পরমাণু কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুতে নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে ইরান। কোনো অবস্থাতেই দেশের সংরক্ষিত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বাইরে পাঠাতে রাজি নয় তেহরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনেইয়ের এই কঠোর অবস্থান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির প্রক্রিয়াকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
ইরানের প্রায়-অস্ত্র-গ্রেডের ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানো যাবে না বলে দেশটির সর্বোচ্চ নেতার জারি করা এই নির্দেশ শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিল। এর ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শেষ করার আলোচনা আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে তাদের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ রাখতে দেবে না এবং যেকোনো মূল্যে তা নিয়ে নেওয়া হবে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, ট্রাম্প ইসরায়েলকে আশ্বাস দিয়েছেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় এই মজুদ ইরান থেকে সরিয়ে নিতে যেকোনো শান্তি চুক্তিতে অবশ্যই একটি ধারা অন্তর্ভুক্ত রাখা হবে।
চুক্তি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সামরিক আক্রমণের হুমকি অব্যাহত রেখেছেন এবং সঠিক জবাব না পেলে খুব শিগগির ইরান আবার হামলার শিকার হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এর জবাবে ইরানের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রুশ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, ইরানের হাতে এমন অত্যাধুনিক অস্ত্র রয়েছে যা আগে কখনো যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়নি এবং সম্ভাব্য নতুন হামলার বিপরীতে তেহরান ভয়াবহ প্রতিরোধের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ৮ এপ্রিল একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও শান্তি প্রচেষ্টায় কোনো বড় অগ্রগতি হয়নি। ইরানের পাঠানো ১৪ দফা প্রস্তাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া জবাব বর্তমানে তেহরান পর্যালোচনা করছে এবং এই জটিল পরিস্থিতি নিরসনে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তেহরান সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, এই ইউরেনিয়াম উপাদান বিদেশে পাঠানো হলে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ আক্রমণের মুখে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে। এদিকে ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ এবং বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালীর ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলা এই আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ, প্রক্সি মিলিশিয়াদের প্রতি সমর্থন বন্ধ এবং ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নির্মূল না করা পর্যন্ত তিনি এই যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলে মনে করবেন না। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস জানিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের রেড লাইন সম্পর্কে স্পষ্ট এবং তিনি কেবল আমেরিকান জনগণকে অগ্রাধিকার দেওয়া চুক্তিতেই রাজি হবেন।
ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করছেন এই যুদ্ধবিরতি ওয়াশিংটনের একটি কৌশলগত ছলনা, যা বিমান হামলা পুনরায় শুরু করার আগে নিরাপত্তার একটি আবহ তৈরি করার জন্য করা হয়েছে। ইরানের শীর্ষ শান্তি আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফও অভিযোগ করেছেন যে, শত্রুপক্ষের প্রকাশ্য ও গোপন চাল থেকে বোঝা যাচ্ছে আমেরিকানরা নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬
পরমাণু কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুতে নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে ইরান। কোনো অবস্থাতেই দেশের সংরক্ষিত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বাইরে পাঠাতে রাজি নয় তেহরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনেইয়ের এই কঠোর অবস্থান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির প্রক্রিয়াকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
ইরানের প্রায়-অস্ত্র-গ্রেডের ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানো যাবে না বলে দেশটির সর্বোচ্চ নেতার জারি করা এই নির্দেশ শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিল। এর ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শেষ করার আলোচনা আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে তাদের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ রাখতে দেবে না এবং যেকোনো মূল্যে তা নিয়ে নেওয়া হবে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, ট্রাম্প ইসরায়েলকে আশ্বাস দিয়েছেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় এই মজুদ ইরান থেকে সরিয়ে নিতে যেকোনো শান্তি চুক্তিতে অবশ্যই একটি ধারা অন্তর্ভুক্ত রাখা হবে।
চুক্তি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সামরিক আক্রমণের হুমকি অব্যাহত রেখেছেন এবং সঠিক জবাব না পেলে খুব শিগগির ইরান আবার হামলার শিকার হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এর জবাবে ইরানের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রুশ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, ইরানের হাতে এমন অত্যাধুনিক অস্ত্র রয়েছে যা আগে কখনো যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়নি এবং সম্ভাব্য নতুন হামলার বিপরীতে তেহরান ভয়াবহ প্রতিরোধের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ৮ এপ্রিল একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও শান্তি প্রচেষ্টায় কোনো বড় অগ্রগতি হয়নি। ইরানের পাঠানো ১৪ দফা প্রস্তাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া জবাব বর্তমানে তেহরান পর্যালোচনা করছে এবং এই জটিল পরিস্থিতি নিরসনে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তেহরান সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, এই ইউরেনিয়াম উপাদান বিদেশে পাঠানো হলে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ আক্রমণের মুখে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে। এদিকে ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ এবং বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালীর ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলা এই আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ, প্রক্সি মিলিশিয়াদের প্রতি সমর্থন বন্ধ এবং ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নির্মূল না করা পর্যন্ত তিনি এই যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলে মনে করবেন না। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস জানিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের রেড লাইন সম্পর্কে স্পষ্ট এবং তিনি কেবল আমেরিকান জনগণকে অগ্রাধিকার দেওয়া চুক্তিতেই রাজি হবেন।
ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করছেন এই যুদ্ধবিরতি ওয়াশিংটনের একটি কৌশলগত ছলনা, যা বিমান হামলা পুনরায় শুরু করার আগে নিরাপত্তার একটি আবহ তৈরি করার জন্য করা হয়েছে। ইরানের শীর্ষ শান্তি আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফও অভিযোগ করেছেন যে, শত্রুপক্ষের প্রকাশ্য ও গোপন চাল থেকে বোঝা যাচ্ছে আমেরিকানরা নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন