বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা করা ব্যক্তিদের শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বুধবার ভোররাতে শূন্যরেখার ভারতীয় ভূখণ্ডে তিন দিন ধরে অবস্থান করা ১০-১২ জন নারী-পুরুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এদিন সকালে সীমান্তে বিজিবি ড্রোন উড়িয়েও তাদের উপস্থিতি দেখতে পায়নি। এদিকে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে সীমান্তে বিজিবির অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন ও বিভিন্ন বাঙ্কার থেকে সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হলেও স্বাভাবিক টহল অব্যাহত রয়েছে।
গত রোববার গভীর রাতে বেনাপোল সাদীপুর সীমান্তের ওপারে ভারতের নরহরিপুর এলাকায় রাতের আঁধারে তিনটি ট্রাকে করে দেড় শতাধিক মানুষকে জড়ো করে ভারতের বর্ডার গার্ড। এরপর সীমান্তের আলো নিভিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ প্রায় ১০-১২ জনকে শূন্যরেখায় ঠেলে পাঠালে যশোর ৪৯ ব্যাটালিয়নের টহল দলের বিজিবি সদস্যরা তাদের আটকে দেন এবং এর পর থেকে তারা সেখানে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম খান বলেন, রোববার রাত থেকে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার ছিল এবং বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে।
এদিকে সীমান্ত নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও স্থানীয় বাস্তবতা পর্যবেক্ষণে বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্ত পরিদর্শনে যান এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সীমান্ত পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, সীমান্তে পুশইন, হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক এবং বাংলাদেশ কোনোভাবেই পুশইন মেনে নেবে না। তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান পররাষ্ট্রনীতি যথেষ্ট কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। সীমান্ত হত্যা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর আন্তর্জাতিক বিচার দাবি করার পাশাপাশি তিনি স্থানীয় জনগণকে অনুপ্রবেশ বা পুশইনের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
অপরদিকে বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্ত পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে বেনাপোল বাজারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য খালিদ সাইফুল্লাহ জানান, সাদিপুরে পরিদর্শন শেষে গাড়িতে উঠার সময় প্রথমে ডিম নিক্ষেপ করা হয় এবং পরে বেনাপোল বাজারে পৌঁছালে বিএনপির নেতারা হামলা করেছে বলে তারা অভিযোগ করেন। হামলায় ছাত্রশক্তি নেতা খান মিফতাহুল মোস্তাফিজ অমিত, তাসকিন আহমেদ তাজিম ও যুবশক্তি নেতা রুপম আহসান অর্নবসহ চারজন আহত হয়েছেন। তবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও যুগ্ম সদস্য সচিব ফরিদুল হকসহ অন্য নেতারা নিরাপদে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।
হামলার পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তাদের আগমনের খবর পাওয়ার পর গত রাতে জোরপূর্বক পুশইন করা পরিবারগুলোকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সরিয়ে নিয়েছে এবং ফেরার পথে তাদের গাড়িতে হামলায় ৪ জন আহত ও গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। তবে বেনাপোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন এ ধরনের কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন এবং এনসিপি নেতাদের অভিযোগকে মিথ্যা বলে উল্লেখ করেছেন।

বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬
বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা করা ব্যক্তিদের শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বুধবার ভোররাতে শূন্যরেখার ভারতীয় ভূখণ্ডে তিন দিন ধরে অবস্থান করা ১০-১২ জন নারী-পুরুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এদিন সকালে সীমান্তে বিজিবি ড্রোন উড়িয়েও তাদের উপস্থিতি দেখতে পায়নি। এদিকে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে সীমান্তে বিজিবির অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন ও বিভিন্ন বাঙ্কার থেকে সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হলেও স্বাভাবিক টহল অব্যাহত রয়েছে।
গত রোববার গভীর রাতে বেনাপোল সাদীপুর সীমান্তের ওপারে ভারতের নরহরিপুর এলাকায় রাতের আঁধারে তিনটি ট্রাকে করে দেড় শতাধিক মানুষকে জড়ো করে ভারতের বর্ডার গার্ড। এরপর সীমান্তের আলো নিভিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ প্রায় ১০-১২ জনকে শূন্যরেখায় ঠেলে পাঠালে যশোর ৪৯ ব্যাটালিয়নের টহল দলের বিজিবি সদস্যরা তাদের আটকে দেন এবং এর পর থেকে তারা সেখানে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম খান বলেন, রোববার রাত থেকে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার ছিল এবং বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে।
এদিকে সীমান্ত নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও স্থানীয় বাস্তবতা পর্যবেক্ষণে বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্ত পরিদর্শনে যান এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সীমান্ত পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, সীমান্তে পুশইন, হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক এবং বাংলাদেশ কোনোভাবেই পুশইন মেনে নেবে না। তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান পররাষ্ট্রনীতি যথেষ্ট কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। সীমান্ত হত্যা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর আন্তর্জাতিক বিচার দাবি করার পাশাপাশি তিনি স্থানীয় জনগণকে অনুপ্রবেশ বা পুশইনের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
অপরদিকে বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্ত পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে বেনাপোল বাজারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য খালিদ সাইফুল্লাহ জানান, সাদিপুরে পরিদর্শন শেষে গাড়িতে উঠার সময় প্রথমে ডিম নিক্ষেপ করা হয় এবং পরে বেনাপোল বাজারে পৌঁছালে বিএনপির নেতারা হামলা করেছে বলে তারা অভিযোগ করেন। হামলায় ছাত্রশক্তি নেতা খান মিফতাহুল মোস্তাফিজ অমিত, তাসকিন আহমেদ তাজিম ও যুবশক্তি নেতা রুপম আহসান অর্নবসহ চারজন আহত হয়েছেন। তবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও যুগ্ম সদস্য সচিব ফরিদুল হকসহ অন্য নেতারা নিরাপদে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।
হামলার পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তাদের আগমনের খবর পাওয়ার পর গত রাতে জোরপূর্বক পুশইন করা পরিবারগুলোকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সরিয়ে নিয়েছে এবং ফেরার পথে তাদের গাড়িতে হামলায় ৪ জন আহত ও গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। তবে বেনাপোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন এ ধরনের কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন এবং এনসিপি নেতাদের অভিযোগকে মিথ্যা বলে উল্লেখ করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন