পর্তুগালে মসজিদ নিয়ে বিব্রতকর ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে আছেন সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশি মুসলমানরা। দেশটির পর্তু শহরে বাংলাদেশি কমিউনিটির ব্যবহৃত হজরত হামজা মসজিদটিকে আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মসজিদটি পর্তুগাল এবং বিশেষ করে পর্তু শহরে বসবাসরত বাংলাদেশি ও মুসলিম কমিউনিটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল, যেখানে প্রতিদিন শত শত মানুষ নামাজ আদায় করেন এবং জুমার দিনে এই সংখ্যা প্রায় ১,৫০০ জনে পৌঁছায়। লিভরারিয়া লেলোর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘লেলো ভিতরিয়া, লিভ্রো ই তুরিজমো এলডিএ’ ভবনটি অধিগ্রহণের পর মসজিদের ভাড়া চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটিকে জানিয়েছে।
পর্তু সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগের নির্বাহী কর্তৃপক্ষ যে দুটি পরিত্যক্ত ভবন ধর্মীয় কমিউনিটিকে দেওয়ার কথা ভেবেছিল, বর্তমান প্রশাসন এখন সেগুলোকে নিলামে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে সিটি হলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে শহরে মসজিদ নির্মাণ তাদের অগ্রাধিকার নয়, তবে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোরও সমানভাবে ওই সম্পত্তি কেনার সুযোগ আছে। স্থানীয় প্রশাসনের এই বক্তব্যকে ঘিরে মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, ধর্মচর্চার স্থানকে “অগ্রাধিকার নয়” বলে উপস্থাপন করা বাস্তবে ধর্মীয় অধিকার ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নকে দুর্বল করতে পারে।
পর্তুগালের সংবিধান অনুযায়ী ধর্মচর্চা, উপাসনা ও ধর্মীয় সংগঠনের স্বাধীনতা একটি মৌলিক অধিকার এবং সংবিধানের ৪১ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা আছে যে ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে কাউকে নিপীড়ন, বঞ্চনা বা বাধার মুখে ফেলা যাবে না। ফলে মসজিদ-সংক্রান্ত যেকোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমতা ও বৈষম্যহীনতার নীতি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে মিউনিসিপ্যালিটির সর্বশেষ অবস্থান হলো, ভবনগুলোর নিলাম-প্রক্রিয়া যথানিয়মে এগোচ্ছে এবং সম্পত্তির নতুন মূল্যায়নও চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে আগামী ৩১ অক্টোবরের চুক্তি শেষ হওয়ার পর জায়গাটি অবশ্যই খালি করতে হবে।
বাংলাদেশ কমিউনিটি অফ পর্তুর সভাপতি শাহ আলম কাজল জানান, আগামী ৩১ অক্টোবর মসজিদের ভাড়া চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। তারা আশা করেছিলেন যে স্থানীয় প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন ও সংশ্লিষ্ট সামাজিক পক্ষগুলো এমন একটি সমাধানে পৌঁছাবে যাতে মুসলিমদের উপাসনার অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকে এবং একই সঙ্গে নগর ব্যবস্থাপনার প্রশ্নও আইনি ও ন্যায্য কাঠামোর ভেতরে সমাধান করা যায়। তিনি আরও জানান, তাঁরা বর্তমানে বিকল্প দেখছেন এবং দীর্ঘমেয়াদে মসজিদের জন্য সুবিধাসম্পন্ন একটি স্থান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন, যে বিষয়ে তাঁরা সর্বস্তরের নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
মুসলিম কমিউনিটি স্পষ্ট করেছে যে তারা কেবল একটি স্থায়ী, নিরাপদ ও বৈধ উপাসনাস্থল চায়। অন্যদিকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, সম্পূর্ণ নগর পরিকল্পনা ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার আইনি নিয়মের ভেতরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। তবে সংবেদনশীল এই ইস্যুতে স্বচ্ছতা, পারস্পরিক পরামর্শ ও আইনি সুরক্ষা না থাকলে সমাজে ভুল বার্তা ছড়াতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা সতর্ক করছেন। এখন দেখার বিষয়, আগামী ৩১ অক্টোবরের নির্ধারিত সময়সীমার আগে বিকল্প ব্যবস্থা, সংলাপ বা প্রশাসনিক সমাধানের কোনো কার্যকর পথ তৈরি হয় কিনা।

রোববার, ৩১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ মে ২০২৬
পর্তুগালে মসজিদ নিয়ে বিব্রতকর ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে আছেন সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশি মুসলমানরা। দেশটির পর্তু শহরে বাংলাদেশি কমিউনিটির ব্যবহৃত হজরত হামজা মসজিদটিকে আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মসজিদটি পর্তুগাল এবং বিশেষ করে পর্তু শহরে বসবাসরত বাংলাদেশি ও মুসলিম কমিউনিটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল, যেখানে প্রতিদিন শত শত মানুষ নামাজ আদায় করেন এবং জুমার দিনে এই সংখ্যা প্রায় ১,৫০০ জনে পৌঁছায়। লিভরারিয়া লেলোর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘লেলো ভিতরিয়া, লিভ্রো ই তুরিজমো এলডিএ’ ভবনটি অধিগ্রহণের পর মসজিদের ভাড়া চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটিকে জানিয়েছে।
পর্তু সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগের নির্বাহী কর্তৃপক্ষ যে দুটি পরিত্যক্ত ভবন ধর্মীয় কমিউনিটিকে দেওয়ার কথা ভেবেছিল, বর্তমান প্রশাসন এখন সেগুলোকে নিলামে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে সিটি হলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে শহরে মসজিদ নির্মাণ তাদের অগ্রাধিকার নয়, তবে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোরও সমানভাবে ওই সম্পত্তি কেনার সুযোগ আছে। স্থানীয় প্রশাসনের এই বক্তব্যকে ঘিরে মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, ধর্মচর্চার স্থানকে “অগ্রাধিকার নয়” বলে উপস্থাপন করা বাস্তবে ধর্মীয় অধিকার ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নকে দুর্বল করতে পারে।
পর্তুগালের সংবিধান অনুযায়ী ধর্মচর্চা, উপাসনা ও ধর্মীয় সংগঠনের স্বাধীনতা একটি মৌলিক অধিকার এবং সংবিধানের ৪১ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা আছে যে ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে কাউকে নিপীড়ন, বঞ্চনা বা বাধার মুখে ফেলা যাবে না। ফলে মসজিদ-সংক্রান্ত যেকোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমতা ও বৈষম্যহীনতার নীতি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে মিউনিসিপ্যালিটির সর্বশেষ অবস্থান হলো, ভবনগুলোর নিলাম-প্রক্রিয়া যথানিয়মে এগোচ্ছে এবং সম্পত্তির নতুন মূল্যায়নও চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে আগামী ৩১ অক্টোবরের চুক্তি শেষ হওয়ার পর জায়গাটি অবশ্যই খালি করতে হবে।
বাংলাদেশ কমিউনিটি অফ পর্তুর সভাপতি শাহ আলম কাজল জানান, আগামী ৩১ অক্টোবর মসজিদের ভাড়া চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। তারা আশা করেছিলেন যে স্থানীয় প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন ও সংশ্লিষ্ট সামাজিক পক্ষগুলো এমন একটি সমাধানে পৌঁছাবে যাতে মুসলিমদের উপাসনার অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকে এবং একই সঙ্গে নগর ব্যবস্থাপনার প্রশ্নও আইনি ও ন্যায্য কাঠামোর ভেতরে সমাধান করা যায়। তিনি আরও জানান, তাঁরা বর্তমানে বিকল্প দেখছেন এবং দীর্ঘমেয়াদে মসজিদের জন্য সুবিধাসম্পন্ন একটি স্থান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন, যে বিষয়ে তাঁরা সর্বস্তরের নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
মুসলিম কমিউনিটি স্পষ্ট করেছে যে তারা কেবল একটি স্থায়ী, নিরাপদ ও বৈধ উপাসনাস্থল চায়। অন্যদিকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, সম্পূর্ণ নগর পরিকল্পনা ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার আইনি নিয়মের ভেতরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। তবে সংবেদনশীল এই ইস্যুতে স্বচ্ছতা, পারস্পরিক পরামর্শ ও আইনি সুরক্ষা না থাকলে সমাজে ভুল বার্তা ছড়াতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা সতর্ক করছেন। এখন দেখার বিষয়, আগামী ৩১ অক্টোবরের নির্ধারিত সময়সীমার আগে বিকল্প ব্যবস্থা, সংলাপ বা প্রশাসনিক সমাধানের কোনো কার্যকর পথ তৈরি হয় কিনা।

আপনার মতামত লিখুন