ঢাকা নিউজ

সিল্কসিটি এক্সপ্রেসে ব্যাগ রাখা নিয়ে বিরোধ, প্রকৌশলী ও কিশোরকে মারধর



সিল্কসিটি এক্সপ্রেসে ব্যাগ রাখা নিয়ে বিরোধ, প্রকৌশলী ও কিশোরকে মারধর
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা-রাজশাহী রুটের আন্তঃনগর সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনে ব্যাগ রাখা নিয়ে তর্কের জেরে এক নির্বাহী প্রকৌশলী ও এক কিশোরের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার রাত ৮টার দিকে পাবনার চাটমোহর রেলস্টেশনে এই ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার মামুনুর রশীদ বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের একজন নির্বাহী প্রকৌশলী।

প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে সূত্র জানায়, প্রকৌশলী মামুনুর রশীদ কমলাপুর থেকে ট্রেনে ওঠার পর বিমানবন্দর স্টেশন থেকে দুই নারী যাত্রী একই বগিতে ওঠেন। তারা নিজেদের লাগেজ রাখার সুবিধার্থে প্রকৌশলীর ট্রাভেল ব্যাগটি সরিয়ে অন্য একটি ব্যাগের ওপর রাখেন। টাঙ্গাইল এলাকায় পৌঁছালে বিষয়টি নিয়ে দুই নারী যাত্রীর সঙ্গে প্রকৌশলীর বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ট্রেনে দায়িত্ব পালনরত সিরাজগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শামীম আহমেদ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে প্রকৌশলীর আসন পরিবর্তন করে দেন।

তবে ট্রেনটি চাটমোহর স্টেশনে পৌঁছালে ওই দুই নারী ট্রেন থেকে নেমে স্থানীয় বখাটে ও আত্মীয়-স্বজনদের ডেকে আনেন। একদল যুবক বগিতে উঠে প্রথমে ভুলবশত প্রকৌশলীর আসনে বসে থাকা এক কিশোরকে এবং পরবর্তীতে প্রকৌশলী মামুনুর রশীদকে শনাক্ত করে তার ওপর হামলা চালায়। যাত্রীদের অভিযোগ, হামলার সময় রেলওয়ে পুলিশের তাৎক্ষণিক কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি এবং হামলাকারীরা ট্রেন ছাড়ার ঠিক আগে নেমে যাওয়ার পর পুলিশ আসে। পরবর্তীতে ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনে আহত কিশোর তার বোনকে নিয়ে ট্রেন থেকে নেমে যায়।

অভিযুক্ত নারী যাত্রীদের ভাই ও স্বামী পরিচয়ে সুদীপ্ত সাহা দীপ দাবি করেন, প্রকৌশলী তার বোন ও স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করেছিলেন বলেই এই মারধরের ঘটনা ঘটেছে। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে প্রকৌশলী মামুনুর রশীদ বলেন, হামলাকারীরা সন্ত্রাসী প্রকৃতির এবং আইনি জটিলতা এড়াতে তারা এখন অপপ্রচার চালাচ্ছে। ঝামেলা এড়াতে তিনি কোনো মামলা-মোকদ্দমা করতে চান না বলে জানিয়েছেন।

ঘটনার বিষয়ে এএসআই শামীম আহমেদ উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, ব্যাগ রাখা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি তারা মিটমাট করে দেওয়ার পরও ওই দুই নারী এলাকায় গিয়ে লোকজন ডেকে এনে এই হামলা চালিয়েছেন। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ জানান, প্রকৌশলী মামলা করতে আগ্রহী না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট নারী যাত্রীদের বিষয়ে আর অনুসন্ধান করা হয়নি। তবে মামলা হলে রেলওয়ের সংরক্ষিত তথ্যভাণ্ডার থেকে তাদের সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

বুধবার, ২০ মে ২০২৬


সিল্কসিটি এক্সপ্রেসে ব্যাগ রাখা নিয়ে বিরোধ, প্রকৌশলী ও কিশোরকে মারধর

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬

featured Image

ঢাকা-রাজশাহী রুটের আন্তঃনগর সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনে ব্যাগ রাখা নিয়ে তর্কের জেরে এক নির্বাহী প্রকৌশলী ও এক কিশোরের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার রাত ৮টার দিকে পাবনার চাটমোহর রেলস্টেশনে এই ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার মামুনুর রশীদ বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের একজন নির্বাহী প্রকৌশলী।

প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে সূত্র জানায়, প্রকৌশলী মামুনুর রশীদ কমলাপুর থেকে ট্রেনে ওঠার পর বিমানবন্দর স্টেশন থেকে দুই নারী যাত্রী একই বগিতে ওঠেন। তারা নিজেদের লাগেজ রাখার সুবিধার্থে প্রকৌশলীর ট্রাভেল ব্যাগটি সরিয়ে অন্য একটি ব্যাগের ওপর রাখেন। টাঙ্গাইল এলাকায় পৌঁছালে বিষয়টি নিয়ে দুই নারী যাত্রীর সঙ্গে প্রকৌশলীর বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ট্রেনে দায়িত্ব পালনরত সিরাজগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শামীম আহমেদ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে প্রকৌশলীর আসন পরিবর্তন করে দেন।

তবে ট্রেনটি চাটমোহর স্টেশনে পৌঁছালে ওই দুই নারী ট্রেন থেকে নেমে স্থানীয় বখাটে ও আত্মীয়-স্বজনদের ডেকে আনেন। একদল যুবক বগিতে উঠে প্রথমে ভুলবশত প্রকৌশলীর আসনে বসে থাকা এক কিশোরকে এবং পরবর্তীতে প্রকৌশলী মামুনুর রশীদকে শনাক্ত করে তার ওপর হামলা চালায়। যাত্রীদের অভিযোগ, হামলার সময় রেলওয়ে পুলিশের তাৎক্ষণিক কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি এবং হামলাকারীরা ট্রেন ছাড়ার ঠিক আগে নেমে যাওয়ার পর পুলিশ আসে। পরবর্তীতে ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনে আহত কিশোর তার বোনকে নিয়ে ট্রেন থেকে নেমে যায়।

অভিযুক্ত নারী যাত্রীদের ভাই ও স্বামী পরিচয়ে সুদীপ্ত সাহা দীপ দাবি করেন, প্রকৌশলী তার বোন ও স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করেছিলেন বলেই এই মারধরের ঘটনা ঘটেছে। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে প্রকৌশলী মামুনুর রশীদ বলেন, হামলাকারীরা সন্ত্রাসী প্রকৃতির এবং আইনি জটিলতা এড়াতে তারা এখন অপপ্রচার চালাচ্ছে। ঝামেলা এড়াতে তিনি কোনো মামলা-মোকদ্দমা করতে চান না বলে জানিয়েছেন।

ঘটনার বিষয়ে এএসআই শামীম আহমেদ উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, ব্যাগ রাখা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি তারা মিটমাট করে দেওয়ার পরও ওই দুই নারী এলাকায় গিয়ে লোকজন ডেকে এনে এই হামলা চালিয়েছেন। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ জানান, প্রকৌশলী মামলা করতে আগ্রহী না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট নারী যাত্রীদের বিষয়ে আর অনুসন্ধান করা হয়নি। তবে মামলা হলে রেলওয়ের সংরক্ষিত তথ্যভাণ্ডার থেকে তাদের সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ