বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের একাংশের মধ্যে সম্মানিত ব্যক্তিদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনকে সাহসিকতা বা স্মার্টনেস হিসেবে ভুল ব্যাখ্যা করার এক অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবণতা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এমএ মুহিত। শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ইনসাইট ফর চেঞ্জ ফাউন্ডেশনের (আইসিএফ) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদের আমলে গণতন্ত্রহীনতার চর্চার কারণে আমাদের সমাজের ঐতিহ্যগত সামাজিক মূল্যবোধের কাঠামো সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে, যার ফলে দুর্নীতি সামাজিকভাবে এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে এবং সামাজিক সমাবেশগুলোতেও দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কোনটি সঠিক আর কোনটি বেঠিক— শুধুমাত্র এই সাধারণ জ্ঞানটুকু সমাজ বা নাগরিক জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর জন্য মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তাধারা এবং জীবনযাত্রায় সুদূরপ্রসারী সংস্কার প্রয়োজন। রাস্তাঘাটে যেখানে-সেখানে থুতু বা পানের পিক ফেলার মতো নেতিবাচক নাগরিক অভ্যাসগুলো দূর করতে বিচার বা জাজমেন্টের চেয়ে একটি সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা বেশি প্রয়োজন।
প্রতিমন্ত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, দেশে স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি বলতে সাধারণত বড় বড় হাসপাতাল নির্মাণ বা আইসিইউ বেড বাড়ানোকেই বোঝানো হয়ে থাকে, যা এক ধরনের অসুস্থ মানসিকতা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মূল অভীষ্ট লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের ‘সুস্বাস্থ্য’ নিশ্চিত করা, অসুখের চিকিৎসা নয় এবং এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বর্তমান বাজেটে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্য উন্নয়ন ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছে। শত শত কোটি টাকা ব্যয় করে উপজেলা পর্যায়ে মেডিকেল কলেজ বা আইসিইউ বেড দিলেই প্রকৃত স্বাস্থ্য অর্জিত হয় না, বরং এর জন্য প্রয়োজন আইনি সুশাসনের মাধ্যমে খাদ্যকে সম্পূর্ণরূপে বিষ ও ভেজালমুক্ত করা এবং জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করা। নাগরিকরা যদি প্রতিদিন অন্তত চল্লিশ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করেন এবং খাদ্যাভ্যাসে সচেতন হন, তবেই দেশের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট ও কিডনি রোগের মতো বড় ঘাতক ব্যাধিগুলো সহজে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মসূচিকে ফলপ্রসূ করতে তরুণ সমাজ এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিহার্য উল্লেখ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবরুদ্ধ থাকায় রাজনৈতিক আন্দোলনই ছিল একমাত্র পথ। তবে বর্তমান স্থিতিশীলতার যুগে শুধু বিরোধিতার রাজনীতি পরিহার করে যুবসমাজের অফুরন্ত শক্তিকে একটি নতুন ইতিবাচক সামাজিক নীতিতে রূপান্তর করতে হবে এবং এই সামাজিক আন্দোলনে রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সব তরুণকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, জাতীয় গ্ৰন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম এবং নবগঠিত সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নওফেল জমির।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬
বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের একাংশের মধ্যে সম্মানিত ব্যক্তিদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনকে সাহসিকতা বা স্মার্টনেস হিসেবে ভুল ব্যাখ্যা করার এক অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবণতা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এমএ মুহিত। শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ইনসাইট ফর চেঞ্জ ফাউন্ডেশনের (আইসিএফ) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদের আমলে গণতন্ত্রহীনতার চর্চার কারণে আমাদের সমাজের ঐতিহ্যগত সামাজিক মূল্যবোধের কাঠামো সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে, যার ফলে দুর্নীতি সামাজিকভাবে এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে এবং সামাজিক সমাবেশগুলোতেও দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কোনটি সঠিক আর কোনটি বেঠিক— শুধুমাত্র এই সাধারণ জ্ঞানটুকু সমাজ বা নাগরিক জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর জন্য মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তাধারা এবং জীবনযাত্রায় সুদূরপ্রসারী সংস্কার প্রয়োজন। রাস্তাঘাটে যেখানে-সেখানে থুতু বা পানের পিক ফেলার মতো নেতিবাচক নাগরিক অভ্যাসগুলো দূর করতে বিচার বা জাজমেন্টের চেয়ে একটি সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা বেশি প্রয়োজন।
প্রতিমন্ত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, দেশে স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি বলতে সাধারণত বড় বড় হাসপাতাল নির্মাণ বা আইসিইউ বেড বাড়ানোকেই বোঝানো হয়ে থাকে, যা এক ধরনের অসুস্থ মানসিকতা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মূল অভীষ্ট লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের ‘সুস্বাস্থ্য’ নিশ্চিত করা, অসুখের চিকিৎসা নয় এবং এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বর্তমান বাজেটে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্য উন্নয়ন ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছে। শত শত কোটি টাকা ব্যয় করে উপজেলা পর্যায়ে মেডিকেল কলেজ বা আইসিইউ বেড দিলেই প্রকৃত স্বাস্থ্য অর্জিত হয় না, বরং এর জন্য প্রয়োজন আইনি সুশাসনের মাধ্যমে খাদ্যকে সম্পূর্ণরূপে বিষ ও ভেজালমুক্ত করা এবং জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করা। নাগরিকরা যদি প্রতিদিন অন্তত চল্লিশ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করেন এবং খাদ্যাভ্যাসে সচেতন হন, তবেই দেশের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট ও কিডনি রোগের মতো বড় ঘাতক ব্যাধিগুলো সহজে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মসূচিকে ফলপ্রসূ করতে তরুণ সমাজ এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিহার্য উল্লেখ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবরুদ্ধ থাকায় রাজনৈতিক আন্দোলনই ছিল একমাত্র পথ। তবে বর্তমান স্থিতিশীলতার যুগে শুধু বিরোধিতার রাজনীতি পরিহার করে যুবসমাজের অফুরন্ত শক্তিকে একটি নতুন ইতিবাচক সামাজিক নীতিতে রূপান্তর করতে হবে এবং এই সামাজিক আন্দোলনে রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সব তরুণকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, জাতীয় গ্ৰন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম এবং নবগঠিত সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নওফেল জমির।

আপনার মতামত লিখুন