জিহ্বার ক্যানসারে আক্রান্ত আরও এক অসহায় নারীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। ইতোমধ্যে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অসুস্থ খেলন রানী তালুকদারের চিকিৎসা শুরু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই নারীর ছেলে তপন কুমার তালুকদার। খেলন রানী তালুকদারের বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ধনুন্দ গ্রামে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত দেড় বছর ধরে জিহ্বার ক্যানসারে ভুগছেন খেলন রানী তালুকদার। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চালাতে গিয়ে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়ে। স্ত্রীকে সুস্থ করে তুলতে শেষ সম্বল এক টুকরো জমিও বিক্রি করে দেন তার স্বামী অখিল চন্দ্র তালুকদার। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করানো হলেও অর্থাভাবে একপর্যায়ে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়। পরে বাড়িতেই অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে ধুঁকে ধুঁকে দিন কাটছিল খেলন রানী তালুকদারের।
প্রায় এক সপ্তাহ আগে খেলন রানী তালুকদারকে নিয়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের কাছে যান তার ছেলে তপন কুমার তালুকদার। সেখানে গিয়ে নিজেদের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন তারা। বিষয়টি শুনে তাৎক্ষণিকভাবে ওই নারীর চিকিৎসার দায়িত্ব নেন কায়সার কামাল। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার লোক পাঠিয়ে খেলন রানীকে ময়মনসিংহে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার চিকিৎসা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলার অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নানামুখী মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তার সহযোগিতায় দুই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অন্তত ৩৫ জন জটিল রোগীর সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হৃৎপিণ্ডে ছিদ্র নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশু, টিউমার আক্রান্ত রোগী এবং ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের দিয়ে প্রায় ১৭ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় এক হাজার ছানি আক্রান্ত রোগীর চোখের অপারেশনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, খেলন রানী তালুকদার মুখের ক্যানসারে আক্রান্ত। গত সপ্তাহে যখন বাড়ি গিয়েছিলাম তখন তিনি তার ছেলেকে নিয়ে আমার কাছে এসেছিলেন। তিনি কোনো কথা না বলেই তার জিহ্বাটা আমাকে দেখালেন, ঠিক তার আম্মা যেভাবে তাকে দেখাতেন। তার আম্মাও একই ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন এবং বিষয়টি তাকে খুবই নাড়া দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে তাদের টিমের তত্ত্বাবধানে খেলন রানী তালুকদারের চিকিৎসা শুরু হয়েছে। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন, যেন তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন। মানবতার কল্যাণে তাদের এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬
জিহ্বার ক্যানসারে আক্রান্ত আরও এক অসহায় নারীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। ইতোমধ্যে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অসুস্থ খেলন রানী তালুকদারের চিকিৎসা শুরু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই নারীর ছেলে তপন কুমার তালুকদার। খেলন রানী তালুকদারের বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ধনুন্দ গ্রামে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত দেড় বছর ধরে জিহ্বার ক্যানসারে ভুগছেন খেলন রানী তালুকদার। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চালাতে গিয়ে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়ে। স্ত্রীকে সুস্থ করে তুলতে শেষ সম্বল এক টুকরো জমিও বিক্রি করে দেন তার স্বামী অখিল চন্দ্র তালুকদার। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করানো হলেও অর্থাভাবে একপর্যায়ে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়। পরে বাড়িতেই অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে ধুঁকে ধুঁকে দিন কাটছিল খেলন রানী তালুকদারের।
প্রায় এক সপ্তাহ আগে খেলন রানী তালুকদারকে নিয়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের কাছে যান তার ছেলে তপন কুমার তালুকদার। সেখানে গিয়ে নিজেদের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন তারা। বিষয়টি শুনে তাৎক্ষণিকভাবে ওই নারীর চিকিৎসার দায়িত্ব নেন কায়সার কামাল। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার লোক পাঠিয়ে খেলন রানীকে ময়মনসিংহে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার চিকিৎসা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলার অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নানামুখী মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তার সহযোগিতায় দুই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অন্তত ৩৫ জন জটিল রোগীর সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হৃৎপিণ্ডে ছিদ্র নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশু, টিউমার আক্রান্ত রোগী এবং ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের দিয়ে প্রায় ১৭ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় এক হাজার ছানি আক্রান্ত রোগীর চোখের অপারেশনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, খেলন রানী তালুকদার মুখের ক্যানসারে আক্রান্ত। গত সপ্তাহে যখন বাড়ি গিয়েছিলাম তখন তিনি তার ছেলেকে নিয়ে আমার কাছে এসেছিলেন। তিনি কোনো কথা না বলেই তার জিহ্বাটা আমাকে দেখালেন, ঠিক তার আম্মা যেভাবে তাকে দেখাতেন। তার আম্মাও একই ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন এবং বিষয়টি তাকে খুবই নাড়া দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে তাদের টিমের তত্ত্বাবধানে খেলন রানী তালুকদারের চিকিৎসা শুরু হয়েছে। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন, যেন তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন। মানবতার কল্যাণে তাদের এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন