ঢাকা নিউজ

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে কিউএমই আইনের ভবিষ্যৎ ও ইসরাইলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব



ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে কিউএমই আইনের ভবিষ্যৎ ও ইসরাইলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের দশক পুরোনো ‘কোয়ালিটেটিভ মিলিটারি এজ’ (কিউএমই) নীতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্তের কারণে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

কিউএমই আইনের পটভূমি ও গুরুত্ব

  • উদ্দেশ্য: ১ কোটির কম জনসংখ্যার দেশ ইসরাইলকে প্রযুক্তি ও শক্তিতে মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী বা জোটের চেয়ে গুণগতভাবে এগিয়ে রাখা।

  • আইনি রূপ: ২০০৮ সালে 'নেভাল ভেসেল ট্রান্সফার অ্যাক্ট'-এর মাধ্যমে এটি মার্কিন আইনে পরিণত হয়। ২০১৩ সালে আইনটি আরও জোরদার করে প্রতি দুই বছর পর পর কংগ্রেসে মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়।

  • আর্থিক সহায়তা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ইসরাইলকে ২৪০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সামরিক সাহায্য দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওবামা প্রশাসনের চুক্তি অনুযায়ী ২০২৯ সাল পর্যন্ত বার্ষিক ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের গ্যারান্টি থাকলেও গাজায় আগ্রাসনের পর ২০২৪ সালে তা রেকর্ড ১২.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।

এফ-৩৫ এবং বর্তমান সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব

  • একচেটিয়া সুবিধা: বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত ‘এফ-৩৫ স্টিলথ ফাইটার জেট’ মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র দেশ হিসেবে ইসরাইল ব্যবহার করে (সংস্করণ: এফ-৩৫আই আদির)।

  • রণক্ষেত্রে ব্যবহার: ২০১৮ সালে লেবাননে প্রথম ব্যবহারের পর ইরান, সিরিয়া, ইয়েমেন এবং গাজায় এটি ব্যবহৃত হয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের সময় এই বিমানে অতিরিক্ত জ্বালানি ট্যাংক যুক্ত করার মার্কিন অনুমতির ফলে বিমানগুলো সরাসরি ইরানে হামলা চালাতে সক্ষম হয়।

  • অন্যান্য প্রযুক্তি: মার্কিন অর্থায়নে তৈরি আয়রন ডোম, অ্যারো, এবং ডেভিডস স্লিংয়ের মতো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইসরাইলকে সুরক্ষিত রেখেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান বিরোধিতা

  • ডেমোক্র্যাট শিবির: ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট সদস্য রাশিদা তালাইব গাজায় গণহত্যার বিরুদ্ধে মার্কিন অর্থায়ন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

  • রিপাবলিকান ও বিশ্লেষক: কট্টর ডানপন্থী রিপাবলিকান মার্জোরি টেলর গ্রিন আয়রন ডোমের বাজেট কমানোর প্রস্তাব করেছিলেন এবং রক্ষণশীল বিশ্লেষক টাকার কার্লসন ইসরাইলকে সব সহায়তা বন্ধের পক্ষে মত দিয়েছেন।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ও আগামীর হিসাব

  • সংঘাতের সূত্রপাত: সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের কাছে শীর্ষ প্রযুক্তির এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন, যা সরাসরি ইসরাইলের কিউএমই নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

  • বর্তমান স্থিতি: চুক্তিটি এখনো মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া বাকি। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আশ্বস্ত করেছেন যে ইসরাইলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় থাকবে।

  • ভবিষ্যৎ: বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প সৌদির সাথে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বাড়ালেও মূল নীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে না। ইসরাইল ইতিমধ্যেই আরও ২৫টি এফ-৩৫ এবং এফ-১৫আইএ যুদ্ধবিমানের অর্ডার দিয়ে রেখেছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬


ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে কিউএমই আইনের ভবিষ্যৎ ও ইসরাইলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের দশক পুরোনো ‘কোয়ালিটেটিভ মিলিটারি এজ’ (কিউএমই) নীতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্তের কারণে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

কিউএমই আইনের পটভূমি ও গুরুত্ব

  • উদ্দেশ্য: ১ কোটির কম জনসংখ্যার দেশ ইসরাইলকে প্রযুক্তি ও শক্তিতে মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী বা জোটের চেয়ে গুণগতভাবে এগিয়ে রাখা।

  • আইনি রূপ: ২০০৮ সালে 'নেভাল ভেসেল ট্রান্সফার অ্যাক্ট'-এর মাধ্যমে এটি মার্কিন আইনে পরিণত হয়। ২০১৩ সালে আইনটি আরও জোরদার করে প্রতি দুই বছর পর পর কংগ্রেসে মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়।

  • আর্থিক সহায়তা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ইসরাইলকে ২৪০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সামরিক সাহায্য দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওবামা প্রশাসনের চুক্তি অনুযায়ী ২০২৯ সাল পর্যন্ত বার্ষিক ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের গ্যারান্টি থাকলেও গাজায় আগ্রাসনের পর ২০২৪ সালে তা রেকর্ড ১২.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।

এফ-৩৫ এবং বর্তমান সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব

  • একচেটিয়া সুবিধা: বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত ‘এফ-৩৫ স্টিলথ ফাইটার জেট’ মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র দেশ হিসেবে ইসরাইল ব্যবহার করে (সংস্করণ: এফ-৩৫আই আদির)।

  • রণক্ষেত্রে ব্যবহার: ২০১৮ সালে লেবাননে প্রথম ব্যবহারের পর ইরান, সিরিয়া, ইয়েমেন এবং গাজায় এটি ব্যবহৃত হয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের সময় এই বিমানে অতিরিক্ত জ্বালানি ট্যাংক যুক্ত করার মার্কিন অনুমতির ফলে বিমানগুলো সরাসরি ইরানে হামলা চালাতে সক্ষম হয়।

  • অন্যান্য প্রযুক্তি: মার্কিন অর্থায়নে তৈরি আয়রন ডোম, অ্যারো, এবং ডেভিডস স্লিংয়ের মতো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইসরাইলকে সুরক্ষিত রেখেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান বিরোধিতা

  • ডেমোক্র্যাট শিবির: ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট সদস্য রাশিদা তালাইব গাজায় গণহত্যার বিরুদ্ধে মার্কিন অর্থায়ন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

  • রিপাবলিকান ও বিশ্লেষক: কট্টর ডানপন্থী রিপাবলিকান মার্জোরি টেলর গ্রিন আয়রন ডোমের বাজেট কমানোর প্রস্তাব করেছিলেন এবং রক্ষণশীল বিশ্লেষক টাকার কার্লসন ইসরাইলকে সব সহায়তা বন্ধের পক্ষে মত দিয়েছেন।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ও আগামীর হিসাব

  • সংঘাতের সূত্রপাত: সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের কাছে শীর্ষ প্রযুক্তির এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন, যা সরাসরি ইসরাইলের কিউএমই নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

  • বর্তমান স্থিতি: চুক্তিটি এখনো মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া বাকি। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আশ্বস্ত করেছেন যে ইসরাইলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় থাকবে।

  • ভবিষ্যৎ: বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প সৌদির সাথে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বাড়ালেও মূল নীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে না। ইসরাইল ইতিমধ্যেই আরও ২৫টি এফ-৩৫ এবং এফ-১৫আইএ যুদ্ধবিমানের অর্ডার দিয়ে রেখেছে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ