকা গ্রহণের প্রবণতা কমে যাওয়ায় দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ যা মূলত শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে ছড়ায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্যমতে, একজন আক্রান্ত শিশু গড়ে ১২ থেকে ১৮ জন সুস্থ শিশুকে সংক্রমিত করতে পারে। বর্তমানে দেশে বিশেষ করে পাহাড়ি ও উপকূলীয় দুর্গম অঞ্চলগুলোতে এই রোগের ক্লাস্টার সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হামের সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত করে দেয়, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ইমিউন অ্যামনেশিয়া’ বলা হয়। এতে আক্রান্ত শিশু তার অতীতে অর্জিত সব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং পরবর্তী ২-৩ বছর নিউমোনিয়া বা মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার চরম ঝুঁকিতে থাকে।
হাম প্রতিরোধ ও শিশুমৃত্যু রোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞরা ত্রি-মুখী কৌশলের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রথমত, যেসব শিশু নিয়মিত টিকা মিস করেছে তাদের দ্রুত ‘ক্যাচ-আপ ক্যাম্পেইন’-এর মাধ্যমে টিকার আওতায় আনতে হবে। দ্বিতীয়ত, আক্রান্ত শিশুকে উচ্চমাত্রার ভিটামিন-এ প্রদান করলে মৃত্যুঝুঁকি প্রায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব।
সর্বোপরি জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। শরীরে দানা বা র্যাশ ওঠার ৪ দিন আগে ও ৪ দিন পরে শিশু সবথেকে বেশি ভাইরাস ছড়ায়, তাই এই সময়ে আক্রান্ত শিশুকে আইসোলেশনে রাখা এবং মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হলে এই সম্ভাব্য মহামারি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন