ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে নফল কুরবানি করা সম্পূর্ণ বৈধ এবং এটি মৃত ব্যক্তির জন্য সওয়াব পৌঁছানোর একটি অন্যতম মাধ্যম। তবে এই কুরবানির গোশত খাওয়া বা বিতরণের বিধানটি মূলত নির্ভর করে মৃত ব্যক্তি জীবদ্দশায় এর জন্য কোনো অসিয়ত করে গেছেন কি না—তার ওপর।
নিচে এর বিস্তারিত বিধান তুলে ধরা হলো:
মৃত ব্যক্তি যদি মৃত্যুর আগে কুরবানি করার জন্য কোনো অসিয়ত না করে যান এবং আপনি নিজের পক্ষ থেকে তার সওয়াবের উদ্দেশ্যে কুরবানি করেন, তবে সেটি নফল কুরবানি হিসেবে গণ্য হবে।
গোশত বন্টনের নিয়ম: এই কুরবানির গোশত সাধারণ কুরবানির মতোই। অর্থাৎ, এই গোশত আপনি নিজে বা আপনার পরিবার খেতে পারবে, আত্মীয়-স্বজনকে দেওয়া যাবে এবং গরিব-দুঃখীদের মাঝেও বিতরণ করা যাবে।
যদি মৃত ব্যক্তি জীবিত থাকা অবস্থায় তার সম্পদ থেকে কুরবানি করার জন্য অসিয়ত করে যান এবং সেই অসিয়ত অনুযায়ী তার রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে কুরবানি দেওয়া হয়, তবে এর বিধান ভিন্ন হবে।
গোশত বন্টনের নিয়ম: এই কুরবানির গোশত নিজে বা নিজের পরিবারের কেউ খেতে পারবে না এবং কোনো সম্পদশালী আত্মীয়কেও দেওয়া যাবে না। এই কুরবানির সম্পূর্ণ গোশত দরিদ্র, মিসকিন ও অভাবীদের মাঝে সদকা (দান) করে দিতে হবে।
নফল সদকার বৈধতা: হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবীজিকে (সা.) জিজ্ঞেস করলেন যে তার মা হঠাৎ মারা গেছেন এবং তিনি বেঁচে থাকলে হয়তো সদকা করতেন। এখন তার পক্ষ থেকে সদকা করলে তিনি সওয়াব পাবেন কি না? নবীজি (সা.) উত্তর দিলেন, "হ্যাঁ" (মুসলিম ৪০৭৪)।
উম্মতের জন্য নবীজির কুরবানি: রাসুলুল্লাহ (সা.) কুরবানি করার সময় দুটি মেষ জবাই করতেন—একটি নিজের ও পরিবারের জন্য এবং অপরটি তার ওইসব উম্মতের (জীবিত ও মৃত) পক্ষ থেকে যারা আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্য দিয়েছেন (ইবনে মাজাহ ৩১২২)।
সারসংক্ষেপ: মৃত ব্যক্তি অসিয়ত না করলে সেই কুরবানির গোশত নিজেরা খেতে পারবেন ও সবাইকে দিতে পারবেন। আর যদি মৃত ব্যক্তির অসিয়ত বা ইচ্ছায় এই কুরবানি করা হয়, তবে তার সবটুকু গোশতই গরিবদের মাঝে দান করে দিতে হবে।

সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬
ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে নফল কুরবানি করা সম্পূর্ণ বৈধ এবং এটি মৃত ব্যক্তির জন্য সওয়াব পৌঁছানোর একটি অন্যতম মাধ্যম। তবে এই কুরবানির গোশত খাওয়া বা বিতরণের বিধানটি মূলত নির্ভর করে মৃত ব্যক্তি জীবদ্দশায় এর জন্য কোনো অসিয়ত করে গেছেন কি না—তার ওপর।
নিচে এর বিস্তারিত বিধান তুলে ধরা হলো:
মৃত ব্যক্তি যদি মৃত্যুর আগে কুরবানি করার জন্য কোনো অসিয়ত না করে যান এবং আপনি নিজের পক্ষ থেকে তার সওয়াবের উদ্দেশ্যে কুরবানি করেন, তবে সেটি নফল কুরবানি হিসেবে গণ্য হবে।
গোশত বন্টনের নিয়ম: এই কুরবানির গোশত সাধারণ কুরবানির মতোই। অর্থাৎ, এই গোশত আপনি নিজে বা আপনার পরিবার খেতে পারবে, আত্মীয়-স্বজনকে দেওয়া যাবে এবং গরিব-দুঃখীদের মাঝেও বিতরণ করা যাবে।
যদি মৃত ব্যক্তি জীবিত থাকা অবস্থায় তার সম্পদ থেকে কুরবানি করার জন্য অসিয়ত করে যান এবং সেই অসিয়ত অনুযায়ী তার রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে কুরবানি দেওয়া হয়, তবে এর বিধান ভিন্ন হবে।
গোশত বন্টনের নিয়ম: এই কুরবানির গোশত নিজে বা নিজের পরিবারের কেউ খেতে পারবে না এবং কোনো সম্পদশালী আত্মীয়কেও দেওয়া যাবে না। এই কুরবানির সম্পূর্ণ গোশত দরিদ্র, মিসকিন ও অভাবীদের মাঝে সদকা (দান) করে দিতে হবে।
নফল সদকার বৈধতা: হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবীজিকে (সা.) জিজ্ঞেস করলেন যে তার মা হঠাৎ মারা গেছেন এবং তিনি বেঁচে থাকলে হয়তো সদকা করতেন। এখন তার পক্ষ থেকে সদকা করলে তিনি সওয়াব পাবেন কি না? নবীজি (সা.) উত্তর দিলেন, "হ্যাঁ" (মুসলিম ৪০৭৪)।
উম্মতের জন্য নবীজির কুরবানি: রাসুলুল্লাহ (সা.) কুরবানি করার সময় দুটি মেষ জবাই করতেন—একটি নিজের ও পরিবারের জন্য এবং অপরটি তার ওইসব উম্মতের (জীবিত ও মৃত) পক্ষ থেকে যারা আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্য দিয়েছেন (ইবনে মাজাহ ৩১২২)।
সারসংক্ষেপ: মৃত ব্যক্তি অসিয়ত না করলে সেই কুরবানির গোশত নিজেরা খেতে পারবেন ও সবাইকে দিতে পারবেন। আর যদি মৃত ব্যক্তির অসিয়ত বা ইচ্ছায় এই কুরবানি করা হয়, তবে তার সবটুকু গোশতই গরিবদের মাঝে দান করে দিতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন